নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ‘দেশের স্বার্থে আপসহীন হোক আমাদের অঙ্গীকার, গণতন্ত্র বাঁচুক, মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকুক’—এই বার্তাকে সামনে রেখে ৩০ অক্টোবর বারুইপুরে বিশাল জনসভার আয়োজন করেছে বিজেপি। ‘অনুপ্রবেশকারী হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে এই কর্মসূচিকে সফল করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন দলের কর্মী-সমর্থকেরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বিজেপির উদ্যোগে বারুইপুরের রবীন্দ্র ভবন ময়দানে আয়োজিত এই জনসভাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিজেপির বিভাগ কনভেনার তথা ফলতা বিধানসভার বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের জমায়েত করার লক্ষ্যে তৎপর রয়েছেন দলের কর্মী ও সমর্থকেরা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের স্বার্থ রক্ষা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত রাখার বার্তা নিয়েই এই জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী বার্তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে জেলা বিজেপি।
বিজেপির এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ‘অনুপ্রবেশকারী হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগান। দলের বক্তব্য, দেশের স্বার্থ রক্ষা এবং মানুষের অধিকার সুরক্ষিত রাখার প্রশ্নে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই এই জনসভাকে সামনে রেখে প্রচার চালানো হচ্ছে।
দেবাংশু পান্ডার বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের স্বার্থে আপসহীন থাকার অঙ্গীকার নিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হবে। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাও তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। জনসভার মাধ্যমে দলের রাজনৈতিক অবস্থান সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে অনুপ্রবেশের অভিযোগ, নাগরিকত্ব এবং মানুষের অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির এই স্লোগান দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক পরিবেশে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
৩০ অক্টোবরের জনসভাকে সফল করতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বারুইপুরের রবীন্দ্র ভবন ময়দানকে কেন্দ্র করে বড় জমায়েতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সাংগঠনিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
দেবাংশু পান্ডা জানিয়েছেন, এই কর্মসূচিতে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের ভিড় হবে বলে তাঁরা আশাবাদী। তাঁর বক্তব্য, বিপুল জনসমাগমের মাধ্যমে দলের রাজনৈতিক বার্তা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক সভায় জনসমাগম বরাবরই দলগুলির সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম মাধ্যম। বিশেষ করে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মী-সমর্থকদের একত্রিত করে বড় কর্মসূচি সফল করা রাজনৈতিক দলগুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক থেকে বারুইপুরের এই জনসভা জেলা বিজেপির সাংগঠনিক তৎপরতারও একটি উল্লেখযোগ্য পরীক্ষা হতে পারে।
তবে রেকর্ড সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির যে প্রত্যাশা জানানো হয়েছে, তা এখনও দলীয় নেতৃত্বের দাবি। বাস্তবে কত মানুষের জমায়েত হয়, তা কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরেই স্পষ্ট হবে।
এই জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বলে জানিয়েছেন দেবাংশু পান্ডা। তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরেই কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ তৈরি হয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।
দলীয় নেতৃত্বের আশা, শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের মাধ্যমে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার এবং অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়গুলি তুলে ধরা হবে। জনসভায় তাঁর বক্তব্যের দিকে রাজনৈতিক মহলেরও নজর থাকবে।
দেবাংশু পান্ডার বক্তব্য, রেকর্ড সংখ্যক মানুষের উপস্থিতির মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষ উপহার দিতে চান বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। অর্থাৎ, জনসমাগমের মধ্য দিয়েই দলের সাংগঠনিক শক্তি ও কর্মীদের সক্রিয়তা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে জনসভায় ঠিক কোন কোন বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি এখনও স্পষ্ট নয়। মূল বক্তার বক্তব্যের মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক বার্তার বিভিন্ন দিক সামনে আসতে পারে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বারুইপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এই এলাকায় বড় জনসভার আয়োজনের মাধ্যমে বিজেপি নিজেদের সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
‘অনুপ্রবেশকারী হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে এই কর্মসূচির রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। একদিকে দেশের স্বার্থ ও গণতন্ত্র রক্ষার বার্তা তুলে ধরার দাবি করছে বিজেপি, অন্যদিকে বড় জমায়েতের মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক উপস্থিতি প্রদর্শনের লক্ষ্যও রয়েছে।
এখন দেখার, ৩০ অক্টোবরের জনসভায় কত মানুষের উপস্থিতি হয় এবং শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে কী কী রাজনৈতিক বিষয় উঠে আসে। সভার মাধ্যমে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণে কোনও নতুন বার্তা দেওয়া সম্ভব হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।
সব মিলিয়ে, বারুইপুরের রবীন্দ্র ভবন ময়দানে ৩০ অক্টোবরের বিজেপির জনসভাকে ঘিরে প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দেবাংশু পান্ডার দাবি, বিপুল জনসমাগমের লক্ষ্যে কাজ করছেন দলের কর্মী-সমর্থকেরা। দেশের স্বার্থ, গণতন্ত্র রক্ষা এবং মানুষের অধিকার সুরক্ষিত রাখার বার্তা সামনে রেখে ‘অনুপ্রবেশকারী হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
জনসভার মূল বক্তা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতির কথা জানানো হয়েছে। রেকর্ড সংখ্যক মানুষের জমায়েতের মাধ্যমে তাঁকে বিশেষ উপহার দেওয়ার প্রত্যাশাও প্রকাশ করেছেন দেবাংশু পান্ডা।
এখন নজর ৩০ অক্টোবরের দিকে। দলীয় নেতৃত্বের প্রত্যাশা কতটা বাস্তবায়িত হয়, জনসভায় মানুষের উপস্থিতি কেমন থাকে এবং রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে কী বার্তা দেওয়া হয়—এই তিনটি বিষয়ই আগামী দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।