Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
সকালে নাকি সন্ধ্যায়? ব্যায়ামের সময় প্রভাব ফেলতে পারে শক্তি ও পেশী গঠনে   •   কাদামাটিতে খিরা চাষ, কম খরচে বাড়ছে কৃষকের আয়   •   বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে ফলন কমার আশঙ্কা, চাষিদের সতর্ক থাকার পরামর্শ   •   মমতা এখনও নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী ভাবছেন কটাক্ষ শমীক ভট্টাচার্যের   •   শিল্পের জন্য জমি নিয়ে নতুন নীতি, বিনিয়োগকারীদের বাংলায় আসার আহ্বান   •   ১৯৪০ সালের রানাঘাট রেলস্টেশন: অবিভক্ত বাংলার গুরুত্বপূর্ণ রেল জংশনের ইতিহাস

শিল্পের জন্য জমি নিয়ে নতুন নীতি, বিনিয়োগকারীদের বাংলায় আসার আহ্বান

24 Sep 2026
04:19 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের জন্য জমি নীতি নিয়ে ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। সাম্প্রতিক বক্তব্যে রাজ্যের বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে আগের তৃণমূল সরকারের জমি নীতির সমালোচনা করে বলা হয়েছে, শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি জোগাড়ের দায়িত্ব শুধু বিনিয়োগকারীদের উপর ছেড়ে দিলে শিল্পায়নের গতি বাড়ানো কঠিন। শিল্প স্থাপনের অন্যতম প্রধান শর্ত জমি—এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই নতুন শিল্পনীতিতে সরকারের সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরা হচ্ছে।

বর্তমান সরকার জানিয়েছে, শিল্পের জন্য জমি ব্যবস্থাপনায় সরাসরি জমি ক্রয়, ল্যান্ড পুলিং এবং সিঙ্গল-উইন্ডো ব্যবস্থার মতো পদ্ধতি রাখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী  জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোর আগে নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

জমি নিয়ে বদলাচ্ছে নীতি

শিল্পায়নের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ বরাবরই পশ্চিমবঙ্গে সংবেদনশীল বিষয়। সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের অভিজ্ঞতার পর শিল্পের জন্য জমি সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে। নতুন নীতিতে জোরপূর্বক অধিগ্রহণের পরিবর্তে জমির মালিকদের সঙ্গে সরাসরি ক্রয় এবং ল্যান্ড পুলিংয়ের মাধ্যমে শিল্পের জন্য জমি জোগাড়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থায় শিল্পপতি ও জমির মালিক—উভয় পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্য রয়েছে। একইসঙ্গে বিনিয়োগের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে সিঙ্গল-উইন্ডো ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের বাংলায় আসার বার্তা

সরকারের পক্ষ থেকে শিল্পপতিদের উদ্দেশে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা, বন্দর, রেল ও সড়ক পরিকাঠামো এবং প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সংযোগকে বিনিয়োগের সম্ভাব্য সুবিধা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে ৩৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে জমি বরাদ্দের চিঠি দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, ওই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং ৬২ হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।

অতীতের নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

শিল্পের জন্য জমি প্রসঙ্গে বর্তমান সরকার আগের বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল সরকারের নীতির সমালোচনা করছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে জোর করে জমি অধিগ্রহণ না করার নীতিকে বর্তমান সরকার শিল্পায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে তুলে ধরছে। এই সমালোচনা রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ এবং এর ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে জোর করে জমি না নেওয়ার অবস্থান প্রকাশ্যে জানিয়েছেন এবং শিল্পের জন্য ল্যান্ডব্যাঙ্কের জমি ব্যবহারের কথাও বলেছেন।

শিল্পনীতির দিকে নজর শিল্পমহলের

নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের পর জমি সংগ্রহের পদ্ধতি কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, জমির মালিকদের স্বার্থ কীভাবে সুরক্ষিত রাখা হয় এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুমোদন প্রক্রিয়া কতটা সহজ হয়—এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের।

সরকারের বার্তা স্পষ্ট—শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও পরিকাঠামো তৈরিতে সরকার সক্রিয় ভূমিকা নেবে এবং বিনিয়োগকারীদের পশ্চিমবঙ্গে আসার আহ্বান জানাবে। নতুন শিল্পনীতির বাস্তব প্রয়োগেই বোঝা যাবে এই উদ্যোগ রাজ্যের শিল্পায়নে কতটা প্রভাব ফেলে।