নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দীর্ঘদিনের দুর্গন্ধ দূষণের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবার পথে নামলেন এলাকার মহিলারা। শূকর খামার থেকে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঝড়খালি এলাকার বাসিন্দারা। বারবার প্রশাসন ও পুলিশকে জানিয়েও সমস্যার কোনও সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের পথ বেছে নিলেন তাঁরা। শূকর খামার বন্ধের দাবিতে একজোট হয়ে খামার ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান গ্রামের মহিলারা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। আর সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে পৌঁছন ঝড়খালি থানার ওসি স্বরূপ কুমার সেন-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। এরপরই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা এবং ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মধ্যে একটি শূকর খামার চালানো হচ্ছে। ওই খামার থেকে নির্গত দুর্গন্ধে কার্যত অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন আশপাশের মানুষজন। বাড়িতে থাকা, রান্নাবান্না করা থেকে শুরু করে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি তাঁদের। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং মহিলাদের প্রতিদিন এই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। দুর্গন্ধ দূষণের কারণে এলাকার পরিবেশও ক্রমশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
বাসিন্দাদের দাবি, এই সমস্যার কথা একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে ঝড়খালি থানার ওসিকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু এত অভিযোগ জানানোর পরেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ। প্রশাসনের তরফে সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ জমতে থাকে এলাকার মানুষের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই এদিন কয়েকজন মহিলা ও গ্রামের বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ফার্ম হাউস ঘেরাও করেন। শূকর খামার বন্ধ করার দাবিতে শুরু হয় বিক্ষোভ। পাশাপাশি, যে জমির উপর ওই খামার তৈরি হয়েছে, সেই জমি প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ারও দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন ঝড়খালি থানার ওসি স্বরূপ কুমার সেন-সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। অভিযোগ, আন্দোলনরত মহিলাদের সঙ্গে ওসির বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়দের দাবি।
এদিকে, গোটা ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, মহিলাদের আন্দোলন সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত মহিলা পুলিশকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। ফলে মহিলা বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, ঝড়খালি থানার ওসির বিরুদ্ধে যথাযথ পোশাক বা ইউনিফর্ম ছাড়া ডিউটি করার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও জানা যায়নি।
বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে শূকর খামার থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধ দূষণের সমস্যা বন্ধ করতে হবে। শুধু আশ্বাস নয়, প্রশাসনকে বাস্তবে পদক্ষেপ করতে হবে। এলাকার পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
এখন দেখার, গ্রামবাসীদের দীর্ঘদিনের এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে। শূকর খামারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দুর্গন্ধ দূষণের সমস্যা কি দ্রুত মিটবে, নাকি নিজেদের দাবি আদায়ে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবেন এলাকার মহিলারা? সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ঝড়খালির বাসিন্দারা।