নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: মায়ের আরাধনায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে বহরমপুরের নিকটবর্তী ভাকুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বকুলতলা। সেখানকার প্রাচীন মায়ের মন্দিরকে ঘিরে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সকাল থেকেই মন্দিরে পুজো দিতে এবং মায়ের আশীর্বাদ নিতে দূরদূরান্ত থেকে হাজির হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। ভক্তদের উপস্থিতিতে গোটা মন্দির চত্বর যেন পরিণত হয়েছে এক মিলনক্ষেত্রে।
চারদিকে উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি এবং ঢাকের আওয়াজে তৈরি হয়েছে এক ভক্তিময় পরিবেশ। পুজোর সময় মায়ের নামগানে মুখরিত হয়ে উঠছে মন্দির প্রাঙ্গণ। কেউ পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে পুজো দিতে আসছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিনের পারিবারিক রীতি মেনে মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করছেন। ভক্তদের বিশ্বাস, প্রাচীন এই মন্দিরে মায়ের কাছে মন থেকে প্রার্থনা করলে মনের ইচ্ছা পূরণ হয়। সেই বিশ্বাস ও ভক্তিকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর মন্দিরে মানুষের সমাগম ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই মন্দির কেবলমাত্র পুজো-অর্চনার স্থান নয়, বরং এলাকার ঐতিহ্য ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বহু মানুষ এই মন্দিরের সঙ্গে নিজেদের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। বিশেষ পুজো বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের দিনগুলিতে এলাকার মানুষের পাশাপাশি আশপাশের গ্রাম থেকেও ভক্তরা এখানে উপস্থিত হন।
মন্দির চত্বরজুড়ে ভক্তদের আনাগোনা, পুজোর আয়োজন এবং ধর্মীয় আবহে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। ঢাকের ছন্দের সঙ্গে উলুধ্বনি যেন গোটা পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। ছোট থেকে বড়—সব বয়সের মানুষের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণে দেখা যাচ্ছে উৎসাহ ও আনন্দের ছবি।
এদিকে, পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে এই মন্দিরকে ঘিরে স্থানীয় আলোচনায়। তবে তাঁর উপস্থিতি, বক্তব্য বা মন্দিরের সঙ্গে তাঁর কোনও নির্দিষ্ট কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনও দাবি করা যাচ্ছে না।
বহরমপুরের ভাকুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বকুলতলার প্রাচীন মায়ের মন্দিরে ভক্তদের এই সমাগম এলাকার ধর্মীয় ঐতিহ্য, বিশ্বাস এবং সামাজিক বন্ধনেরই এক পরিচিত ছবি তুলে ধরছে। মায়ের আরাধনাকে কেন্দ্র করে ঢাকের বাদ্যি, উলুধ্বনি ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে গোটা মন্দির প্রাঙ্গণ।