নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দাবা খেলাকে জনপ্রিয় করে তোলা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে মেধা ও মননশীলতার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে খড়গপুরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত হল আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতা। ‘বালাজি মন্দির পল্লি উন্নয়ন সমিতি ক্লাব’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন মোট ২৬৩ জন দাবাড়ু। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও প্রান্তের পাশাপাশি ভিনরাজ্য থেকেও বহু প্রতিযোগী এই প্রতিযোগিতায় যোগ দেন। প্রতিযোগীদের উপস্থিতিতে গোটা অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
এই দাবা প্রতিযোগিতাকে ঘিরে বিশেষ আগ্রহ দেখা যায় দাবাপ্রেমী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। বিভিন্ন বয়সের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতাটি শুধু খেলাধুলার আসরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তোলার একটি মঞ্চ হিসেবেও উঠে আসে।
গত কয়েক বছর ধরে ‘বালাজি মন্দির পল্লি উন্নয়ন সমিতি ক্লাব’ দাবা খেলাকে আরও জনপ্রিয় করে তোলা এবং এলাকার নতুন প্রজন্মকে এই খেলার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নিয়ে চলেছে। সেই উদ্যোগেরই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ এই আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতা।
স্থানীয় স্তরে দাবার মতো একটি মননশীল খেলাকে কেন্দ্র করে এত বড় আয়োজন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ফুটবল বা ক্রিকেটের মতো জনপ্রিয় খেলার পাশাপাশি দাবার মতো বুদ্ধিনির্ভর খেলাতেও নতুন প্রজন্মের আগ্রহ তৈরি করা জরুরি। ক্লাবের এই উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ২৬৩ জন দাবাড়ুর অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিযোগীদের পাশাপাশি ভিনরাজ্যের দাবাড়ুরাও যোগ দেওয়ায় প্রতিযোগিতাটি পেয়েছে বৃহত্তর পরিসর।
দাবা এমন একটি খেলা, যেখানে প্রতিটি চালের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিকল্পনা, হিসাব, ধৈর্য এবং প্রতিপক্ষের কৌশল বুঝে পাল্টা চাল দেওয়ার দক্ষতা। তাই প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্বেই খেলোয়াড়দের মনোযোগ ও চিন্তাশক্তির পরীক্ষা হয়। এই ধরনের প্রতিযোগিতা তরুণ দাবাড়ুদের নিজেদের দক্ষতা যাচাই করার পাশাপাশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে শেখার সুযোগও করে দেয়।
অনুষ্ঠানে দাবা খেলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়, নতুন প্রজন্মের মেধা, মনোযোগ, ধৈর্য এবং চিন্তনশক্তির বিকাশে দাবা অত্যন্ত কার্যকর একটি মাধ্যম। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের এই খেলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা প্রয়োজন।
দাবা খেলতে গেলে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে ভাবতে হয়। প্রতিপক্ষের চাল বুঝে নিজের পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে হয়। কখন আক্রমণ করতে হবে, কখন রক্ষণাত্মক কৌশল নিতে হবে—এই সমস্ত বিষয়ের মধ্য দিয়ে শিশুদের মধ্যে পরিকল্পনা করার ক্ষমতা ও সমস্যা সমাধানের মানসিকতা গড়ে ওঠে।
শুধু জয় বা পরাজয় নয়, দাবা শেখায় ধৈর্য ধরে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে এবং ভুল থেকে শিক্ষা নিতে। ফলে শিশুদের ব্যক্তিত্ব গঠন ও মানসিক বিকাশেও এই খেলার ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সমাজ ও দেশের উন্নয়নের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিকাশের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরা হয়। বক্তব্যে বলা হয়, একজন ব্যক্তির উন্নতির মধ্য দিয়েই পরিবারের উন্নতি সম্ভব। পরিবারের উন্নতি থেকে এগিয়ে যায় সমাজ, আর সমাজের সামগ্রিক অগ্রগতির মধ্য দিয়েই দেশের উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়।
সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই শিশু-কিশোরদের মধ্যে মেধার বিকাশ, সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ এবং ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দাবার মতো খেলা নতুন প্রজন্মকে সেই পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
খড়গপুরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে এই প্রতিযোগিতা স্থানীয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক পরিসরে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে আগামী দিনেও দাবা খেলার প্রসার এবং নতুন প্রতিভা তুলে আনার জন্য এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন দাবাপ্রেমীরা।
সব মিলিয়ে, ২৬৩ জন দাবাড়ুর অংশগ্রহণে বালাজি মন্দির পল্লি উন্নয়ন সমিতি ক্লাবের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিল, স্থানীয় সংগঠনগুলির আন্তরিক প্রচেষ্টায় দাবার মতো একটি বুদ্ধিনির্ভর খেলাকেও বৃহত্তর মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। নতুন প্রজন্মের মেধা, মনোযোগ ও চিন্তাশক্তির বিকাশে দাবা হয়ে উঠুক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম—এই বার্তাই উঠে এল খড়গপুরের এই প্রতিযোগিতা থেকে।