নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর এবার বাংলাদেশের মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ঘরের মাঠে দুই ম্যাচের আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫-২৭ (WTC27) সিরিজে নামার আগে দল গুছিয়ে নিচ্ছে প্রোটিয়ারা। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান লক্ষ্য।
দুই ম্যাচের এই টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে। ম্যাচ চলবে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় টেস্ট ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, দুটি ম্যাচই হাইভেল্ড অঞ্চলে আয়োজিত হবে।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের নেতৃত্বে থাকছেন টেম্বা বাভুমা। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন পেসার অ্যানরিখ নর্টজে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ দুই টেস্টে কুঁচকির চোটের কারণে খেলতে পারেননি তিনি। তাঁর প্রত্যাবর্তনে দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণ আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়াও হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন ব্যাটার টনি ডি জর্জি। দলে জায়গা পেয়েছেন জুবায়ের হামজাও। শীর্ষক্রমের ব্যাটিংয়ে বিকল্প বাড়ানোর পাশাপাশি দলের ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতেই তাঁদের অন্তর্ভুক্তি বলে জানিয়েছে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা।
অন্যদিকে, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়া চলায় এই সিরিজের দলে রাখা হয়নি পেসার লুঙ্গি এনগিডিকে। ফলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন কাগিসো রাবাডা, মার্কো জানসেন, ডেন প্যাটারসন, অ্যানরিখ নর্টজে, করবিন বশ এবং উইয়ান মুল্ডার।
টেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), মার্কেস অ্যাকারম্যান, ম্যাথিউ ব্রিটজকে, করবিন বশ, টনি ডি জর্জি, সাইমন হারমার, জুবায়ের হামজা, মার্কো জানসেন, কেশব মহারাজ, এইডেন মার্করাম, উইয়ান মুল্ডার, অ্যানরিখ নর্টজে, ডেন প্যাটারসন, কাগিসো রাবাডা এবং রায়ান রিকেলটন।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ শুকরি কনরাড জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই দলের লক্ষ্য। তাঁর মতে, হাইভেল্ড অঞ্চলের পিচে সাধারণত পেস ও বাউন্স বেশি পাওয়া যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ান্ডারার্সে স্পিনারদের জন্যও কিছুটা সহায়তা দেখা গিয়েছে। তাই পরিস্থিতি বুঝে সেরা বোলিং কম্বিনেশন তৈরি করতে চায় টিম ম্যানেজমেন্ট।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। হাইভেল্ডের পরিবেশে বাংলাদেশের দ্রুতগতির বোলাররা কার্যকর হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করছেন কনরাড। সেই কারণে প্রস্তুতি পর্বে পিচ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চূড়ান্ত একাদশ বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয়। সেই জয়ের ফলে টেস্ট ক্রিকেটে দলের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়েছে, তেমনই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়েও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে প্রোটিয়ারা।
তবে টেস্ট দলের আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং এবং WTC27-এর পয়েন্ট তালিকা দুটি আলাদা বিষয়। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকা আইসিসি টেস্ট দলের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছে। অন্যদিকে, ২ নভেম্বর প্রকাশিত আইসিসির WTC27 পয়েন্ট তালিকায় তাদের পয়েন্টের শতকরা হার ৭১.৪৩। বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম, পয়েন্টের শতকরা হার ৪৭.৬২।
দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলা বাংলাদেশের কাছে বরাবরই বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানকার পিচে পেস, বাউন্স এবং গতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ব্যাটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ কতটা দৃঢ়তা দেখাতে পারে, তার উপরও সিরিজের গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের পেসাররাও হাইভেল্ডের পরিবেশকে কাজে লাগানোর সুযোগ পেতে পারেন। ফলে দুই দলের বোলিং আক্রমণের লড়াই এই সিরিজের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পৌঁছনোর লক্ষ্য নিয়ে প্রতিটি টেস্টই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকা ঘরের মাঠে খেললেও বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয়ের পর প্রোটিয়ারা সেই ছন্দ ধরে রাখতে চাইবে, আর বাংলাদেশ চাইবে বিদেশের মাটিতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে।
সব মিলিয়ে নভেম্বরের এই দুই টেস্টকে ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়ছে। জোহানেসবার্গে প্রথম ম্যাচের পর সেঞ্চুরিয়নে দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল। দক্ষিণ আফ্রিকা কি ঘরের মাঠে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে পারবে, নাকি বাংলাদেশ অপ্রত্যাশিত ফল করে WTC27-এর পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে—সেদিকেই এখন নজর ক্রিকেটমহলের।