নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় নতুন করে আবহাওয়ার দিকে নজর রাখছেন দেশের একাধিক রাজ্যের মানুষ। আজ মাঝরাতেই অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। এই ঘূর্ণিঝড়কে কেন্দ্র করে উপকূলবর্তী এলাকায় সতর্কতা ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কি পশ্চিমবঙ্গেও পড়তে চলেছে? রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, নাকি আজও রোদের দাপট বজায় থাকবে?
প্রাথমিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র সরাসরি প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোলেও তার প্রভাব বাংলার আবহাওয়ায় বড় কোনও পরিবর্তন ঘটাবে না বলেই অনুমান করা হচ্ছে। ফলে আপাতত রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য ভারী বৃষ্টির কোনও বড় আশঙ্কার কথা উঠে আসছে না।
আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরের পশ্চিম-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে অবস্থান করছে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু। ক্রমশ উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে এটি আরও শক্তিশালী হয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ নভেম্বর মাঝরাত থেকে ৩ নভেম্বর ভোরের মধ্যে নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে এই ঘূর্ণিঝড়। উপকূলে আছড়ে পড়ার সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে খুব বেশি পড়ার সম্ভাবনা না থাকলেও একেবারে বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়াবিদরা। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে রাজ্যে এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে আপাতত বড় কোনও আবহাওয়া সতর্কতা জারি করা হয়নি।
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও আগামী কয়েকদিন আকাশের পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টির কোনও বড় পূর্বাভাস আপাতত নেই। অন্যান্য জেলায় আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও আকাশ মেঘলা থাকতে পারে। তবে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা আপাতত কম। বাকি জেলাগুলিতেও আবহাওয়ার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে হাওয়া অফিস।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কিছু জায়গায় হালকা বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় শুষ্ক আবহাওয়া ফিরে আসতে পারে। অর্থাৎ ঘূর্ণিঝড় মুরাসুকে ঘিরে বাংলায় বড়সড় দুর্যোগের আশঙ্কা না থাকলেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।
সব মিলিয়ে, ঘূর্ণিঝড় মুরাসুর মূল প্রভাব পড়তে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলবর্তী এলাকায়। পশ্চিমবঙ্গে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে সাধারণ মানুষকে আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।