নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা, সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসনের দাবিকে সামনে রেখে ২ নভেম্বর, সোমবার কলকাতায় আয়োজিত হতে চলেছে ‘অরাজকতা হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ মহামিছিল। দুপুর ১টায় কলেজ স্কোয়ার থেকে এই মিছিল শুরু হয়ে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত যাওয়ার কথা। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানুষের অধিকার এবং সংগঠনের ঐক্যকে সামনে রেখেই এই মহামিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য বাসন্তী বিধানসভার ভারতীয় জনতা পার্টির সমস্ত কার্যকর্তা, সমর্থক এবং গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের কাছে আন্তরিক আবেদন জানিয়েছেন বাসন্তী বিধানসভার বিজেপি কো-অর্ডিনেটর শ্রী প্রদীপ সরদার। তাঁর বক্তব্য, এই মহামিছিল কোনও ব্যক্তিবিশেষের পরিচিতি, পদমর্যাদা কিংবা ব্যক্তিগত ক্ষমতা প্রদর্শনের মঞ্চ নয়। বরং এটি মানুষের অধিকার, গণতান্ত্রিক আদর্শ এবং ঐক্যবদ্ধ জনশক্তির সম্মিলিত প্রকাশ।
প্রদীপ সরদারের আহ্বান, গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে দলমত নির্বিশেষে মানুষের অধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পক্ষে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর মতে, সংগঠনের প্রকৃত শক্তি কোনও একজন নেতা বা ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সংগঠনের শক্তি তৈরি হয় প্রতিটি নিষ্ঠাবান কার্যকর্তা, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়।
মহামিছিলের বার্তা দিতে গিয়ে তিনি তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘পদ নয়, কাজই হোক পরিচয়। ব্যক্তি নয়, সংগঠনই হোক শক্তি। বিভেদ নয়, ঐক্যই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’ এই বার্তার মধ্য দিয়েই দলের অভ্যন্তরে ঐক্য ও সাংগঠনিক সংহতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন তিনি।
বাসন্তী বিধানসভার বিজেপি কার্যকর্তাদের উদ্দেশে প্রদীপ সরদারের আবেদন, ব্যক্তিগত মতপার্থক্য এবং সমস্ত বিভেদ ভুলে বৃহত্তর সাংগঠনিক স্বার্থে একজোট হতে হবে। গণতন্ত্রের পক্ষে, সাধারণ মানুষের অধিকারের পক্ষে এবং বাসন্তীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি এই মহামিছিলকে সংগঠনের ঐক্য ও জনসম্পৃক্ততার বার্তা হিসেবেও তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিশেষ করে বাসন্তী বিধানসভার প্রতিটি স্তরের কার্যকর্তা ও সমর্থকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রদীপ সরদারের বক্তব্য অনুযায়ী, গণতন্ত্র কেবল একটি রাজনৈতিক শব্দ নয়, এটি মানুষের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের সঙ্গে জড়িত। তাই গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা এবং মানুষের দাবি-দাওয়াকে গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে এই ধরনের কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, ২ নভেম্বরের ‘অরাজকতা হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ মহামিছিলকে সামনে রেখে বাসন্তী বিধানসভায় বিজেপির তরফে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে দলীয় কার্যকর্তা, সমর্থক এবং গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের উপস্থিতি কামনা করেছেন শ্রী প্রদীপ সরদার।