Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
হাজার টাকায় জীবন বাজি! বাঘ তাড়ান, মানুষ বাঁচান—তবু নেই স্থায়ী চাকরি, নেই সামাজিক সুরক্ষা   •   রক্ত ও প্লাজমা বিক্রিতে কড়াকড়ি, ব্লাড ব্যাঙ্কের অনিয়ম রুখতে স্বাস্থ্য ভবনের নতুন গাইডলাইন   •   ২৪ বছরে সর্বনিম্ন পদক, তবু গ্লাসগোয় ভারতের ঐতিহাসিক সাফল্য   •   তারাপীঠে লজ মালিকদের সঙ্গে বিজেপির বৈঠক, দুর্নীতি ও কাটমানির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা   •   নরেন্দ্রপুরে নাবালিকাকে শ্লীলতাহানি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজের দাবি; অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ   •   বীরভূমের নলহাটিতে দুষ্কৃতীদের গুলিবর্ষণ, জখম ৩; আশঙ্কাজনক ২ জনকে দুর্গাপুরে স্থানান্তর

হাজার টাকায় জীবন বাজি! বাঘ তাড়ান, মানুষ বাঁচান—তবু নেই স্থায়ী চাকরি, নেই সামাজিক সুরক্ষা

03 Aug 2026
11:22 AM

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - সুন্দরবনে লোকালয়ে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ঢুকে পড়লেই বনদপ্তরের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বাহিনী হিসেবে সামনে আসেন কুইক রেসপন্স টিম (QRT)-এর সদস্যরা। কালো পোশাক পরা এই দলই বাঘকে খুঁজে বের করা, নিরাপত্তা বলয় তৈরি, জাল ও ফেন্সিং করা, খাঁচা পাতা এবং প্রয়োজনে বাঘটিকে নিরাপদে জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। অথচ এই কর্মীরা বনদপ্তরের স্থায়ী কর্মচারী নন। তাঁদের অভিযোগ, জীবন বাজি রেখে কাজ করেও তাঁরা পান না স্থায়ী চাকরি, স্বাস্থ্যবিমা বা সামাজিক নিরাপত্তা।

বর্তমানে কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা দিনমজুর হিসেবে প্রতিদিন এক হাজার টাকা পারিশ্রমিক পান। তাঁদের দাবি, আগে এই পারিশ্রমিক ছিল ৫০০ টাকা, পরে তা বাড়িয়ে এক হাজার টাকা করা হলেও কাজের ঝুঁকির তুলনায় এই অর্থ অত্যন্ত অপ্রতুল।

শুধু সুন্দরবনেই নয়, প্রয়োজনে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও উদ্ধার অভিযানে যেতে হয় এই দলকে। গত বছর ওড়িশা থেকে ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি এলাকায় চলে আসা একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার উদ্ধারের কাজেও অংশ নিয়েছিলেন সুন্দরবনের কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যরা। একই পারিশ্রমিকে সেখানেও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালানোর অভিযোগ তাঁদের।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়, অভিযানের সময় কোনও সদস্য গুরুতর আহত হলে বা স্থায়ীভাবে কর্মক্ষমতা হারালে পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ কিংবা স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা মেলে না বলে অভিযোগ। সেই অভিযোগের অন্যতম উদাহরণ কুইক রেসপন্স টিমের সদস্য গণেশ শ্যামল।

পরিবারের দাবি, এক গ্রামবাসীর প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে অভিযানের সময় গুরুতর আহত হন গণেশ শ্যামল। সেই দুর্ঘটনায় তাঁর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যায় এবং আগের মতো কাজ করার সক্ষমতাও হারান। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন বনদপ্তরের হয়ে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলেও দুর্ঘটনার পর প্রত্যাশিত সরকারি সহায়তা তিনি পাননি।

বর্তমানে পরিবারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তাঁর স্ত্রী। নদীতে মাছের পোনা সংগ্রহ করে কোনওরকমে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সহযোগিতা করলেও সরকারি স্তরে পর্যাপ্ত সাহায্য মেলেনি বলে অভিযোগ পরিবারের।

কুইক রেসপন্স টিমের সদস্যদের দাবি, অতীতেও তাঁরা স্থায়ী নিয়োগ, মাসিক বেতন, স্বাস্থ্যবিমা এবং সামাজিক নিরাপত্তার দাবিতে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর নতুন প্রশাসনের কাছেও একই দাবি পুনরায় জানানো হয়েছে।

তাঁদের বক্তব্য, "মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য আমরা প্রতিদিন বাঘের সামনে দাঁড়াই। কিন্তু আমাদের নিজেদের জীবন ও পরিবারের ভবিষ্যৎ আজও অনিশ্চিত। সরকার আমাদের কাজের স্বীকৃতি দিয়ে স্থায়ী নিয়োগ, স্বাস্থ্যবিমা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক।"

তবে কুইক রেসপন্স টিমের এই অভিযোগের বিষয়ে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সদস্যদের দাবিগুলি নিয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

news home ads