নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : এক লাখ টাকার বিনিময়ে মাত্র দুই মাসের এক শিশুকে কেনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আসানসোলে। ই-মেলের মাধ্যমে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ। এরপর উত্তর ধাদকা এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনায় এক দম্পতি-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দম্পতি হলেন উত্তর ধাদকা লালবাংলা এলাকার বাসিন্দা বিনোদ কুমার গুপ্তা (৪৭) ও ববিতা গুপ্তা (৩৭)। তাঁদের সঙ্গে ধাদকা রোড এলাকার বাসিন্দা অশোক ভবালকাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, বিনোদ রাজ্য সরকারের রেশন ডিলার।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে ধৃত দম্পতি শিশুটিকে নিজেদের জৈবিক সন্তান বলে দাবি করেছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে অন্য তথ্য সামনে আসে বলে পুলিশের দাবি। অভিযোগ, বীরভূমের সিউড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে নেওয়া হয়েছিল।
শিশুটিকে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও মধ্যস্থতাকারী যুক্ত ছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একইসঙ্গে দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং শিশুটির জন্ম সংক্রান্ত নথি বা অন্য কোনও কাগজপত্রে কারচুপি করা হয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং জুভেনাইল জাস্টিস (কেয়ার অ্যান্ড প্রোটেকশন অব চিলড্রেন) অ্যাক্ট, ২০১৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া মেনে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এখন পুলিশের মূল নজর শিশুটির প্রকৃত পরিচয় এবং তার জৈবিক বাবা-মায়ের সন্ধানের দিকে। পাশাপাশি শিশুটির জন্ম শংসাপত্র সঠিক কি না, সিউড়ির সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের ভূমিকা কী এবং কথিত এক লাখ টাকার লেনদেন কীভাবে হয়েছে—সেসবও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিসিপি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস জানান, গ্রেফতার তিনজনকে বৃহস্পতিবার আসানসোল আদালতে পেশ করা হবে। তাঁদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ কিংবা কোনও সংগঠিত চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।