Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
গণতন্ত্র রক্ষার ডাক, ২ নভেম্বর কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মহামিছিলের আহ্বান প্রদীপ সরদারের   •   ক্যানিং পূর্বে বিজেপির অন্দরেই কোন্দল! অসীম সাপুই ও জেলা সভাপতি উৎপল নস্করের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ, সাংবাদিক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য   •   বালিগঞ্জ থানার বিজয়া সম্মিলনীতে উপস্থিত পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল, পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে উৎসবের আবহে সৌহার্দ্য বিনিময়   •   ক্যানিং পূর্বে বিজেপির অন্দরে পদ ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ! জেলা সভাপতি উৎপল নস্করকে নিশানা করে সরব রমেশ মণ্ডল, কালীপদ নস্করের পাশে থাকার বার্তা   •   শীতের আগেই ধুলোর চাদরে ঢাকা হটুগঞ্জ-রায়দীঘি রাস্তা! বেহাল দশায় অতিষ্ঠ নিত্যযাত্রীরা, বাড়ছে শ্বাসকষ্ট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা   •   দুর্গন্ধ দূষণে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী! শূকর খামার বন্ধের দাবিতে পথে এলাকার মহিলারা, আন্দোলন ঘিরে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি

শীতের আগেই ধুলোর চাদরে ঢাকা হটুগঞ্জ-রায়দীঘি রাস্তা! বেহাল দশায় অতিষ্ঠ নিত্যযাত্রীরা, বাড়ছে শ্বাসকষ্ট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা

01 Nov 2026
07:18 PM


সম্পাদকের কলমে: শীতের মরশুম এখনও সেভাবে শুরু হয়নি। অথচ তার আগেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার হটুগঞ্জ থেকে রায়দীঘি যাওয়ার প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তা ঢেকে গিয়েছে ধুলোর চাদরে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, গোটা রাস্তা যেন ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন। কিন্তু বাস্তবে এই কুয়াশার কোনও অস্তিত্ব নেই। রাস্তার বেহাল দশা এবং সংস্কারের কাজে ব্যবহৃত ইটের গুঁড়ো ও ধুলোর কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দিনের আলো হোক কিংবা রাতের অন্ধকার, যানবাহন চলাচলের সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা জুড়ে উড়ছে ধুলোর ঝড়। আর তাতেই চরম দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিদিনের যাত্রীরা।

হটুগঞ্জ থেকে রায়দীঘি পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করে অসংখ্য ছোট-বড় যানবাহন। ভারী ট্রাক, বাস, পণ্যবাহী গাড়ি থেকে শুরু করে স্থানীয় মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা এই রাস্তা। বর্ষার মরশুম এলেই রাস্তার বেহাল দশা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও ভাঙাচোরা রাস্তা। বৃষ্টির জল জমে তৈরি হয় বিপজ্জনক পরিস্থিতি। যার জেরে বারবার দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। এই নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগও জানিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে রাজ্য সরকারের তরফে রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু করা হলেও সেই কাজই এখন নতুন করে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকা রাস্তার পরিবর্তে অস্থায়ীভাবে ইটের খোয়া ও গুঁড়ো দিয়ে মেরামতির কাজ হওয়ায় যানবাহন চলাচলের সঙ্গে সঙ্গে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে ধুলো। বিশেষ করে রাস্তার আশপাশে থাকা বসতবাড়ি, দোকানপাট এবং বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। প্রতিটি গাড়ি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধুলোর আস্তরণে ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন কার্যত ব্যাহত হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় অভিযোগ, এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী ভারী ট্রাক ও বড় বড় গাড়িগুলি নির্ধারিত গতির তোয়াক্কা না করেই দ্রুতগতিতে যাতায়াত করছে। ফলে ইটের খোয়া ও গুঁড়ো থেকে আরও বেশি পরিমাণে ধুলো উড়ছে। ধুলোর কারণে সামনের রাস্তা ঠিকমতো দেখতে পাচ্ছেন না চালকরা। বিশেষ করে রাতের বেলায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়ছে। পাশাপাশি ধুলোর দাপটে রাস্তার পাশে থাকা দোকানদার, পথচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নাজেহাল অবস্থা।

পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিনিয়ত ধুলোর মধ্যে থাকতে থাকতে অনেকেই শ্বাসকষ্ট-সহ বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ধুলোর সংস্পর্শে থাকার ফলে চোখ জ্বালা, কাশি এবং শ্বাস নিতে অসুবিধার মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

অন্যদিকে, রাস্তার ধুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত জল ছেটানোর কোনও ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে। পঞ্চায়েত কিংবা ব্লক প্রশাসনের তরফে পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। সাময়িকভাবে রাস্তা মেরামতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও ধুলো নিয়ন্ত্রণে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমার বদলে বেড়েই চলেছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, রাস্তা সংস্কারের নামে সাধারণ মানুষকে আর কতদিন এই দুর্ভোগ সহ্য করতে হবে? বর্ষায় জল-কাদা ও বড় বড় গর্তের আতঙ্ক, আর শীতের প্রাক্কালে ধুলোর দাপট—বছরের পর বছর একই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে হটুগঞ্জ থেকে রায়দীঘির বাসিন্দাদের। রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আশার আলো দেখেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই কাজের গুণমান এবং ধুলো নিয়ন্ত্রণের অভাব নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একটাই দাবি, অস্থায়ী মেরামতির পরিবর্তে দ্রুত স্থায়ী ও উন্নতমানের রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি যতদিন মেরামতির কাজ সম্পূর্ণ না হচ্ছে, ততদিন নিয়মিত জল ছেটানো, ভারী যানবাহনের গতির উপর নিয়ন্ত্রণ এবং ধুলো কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে তাঁদের আবেদন, মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দ্রুত পদক্ষেপ করা হোক।

উন্নয়নের কাজ মানুষের স্বস্তির জন্য, নতুন করে দুর্ভোগ বাড়ানোর জন্য নয়। তাই হটুগঞ্জ-রায়দীঘি রাস্তার এই সমস্যার দ্রুত সমাধান এখন সময়ের দাবি। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, প্রশাসনের নজর কি এবার পড়বে এই ধুলোময় রাস্তার দিকে, নাকি আরও কিছুদিন ধুলোর চাদরেই ঢাকা থাকবে তাঁদের নিত্যদিনের জীবন?