নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: বাংলায় দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বিভিন্ন সমস্যাকে জিইয়ে রেখে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার যে সংস্কৃতি চলে আসছে, তার অবসান ঘটানোর বার্তা দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, সমস্যাকে ধামাচাপা দিয়ে বা সাময়িক ব্যবস্থা করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার পরিবর্তে এবার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
দিলীপ ঘোষ বলেন, বর্ষার সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে নিচু এলাকাগুলিতে জল জমা বা প্লাবন হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু অপরিকল্পিত পরিকাঠামোর কারণে সেই জল বছরের পর বছর জমে থাকা কোনওভাবেই স্বাভাবিক নয়। একইভাবে গঙ্গার ভাঙন মোকাবিলায় প্রতি বছর বালি বা পাথরের বস্তা ফেলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করার পদ্ধতিও আর চলতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফরাক্কা, নিমতিতা, ধুলিয়ান-সহ গঙ্গার ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলির পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, বিএসএফ-এর স্পিডবোটে করে এলাকাগুলি ঘুরে তিনি দেখেছেন, কীভাবে বছরের পর বছর নদীভাঙন ঠেকাতে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এই ধরনের অস্থায়ী পদক্ষেপের পরিবর্তে নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
শুধু গঙ্গার ভাঙন নয়, হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার জলনিকাশি সমস্যা এবং দীঘার জলবন্দি পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকারগুলির আমলে এই সমস্যাগুলির কোনও স্থায়ী সমাধান করা হয়নি। ফলে প্রতি বছর বর্ষা এলেই সাধারণ মানুষকে একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
দিলীপ ঘোষ জানান, কেন্দ্র সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় এবার একটি মেগা মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে নদীভাঙন রোধ এবং জলনিকাশি ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের দিকে এগোনোর কথা জানান তিনি।
বিরোধীদের রাজনৈতিক সমালোচনারও জবাব দেন বিজেপি নেতা। তাঁর বক্তব্য, যারা এতদিন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করেনি, তারাই এখন রাজনৈতিকভাবে সরব হচ্ছে। মানুষের সমস্যাকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে ব্যবহার না করে বাস্তবে কাজ করে দেখানোই প্রয়োজন বলে দাবি করেন তিনি।
দিলীপ ঘোষের স্পষ্ট বার্তা, শুধু প্রতিশ্রুতি বা রাজনৈতিক বক্তব্য নয়—কাজের মাধ্যমেই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। কথা নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে মানুষের দুর্ভোগ কমানোই মূল লক্ষ্য, বলে দাবি করেন তিনি।