Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
দক্ষিণবঙ্গে কোথাও বৃষ্টি, কোথাও রোদ! বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে ভিজল একাধিক জেলা, আগামীকাল থেকে আবহাওয়ার উন্নতির সম্ভাবনা   •   পশ্চিমবঙ্গে AIIMS হোক, আমরাও চাই, কিন্তু আগে ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি: অধীর রঞ্জন চৌধুরী   •   পলি মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ, কম খরচে বেশি ফলনের আশায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা   •   কালীপুজো, ছট পুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে বিশেষ সতর্কতা, নিরাপত্তা ও নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের উদ্যোগে প্রস্তুতি   •   ২ নভেম্বর কলকাতায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ মহামিছিল, প্রস্তুতি বৈঠকে রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা   •   ক্যানিং পূর্বে বড় ব্যবধানে হার, তবুও বাসন্তী বিধানসভার ইনচার্জ অসীম সাপুই! জেলা বিজেপি সভাপতির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, প্রশ্নের মুখে সাংগঠনিক নেতৃত্ব

পলি মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ, কম খরচে বেশি ফলনের আশায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা

30 Oct 2026
07:47 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। কম খরচে অধিক ফলন, জল সাশ্রয় এবং ফসলের গুণমান উন্নত করার লক্ষ্যে বর্তমানে কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে পলি মালচিং পদ্ধতি। বিশেষ করে বেগুন চাষে এই পদ্ধতি কৃষকদের কাছে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে। প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি পলি মালচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেগুন চাষে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

পলি মালচিং হল এমন একটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, যেখানে জমির মাটির উপর বিশেষ ধরনের প্লাস্টিকের পাতলা আবরণ বিছিয়ে চাষ করা হয়। সাধারণত রূপালি-কালো বা কালো রঙের মালচিং ফিল্ম ব্যবহার করা হয়। এই প্লাস্টিকের আবরণ মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি জমিতে আগাছার বৃদ্ধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে এবং মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

কীভাবে করা হয় পলি মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ?

প্রথমে জমি ভালোভাবে চাষ করে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী জৈব সার ও অন্যান্য অনুমোদিত সার মাটির সঙ্গে মিশিয়ে উঁচু বেড বা জমির সারি তৈরি করা হয়। বেডের উপর ড্রিপ সেচের পাইপ বসিয়ে তার উপর মালচিং ফিল্ম বিছিয়ে দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট দূরত্বে ছোট ছোট ছিদ্র করে সেই স্থানে বেগুনের চারা রোপণ করা হয়।

এই পদ্ধতিতে গাছের গোড়ার মাটি দীর্ঘ সময় আর্দ্র থাকে। ফলে বারবার জমিতে জল দেওয়ার প্রয়োজন অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়। বিশেষ করে ড্রিপ সেচের সঙ্গে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করলে গাছের গোড়ায় নিয়ন্ত্রিতভাবে জল ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

পলি মালচিং পদ্ধতির বিশেষ সুবিধা

বেগুন চাষে মালচিং ব্যবহারের অন্যতম বড় সুবিধা হল আগাছা নিয়ন্ত্রণ। সাধারণ পদ্ধতিতে জমিতে প্রচুর আগাছা জন্মায়, যার ফলে গাছের সঙ্গে জল ও পুষ্টির প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। কিন্তু মালচিং ফিল্ম মাটির উপর আবরণ তৈরি করায় আগাছার বৃদ্ধি অনেকটাই কমে যায়। এতে কৃষকদের আগাছা পরিষ্কারের শ্রম ও সময় বাঁচে।

এছাড়াও মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার কারণে সেচের জলের ব্যবহার কমানো সম্ভব হতে পারে। মাটির সঙ্গে ফলের সরাসরি সংস্পর্শ কমে যাওয়ায় বেগুন পরিষ্কার থাকে এবং মাটিবাহিত কিছু রোগের ঝুঁকিও কমতে পারে। তবে মালচিং সব ধরনের রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে না।

ফলনের ক্ষেত্রে কতটা লাভজনক?

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পদ্ধতিতে মালচিং, উন্নতমানের চারা, সুষম সার ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রিত সেচ ব্যবহার করলে বেগুন চাষে ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখা এবং জমির পরিচর্যার কাজ সহজ করতেও এই প্রযুক্তি সাহায্য করে।

তবে ফলন নির্ভর করে মাটির গুণমান, আবহাওয়া, বেগুনের জাত, চারা রোপণের দূরত্ব, সার ব্যবস্থাপনা এবং রোগ-পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণের উপর। তাই শুধু মালচিং ব্যবহার করলেই যে ফলন দ্বিগুণ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

কৃষকদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

পলি মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ করতে গেলে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে মাথায় রাখা জরুরি।

১. জমির মাটি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগ করতে হবে।

২. উন্নতমানের ও রোগমুক্ত বেগুনের চারা নির্বাচন করতে হবে।

৩. জমিতে জল জমতে দেওয়া যাবে না। নিকাশি ব্যবস্থা ভালো রাখতে হবে।

৪. ড্রিপ সেচের মাধ্যমে গাছের প্রয়োজন অনুযায়ী জল দিতে হবে।

৫. বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

৬. জমিতে ব্যবহৃত মালচিং ফিল্মের ক্ষতি হলে দ্রুত মেরামত করতে হবে।

৭. চাষের মরশুম শেষে ব্যবহৃত প্লাস্টিক জমি থেকে তুলে যথাযথভাবে পুনর্ব্যবহার বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করতে হবে।

কৃষিতে নতুন দিশা দেখাচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি

বর্তমানে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিকের অভাব এবং সেচের জলের সংকট চাষিদের কাছে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পলি মালচিং পদ্ধতি কৃষকদের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প প্রযুক্তি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় জল সাশ্রয় এবং আগাছা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এই পদ্ধতি যথেষ্ট উপযোগী।

তবে মালচিং ফিল্ম, ড্রিপ সেচ এবং জমি প্রস্তুতির জন্য প্রাথমিক খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে। তাই চাষ শুরু করার আগে স্থানীয় কৃষি দফতর বা কৃষি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে, পলি মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ আধুনিক কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠছে। সঠিক পরিকল্পনা, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিচর্যা এবং উপযুক্ত প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারলে এই পদ্ধতি কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং চাষের কাজ আরও সহজ করতে সহায়তা করতে পারে। প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির এই ব্যবহার আগামী দিনে কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।