নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি ও জলস্তর বৃদ্ধির কারণে তৈরি হয়েছে জলমগ্ন পরিস্থিতি। শুক্রবার কলকাতার জলসম্পদ ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মানিকচকে গত তিন বছর ধরে প্রায় ১৯টি গ্রাম জলজনিত সমস্যায় প্রভাবিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষের কোনওরকম কষ্ট বা অসুবিধা না হয়। পরিস্থিতির উপর নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় বিধায়ক গৌড়চন্দ্র মণ্ডল-কে। পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে নৌকার মাধ্যমে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে এবং একাধিক ত্রাণকেন্দ্রে মানুষকে রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, মানিকচক এলাকায় প্রায় ৮-৯টি কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
অন্যদিকে, হাওড়ার আমতার কিছু অংশও জলমগ্ন হয়েছে। সেখানে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন।
হুগলি গ্রামীণ এলাকায় প্রায় সাতটি ব্লক এবং একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। খানাকুল ও জাহাঙ্গীরপাড়া এলাকাতেও স্থানীয় প্রশাসন, এনডিআরএফ এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা তৎপর রয়েছেন।
বাঁকুড়ার সোনামুখী এলাকায় নদীর জল বিপজ্জনক স্তরের কাছাকাছি রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবে পরিস্থিতির উপর প্রশাসনের কড়া নজর রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির কাছ থেকে রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছে। বৃষ্টি না হলে আজ থেকেই জলস্তর কমতে শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আতঙ্কের কোনও কারণ নেই।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতিমধ্যেই রিলিফ ও ত্রিপল পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নৌকা, স্পিডবোট, ডুবুরি, এসডিআরএফ, এনডিআরএফ এবং পুলিশকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মানুষের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ যাতে ক্ষতির মুখে না পড়ে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, তা করা হবে।