Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
শারদ অনন্য সম্মান ২০২৬ সিজন-৩ অ্যাওয়ার্ড শো-র জমকালো আয়োজন, সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক উদযাপনে বর্ণময় সন্ধ্যা   •   ডায়মন্ড হারবারের নেতৃত্বে কলকাতার মহামিছিলে শামিল বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা, ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ স্লোগানে মুখর রাজপথ   •   খড়গপুরে আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতা, ২৬৩ জন দাবাড়ুর অংশগ্রহণ! নতুন প্রজন্মকে দাবায় উৎসাহিত করার উদ্যোগের প্রশংসা পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের   •   মাত্র ১ লক্ষ টাকা খরচেই পেঁয়াজ-রসুন সংরক্ষণ কেন্দ্র! বাকি ৫০ শতাংশ দেবে রাজ্য সরকার   •   অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী দক্ষিণ আফ্রিকা, এবার ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে WTC27-এর লড়াই   •   পরিবর্তনের পদ্ম সরকার ক্ষমতায় আসতেই বাজি বাজারে ‘পদ্ম’ বাজির দাপট! চাম্পাহাটিতে ক্রেতাদের কাছে হট ফেভারিট শিবকাশীর ‘লোটাস’

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ হারের পর অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড, দলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত?

02 Nov 2026
09:32 PM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পরাজয়ের পর অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। দলের পারফরম্যান্স, ব্যাটিং ব্যর্থতা, সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং আগামী দিনের দল নির্বাচন নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুললেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড। একদিকে তিনি দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা স্বীকার করেছেন, অন্যদিকে পুরো দলকে ভেঙে ফেলে বড়সড় পরিবর্তনের পক্ষেও এখনই সায় দেননি।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজের শুরুটা ভালোই করেছিল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম টেস্টে ২১৪ রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিল প্যাট কামিন্সের দল। কিন্তু পরবর্তী দুটি টেস্টে ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে যায়। দ্বিতীয় টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস ও ৩১ রানে জয় পায়। এরপর কেপটাউনের তৃতীয় টেস্টে ১৭৬ রানে জয় তুলে নিয়ে সিরিজ নিজেদের দখলে করে প্রোটিয়ারা।

বিশেষ করে শেষ টেস্টের পঞ্চম দিনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং বিপর্যয় ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জয়ের জন্য ২৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ফলে শুধু সিরিজ হারই নয়, দলের ব্যাটিং কাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চাপ সামলানোর ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ব্যর্থতা স্বীকার করলেন কোচ, তবে দলের উপর আস্থা বজায়

সিরিজ হারের পর অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড স্বীকার করেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি তাঁর দল। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলিতে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে।

তবে একাধিক সমালোচনার মধ্যেও বর্তমান দলকে পুরোপুরি বাতিল করে দিতে রাজি নন তিনি। ম্যাকডোনাল্ডের বক্তব্য, অস্ট্রেলিয়ার দলে এখনও অনেক ভালো ক্রিকেটার রয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ভবিষ্যতে ক্রিকেটের কিংবদন্তি হিসেবেও স্বীকৃতি পেতে পারেন। তাই নতুন ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অবদান—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই ভবিষ্যতের দল তৈরি করতে হবে।

মার্নাস লাবুশেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম হতাশাজনক পারফরম্যান্স ছিল মার্নাস লাবুশেনের। গোটা সিরিজে ১৩১ রান করে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল মাত্র ২১.৮৩। গুরুত্বপূর্ণ তিন নম্বর ব্যাটিং পজিশনে তাঁর এই ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, এই সফরে লাবুশেনের উপর আস্থা রেখেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু তিনি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। তাই আগামী দিনের দল নির্বাচনের আগে তাঁর পারফরম্যান্স নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে।

যদিও লাবুশেনের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি কোচ। তাঁর মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে লাবুশেন এখনও ভালো পারফরম্যান্স করার ক্ষমতা রাখেন। ফলে আগামী সিরিজে তাঁর জায়গা থাকবে কি না, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

স্টিভ স্মিথকে নিয়ে আশাবাদী অস্ট্রেলিয়া

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজের নির্ণায়ক তৃতীয় টেস্টে ঘাড়ের সমস্যার কারণে খেলতে পারেননি অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভ স্মিথ। ম্যাচের আগে ফিটনেস পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার মতো অবস্থায় ছিলেন না তিনি।

তবে স্মিথের টেস্ট ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই উদ্বিগ্ন নন অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড। কোচ জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে স্মিথকে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর চোটের প্রকৃতি বুঝে যথাযথ প্রস্তুতির ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে ঘরোয়া শেফিল্ড শিল্ড ক্রিকেটের মাধ্যমেও ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ক্যামেরন গ্রিন ও জশ ইংলিসের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক দিক

সিরিজে একাধিক ব্যর্থতার মধ্যেও কয়েকটি ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কোচ। চোট কাটিয়ে ক্যামেরন গ্রিনের প্রত্যাবর্তন এবং কেপটাউন টেস্টে জশ ইংলিসের শতরানকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন তিনি।

ম্যাকডোনাল্ডের মতে, নতুন ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স দলের ব্যাটিং বিভাগকে ভবিষ্যতের জন্য কিছুটা শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে বিদেশের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে রান করা যে কতটা কঠিন, তা মাথায় রেখেই ইংলিসের ইনিংসকে গুরুত্ব দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

নাথান লায়নের জায়গা নিয়েও আলোচনা

অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ অফস্পিনার নাথান লায়নের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সাইমন হারমারের সঙ্গে তুলনায় লায়নের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে লায়নের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোনও পর্যালোচনা করতে চান না ম্যাকডোনাল্ড। তাঁর বক্তব্য, লায়ন আগামী পার্থ টেস্টের প্রস্তুতি নেবেন এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্সও বিবেচনায় রাখা হবে।

এবার সামনে নিউজিল্যান্ড ও ভারত সফরের চ্যালেঞ্জ

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের হতাশা ভুলে এবার পরবর্তী সিরিজগুলির দিকে তাকাতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চারটি টেস্ট খেলবে তারা। এরপর জানুয়ারি থেকে ভারতের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ রয়েছে।

এই সিরিজগুলি অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছনোর সম্ভাবনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পরাজয়ের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় অস্ট্রেলিয়া পিছিয়ে পড়েছে এবং টানা তৃতীয়বার ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়েছে।

সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার অস্ট্রেলিয়ার সামনে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মার্নাস লাবুশেনের ফর্ম, স্টিভ স্মিথের ফিটনেস, নাথান লায়নের ভবিষ্যৎ এবং দলের ব্যাটিং কাঠামো—সবকিছুই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তবে অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের বক্তব্যে আপাতত পুরো দলকে ভেঙে নতুন করে সাজানোর বদলে অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রতিভার মধ্যে ভারসাম্য রাখার পরিকল্পনাই স্পষ্ট হয়েছে। আগামী নিউজিল্যান্ড ও ভারত সিরিজেই বোঝা যাবে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপর্যয় থেকে কতটা শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে অস্ট্রেলিয়া।