নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : স্কুল চলাকালীন সময়ে কোনওভাবেই জনগণনার কাজ করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষকদের জন্য এমনই স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের শিক্ষা দফতর। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, জনগণনার সমস্ত কাজ স্কুলের পাঠদানের সময়ের বাইরে, অর্থাৎ স্কুল শুরুর আগে, স্কুল ছুটির পরে অথবা সরকারি ছুটির দিনেই সম্পন্ন করতে হবে। এর ফলে শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনায় যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, সেই বিষয়টিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, শিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিয়োজিত করা হলেও নিয়মিত পাঠদান কোনওভাবেই ব্যাহত করা যাবে না। স্কুলের শিক্ষাদানকে অগ্রাধিকার দিয়ে জনগণনার দায়িত্ব পালনের জন্য বিকল্প সময় নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ছুটির দিনেও এই কাজ সম্পন্ন করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি জনগণনার কাজে বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল, শিক্ষকরা মাঠপর্যায়ে ব্যস্ত থাকলে বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সেই প্রেক্ষিতেই শিক্ষা দফতরের এই নির্দেশিকাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
শিক্ষা দফতর জানিয়েছে, বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম যাতে স্বাভাবিক থাকে এবং ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনায় কোনও প্রভাব না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কর্মসূচিও নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের জনগণনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সরকারি কর্মীর পাশাপাশি বহু শিক্ষককেও জনগণনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।