Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
দক্ষিণবঙ্গে কোথাও বৃষ্টি, কোথাও রোদ! বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিতে ভিজল একাধিক জেলা, আগামীকাল থেকে আবহাওয়ার উন্নতির সম্ভাবনা   •   পশ্চিমবঙ্গে AIIMS হোক, আমরাও চাই, কিন্তু আগে ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি: অধীর রঞ্জন চৌধুরী   •   পলি মালচিং পদ্ধতিতে বেগুন চাষ, কম খরচে বেশি ফলনের আশায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা   •   কালীপুজো, ছট পুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে বিশেষ সতর্কতা, নিরাপত্তা ও নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের উদ্যোগে প্রস্তুতি   •   ২ নভেম্বর কলকাতায় বিজেপির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ মহামিছিল, প্রস্তুতি বৈঠকে রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা   •   ক্যানিং পূর্বে বড় ব্যবধানে হার, তবুও বাসন্তী বিধানসভার ইনচার্জ অসীম সাপুই! জেলা বিজেপি সভাপতির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, প্রশ্নের মুখে সাংগঠনিক নেতৃত্ব

ক্যানিং পূর্বে বড় ব্যবধানে হার, তবুও বাসন্তী বিধানসভার ইনচার্জ অসীম সাপুই! জেলা বিজেপি সভাপতির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, প্রশ্নের মুখে সাংগঠনিক নেতৃত্ব

30 Oct 2026
07:09 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর রাজ্যে সরকার গঠন করেছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আনন্দের মধ্যেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির অন্দরে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিশেষ করে ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল এবং সেই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অসীম সাপুইকে বাসন্তী বিধানসভার ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন অসীম সাপুই। নির্বাচনের আগে দলের জয় নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী ছিলেন তিনি। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে জয়ের ব্যবধান নিয়ে আশার কথাও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু ভোট গণনার পর যে ফলাফল সামনে আসে, তা বিজেপির প্রত্যাশার সঙ্গে কার্যত কোনওভাবেই মেলেনি।

ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী মোহাম্মদ বাহারুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ৬৮৭টি ভোট। তাঁর জয়ের ব্যবধান ৯১ হাজার ৯৫৫ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলাম। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৫৬ হাজার ৭৩৩। অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী অসীম সাপুই পেয়েছেন মাত্র ২৮ হাজার ৫৯৩টি ভোট। ফলে এই কেন্দ্রে তৃতীয় স্থানে থেকেই নির্বাচনী লড়াই শেষ করতে হয়েছে বিজেপি প্রার্থীকে।

ভোটের শতাংশের হিসাবেও বিজেপির অবস্থান ছিল অনেকটাই পিছনে। তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটের হার ৬১.৫৩ শতাংশ, সেখানে বিজেপির ভোটের হার মাত্র ১১.৮৩ শতাংশ। নির্বাচনের আগে যে রাজনৈতিক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, ফলাফল প্রকাশের পর তা কার্যত হতাশায় পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

তবে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে অসীম সাপুইয়ের সাংগঠনিক দায়িত্ব পাওয়াকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির এমন বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পরেও তাঁকে বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রের ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জয়নগর বিজেপির সাংগঠনিক জেলার সভাপতি উৎপল নস্কর নিজের প্যাডে অসীম সাপুইকে এই দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে চাপা ক্ষোভ। তাঁদের প্রশ্ন, যে প্রার্থী নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে মাত্র ১১.৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন এবং তৃতীয় স্থানে শেষ করেছেন, তাঁকে কীসের ভিত্তিতে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের ইনচার্জের দায়িত্ব দেওয়া হল?

বিজেপির একাংশের কর্মীদের দাবি, বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রে দলের প্রার্থী বিকাশ সর্দার নির্বাচনে অসীম সাপুইয়ের তুলনায় অনেক বেশি ভোট পেয়েছেন। তাহলে সেই কেন্দ্রের সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতৃত্ব ও নির্বাচনী ফলাফলের মূল্যায়ন কেন করা হল না? কেন স্থানীয়ভাবে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল?

দলের বুথস্তরের কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, সংগঠন তৈরি করার জন্য যাঁরা দিনের পর দিন পরিশ্রম করেছেন, ভোটের সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেছেন, বুথ সামলেছেন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দলের পতাকা ধরে রেখেছেন, তাঁদের মতামতের কোনও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাঁদের বক্তব্য, সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু জেলা নেতৃত্বের পছন্দ নয়, সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্মীদের মতামত ও গ্রহণযোগ্যতাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, বাসন্তী বিধানসভায় স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা না করে বাইরে থেকে মনোনীত নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়া হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে সংগঠনের উপর। তাঁদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করা হলে আগামী দিনে বাসন্তী বিধানসভা এলাকায় বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক আরও দুর্বল হতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, ক্যানিং পূর্বের মতো বাসন্তীতেও নির্বাচনী ফলাফল বিজেপির প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পরিবর্তে বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়ানো হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিরোধী রাজনৈতিক মহলের একাংশের কটাক্ষ, সংগঠনের অক্সিজেন বাড়ানোর পরিবর্তে জেলা নেতৃত্বের এমন সিদ্ধান্তে উল্টে সংগঠনের মধ্যে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণই বাড়ছে!

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিজেপির অন্দরেও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে দাবি সূত্রের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজ্য বিজেপি সদস্য জানিয়েছেন, অসীম সাপুইকে বাসন্তী বিধানসভার ইনচার্জ করার বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। বিষয়টি দলীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

 রাজ্য বিজেপি সদস্য আরও দাবি করেছেন, বুথস্তরের কর্মীদের মতামত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ নির্বাচনে লড়াই করেন মূলত বুথের নেতা ও কর্মীরাই। তাঁদের পরিশ্রমের উপরই নির্ভর করে দলের নির্বাচনী সাফল্য। তাই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাউকে বসানোর আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার বুথ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

সব মিলিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর সাংগঠনিক জেলায় বিজেপির অন্দরের এই বিতর্ক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে নির্বাচনে পরাজয়ের পর সংগঠনকে শক্তিশালী করার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে সাংগঠনিক পদ বণ্টন নিয়ে নিচুতলার কর্মীদের অসন্তোষ—দুইয়ের মাঝে পড়ে অস্বস্তিতে জেলা নেতৃত্ব।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বাসন্তী বিধানসভায় অসীম সাপুইকে ইনচার্জ করার সিদ্ধান্তে কি অনড় থাকবেন জেলা বিজেপি সভাপতি উৎপল নস্কর? নাকি বুথস্তরের কর্মীদের ক্ষোভের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে দল? শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কের কী পরিণতি হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন বাসন্তী ও ক্যানিং পূর্বের বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু দলের ভিতরে সাংগঠনিক সমন্বয় কতটা শক্তিশালী হয়েছে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপির অন্দরে।