নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: কালীপুজোর আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। চারদিকে উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেলেও প্রতিমা তৈরির কাজে এখনও ব্যস্ততার শেষ নেই আসানসোলের মৃৎশিল্পীদের। তবে এবছর পুজোর আগে তাঁদের সামনে একাধিক সমস্যা এসে দাঁড়িয়েছে। একদিকে প্রয়োজনীয় মাটির অভাব, অন্যদিকে লাগাতার বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া—সব মিলিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় শিল্পীরা।
মৃৎশিল্পীদের কাছে প্রতিমা তৈরির শেষ পর্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর প্রতিমা শুকানো, রং করা এবং সাজসজ্জার মতো একাধিক ধাপ থাকে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে প্রতিমা ঠিকমতো শুকোতে না পারায় সেই কাজের গতি অনেকটাই কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে বড় আকারের প্রতিমা শুকানো নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন শিল্পীরা। পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতির কথা জানাতে গিয়ে মৃৎশিল্পী ডালিম চন্দ্র বলেন, এবছর তাঁদের প্রথম এবং বড় সমস্যা মাটির অভাব। তার সঙ্গে খারাপ আবহাওয়া কাজের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাঁর কথায়, এত বৃষ্টির মধ্যে বড় বড় প্রতিমা কীভাবে শুকানো সম্ভব, তা নিয়েই তাঁরা চিন্তিত। পর্যাপ্ত রোদ না পেলে প্রতিমা শুকিয়ে পরবর্তী কাজ শুরু করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
শুধু আবহাওয়াই নয়, মাটির সরবরাহে ঘাটতির কারণেও প্রতিমা তৈরির কাজে দেরি হয়েছে বলে জানান তিনি। আগে যেখানে অনেক আগেই প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়ে যেত, সেখানে এবছর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। হাতে সময় কম, অথচ কাজের পরিমাণ অনেক। ফলে দিন-রাত এক করে পরিশ্রম করতে হচ্ছে শিল্পীদের।
ডালিম চন্দ্র জানান, আর চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই প্রতিমা ডেলিভারি দেওয়ার কাজ শুরু হবে। তার পরের কয়েক দিনের মধ্যেই সমস্ত প্রতিমা ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে হবে। সেই সময়সীমা মাথায় রেখেই চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কাজের চাপ এতটাই বেড়েছে যে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। কখনও রাত দুটো থেকে আড়াইটে, আবার কোনও দিন রাত তিনটে পর্যন্ত কাজ চলছে।
মৃৎশিল্পীদের এই পরিশ্রমের পিছনে রয়েছে বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসবকে ঘিরে বহু মানুষের প্রত্যাশা। প্রতিটি প্রতিমার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শিল্পীর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের পরিশ্রম। নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিমা তৈরি করে পুজো উদ্যোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া তাঁদের কাছে শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়, বছরের কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশও।
কিন্তু মাটির জোগান অনিশ্চিত হলে এবং আবহাওয়া অনুকূল না থাকলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে বড় প্রতিমার ক্ষেত্রে শুকানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ও সময় প্রয়োজন। লাগাতার বৃষ্টিতে সেই সুযোগ কমে যাওয়ায় কাজের পরিকল্পনাও বারবার বদলাতে হচ্ছে।
কালীপুজোর আগে এখন তাই একদিকে চলছে রাত জেগে প্রতিমা তৈরির কাজ, অন্যদিকে আকাশের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছেন মৃৎশিল্পীরা। তাঁদের আশা, আবহাওয়া কিছুটা অনুকূল হলে এবং বৃষ্টির দাপট কমলে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
উৎসবের আলোয় যখন সেজে উঠবে শহর, তখন সেই উৎসবকে পূর্ণতা দিতে মৃৎশিল্পীদের পরিশ্রমও থাকবে নেপথ্যে। কিন্তু তাঁদের এই পরিশ্রম যাতে মাটির অভাব ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ব্যর্থ না হয়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা। কালীপুজোর আগে আসানসোলের মৃৎশিল্পীদের একটাই প্রত্যাশা—সময়মতো সমস্ত প্রতিমা তৈরি করে ক্রেতাদের হাতে তুলে দিতে পারবেন তাঁরা।