Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
বহরমপুরের ভাকুড়ির বকুলতলায় প্রাচীন মায়ের মন্দিরে ভক্তদের ঢল, উলুধ্বনি ও ঢাকের আওয়াজে মুখরিত মন্দির প্রাঙ্গণ   •   বস্ত্র বিতরণ, নাকি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের হাতিয়ার? মানবিকতার আসল পরিচয় কি ছবির ফ্রেমে, নাকি নিঃস্বার্থ সাহায্যে?   •   আল্পনা ডিঙিয়ে ফ্ল্যাটে চুরি! হলুদ গ্লাভস, মুখ ঢাকা, হাতে কাস্তে-লোহার রড নিয়ে চার দুষ্কৃতী, সিসিটিভি দেখে হতবাক দুর্গাপুর   •   দূষণে শ্বাসরুদ্ধ কলকাতা! শহর কি ফের পরিণত হচ্ছে ‘যক্ষ্মা নগরী’তে? বায়ুদূষণ নিয়ে সরব অধীর রঞ্জন চৌধুরী   •   গড়িয়ায় লিভ-ইন পার্টনারকে কুপিয়ে খুন! গ্রেফতার তরুণী ও তাঁর মা, চাঞ্চল্য ফর্তাবাদে   •   মন্দিরবাজারে ‘নবকালী’ থিমে নজরকাড়া শ্যামাপুজো, স্বামীজি সংঘের উদ্যোগে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ

দূষণে শ্বাসরুদ্ধ কলকাতা! শহর কি ফের পরিণত হচ্ছে ‘যক্ষ্মা নগরী’তে? বায়ুদূষণ নিয়ে সরব অধীর রঞ্জন চৌধুরী

08 Nov 2026
10:40 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ নিয়ে ফের উদ্বেগ প্রকাশ্যে এল কলকাতায়। শহরের বাতাসে দূষণের মাত্রা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতার দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সরব হলেন কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে শহরের পুরনো ‘যক্ষ্মা নগরী’ পরিচয়ের প্রসঙ্গও।

অধীর রঞ্জন চৌধুরীর অভিযোগ, কলকাতায় যেভাবে দূষণের মাত্রা বাড়ছে, তাতে মানুষের ফুসফুসের স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একসময় কলকাতাকে ‘যক্ষ্মা নগরী’ বলে অভিহিত করা হতো। সেই পুরনো পরিচয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দূষণের বর্তমান পরিস্থিতিতে শহর কি আবারও সেই দুর্ভাগ্যজনক পরিচয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?

তাঁর বক্তব্য, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও নির্দেশিকা জারি করা হলেও বাস্তবে সেগুলির যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্ধারিত নিয়মকানুন কতটা কার্যকরভাবে মানা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই কলকাতার বাতাসের গুণগত মান ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

শুধু পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকাও সমালোচনা করেছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। দিল্লিতে নির্বাচনের আগে দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় বড় প্রতিশ্রুতি ও বক্তব্য দেওয়া হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। বিশেষ করে উত্তর ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিজমিতে খড় পোড়ানোর সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

অধীরের বক্তব্য অনুযায়ী, দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক স্তরে আলোচনা ও প্রতিশ্রুতি থাকলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার সুফল কতটা পৌঁছচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাঁর মতে, দূষণ কোনও রাজনৈতিক দলের একার সমস্যা নয়। এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে জড়িত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন দূষিত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ফলে হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বাতাসে সূক্ষ্ম ধূলিকণা বা PM2.5-এর উপস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। এই ক্ষুদ্র কণাগুলি শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে ফুসফুসের গভীর অংশে পৌঁছতে পারে। ফলে শিশু, প্রবীণ এবং আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

কলকাতার দূষণের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে বলে পরিবেশবিদদের মত। যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলো, রাস্তার ধূলিকণা, শিল্পাঞ্চলের নির্গমন এবং বর্জ্য পোড়ানোর মতো বিষয় শহরের বায়ুর মানকে প্রভাবিত করে। শীতকালে বাতাসের গতিবেগ কমে যাওয়া এবং আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণেও দূষিত কণা দীর্ঘ সময় বাতাসে আটকে থাকতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে শুধু সাময়িক জল ছিটানো বা বিশেষ কিছু উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দূষণের উৎস চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নিয়মিত নজরদারি এবং বিধিনিষেধের কার্যকর প্রয়োগ। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থার প্রসারও গুরুত্বপূর্ণ।

অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বক্তব্যে মূলত উঠে এসেছে প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্ন। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যে ধরনের গুরুত্ব দেওয়া উচিত, বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় স্তরেই কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে দাবি উঠে এসেছে।

 কলকাতার বায়ুদূষণ এখন আর শুধুমাত্র পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক চাপানউতোরের বাইরে গিয়ে দূষণ নিয়ন্ত্রণে বাস্তব পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। শহরবাসীর সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে কলকাতার বাতাসকে পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।