নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: আগামী ২ নভেম্বর কলকাতার রাজপথে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিজেপির উদ্যোগে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ মহামিছিল। এই মহামিছিলকে সফল করতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। সেই লক্ষ্যেই আজ সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার নেতৃত্ববৃন্দ।
আসন্ন মহামিছিলকে কেন্দ্র করে দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি, কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি এবং বিভিন্ন জেলা থেকে দলীয় কর্মীদের কলকাতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ২ নভেম্বরের কর্মসূচিকে বৃহৎ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত করতে কীভাবে জেলা থেকে বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠনকে সক্রিয় করা যায়, সেই বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে এই মহামিছিলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’। এই স্লোগানকে সামনে রেখেই রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক অধিকার, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে চায় গেরুয়া শিবির। দলের নেতৃত্বের লক্ষ্য, কলকাতার রাজপথে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতির মাধ্যমে রাজনৈতিক শক্তি ও সাংগঠনিক ঐক্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রস্তুতি বৈঠককে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলের সংগঠনকে আরও সক্রিয় করে তোলার পাশাপাশি আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলিকে সফল করার ক্ষেত্রে জেলা নেতৃত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই রাজ্য নেতৃত্ব ও জেলা নেতৃত্বের সমন্বয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত নেতৃত্বের মধ্যে মহামিছিলের প্রচার, কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণ এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ আরও মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ—রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, ২ নভেম্বরের এই মহামিছিল শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক জমায়েত নয়, বরং দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও গণতন্ত্র রক্ষার দাবিকে জনসমক্ষে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের কর্মী-সমর্থকদের একত্রিত করে কলকাতার বুকে বড়সড় রাজনৈতিক বার্তা দেওয়াই এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের রাজনীতিতে বিজেপি নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয়তা প্রদর্শনের জন্য এই মহামিছিলকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী ২ নভেম্বর কলকাতায় কতটা বড় জমায়েত হয় এবং রাজ্য নেতৃত্বের আহ্বানে জেলা ও বুথস্তরের কর্মীরা কতটা সাড়া দেন, এখন সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
সব মিলিয়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ মহামিছিলকে ঘিরে বিজেপির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোরকদমে। সল্টলেকের প্রস্তুতি বৈঠকের মধ্য দিয়ে সেই কর্মসূচির সাংগঠনিক রূপরেখা তৈরির কাজ আরও একধাপ এগোল। এখন অপেক্ষা আগামী ২ নভেম্বর কলকাতার রাজপথে বিজেপির এই মহামিছিল কতটা জনসমাগম ও রাজনৈতিক প্রভাব তৈরি করতে পারে।