Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
ফ্রি স্কুল স্ট্রিট অগ্নিকাণ্ডে মৃত ৯, ৫ জনই বাংলাদেশি; একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু   •   বালুরঘাটে স্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মসূচি, টিবি রোগীদের পুষ্টিকর খাবার ও প্রবীণদের আয়ুষ্মান কার্ড প্রদান   •   বাংলার প্রশাসনে দুর্নীতি নিয়ে সরব দিলীপ ঘোষ, পুলিশ প্রশাসন নিয়েও কড়া আক্রমণ   •   ডায়মন্ড হারবারের নদীসৌন্দর্যায়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, FIR-এর দাবি বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববির   •   পূর্ব মেদিনীপুরে জলমগ্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৈঠক শুভেন্দু অধিকারীর, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও পুলিশকর্মীদের পাশে   •   বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবিতে উলুবেড়িয়া-১ ব্লকে ঠিকাদারদের অবস্থান-বিক্ষোভ, জয়েন্ট বিডিওকে ৫ দফা ডেপুটেশন

ডায়মন্ড হারবারের নদীসৌন্দর্যায়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, FIR-এর দাবি বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববির

19 Aug 2026
11:28 AM

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ডায়মন্ড হারবারের Riverfront Beautification Project-কে কেন্দ্র করে সরকারি অর্থের ব্যবহার, প্রকল্পের পরিকল্পনা এবং কারিগরি সমীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে FIR ও পূর্ণাঙ্গ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি। CAG Report No. 06 of 2025-এ উল্লিখিত বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে ডায়মন্ড হারবার থানায় অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

অভিজিৎ দাস ববির দাবি, “Beautification of river bank at Diamond Harbour from Sub Divisional Office to Kellar Math” প্রকল্পটি ২০১৭ সালের আগস্টে প্রায় ৭.১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া হয়েছিল। CAG-এর রিপোর্টে প্রকল্পটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রস্তাবের ভিত্তিতে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ফুটনোটে ওই জনপ্রতিনিধিকে সাংসদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সময় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে বিজেপি নেতার বক্তব্য, কোনও সাংসদ কোনও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রস্তাব দিলে তা নিজে অপরাধ নয়। কিন্তু সেই প্রস্তাবের পর প্রকল্পটি কীভাবে অনুমোদিত হল, প্রয়োজনীয় কারিগরি সমীক্ষা যথাযথভাবে হয়েছিল কি না, কীভাবে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হল এবং শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি কেন পরিত্যক্ত হল—এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনও দুর্নীতি বা অপরাধমূলক যোগসাজশ ছিল কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।

CAG-এর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে অভিজিৎ দাস ববি দাবি করেন, প্রকল্পের জমি ছিল Irrigation & Waterways Department-এর অধীন বাঁধ ও রাস্তার জমি। ২০১৯ সালের আগস্টে NH-117 সংলগ্ন নদীবাঁধের একটি বড় অংশ ভেঙে নদীতে চলে যায় এবং প্রকল্পের কাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর PWD-এর নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ১৩.১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে restoration work করা হয় বলে তিনি জানান।

এরপর সংশ্লিষ্ট একটি বেসরকারি সংস্থা প্রায় ২.৫৯ কোটি টাকা পাওনা দাবি করে। বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায় এবং ২০২০ সালের ১৮ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশের পর দাবির ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১.২৯ কোটি টাকা PWD-এর পক্ষ থেকে ওই সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্পের পরবর্তী পরিণতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিজিৎ দাস ববি। তাঁর দাবি, ২০২৩ সালের মার্চে Jadavpur University-এর feasibility recommendation-এর ভিত্তিতে Tourism Department প্রকল্পটি আর এগিয়ে না নিয়ে পরিত্যাগ করে। জমির প্রকৃতি অত্যন্ত দুর্বল বা fragile হওয়ায় প্রকল্পটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় বলে সুপারিশ করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।

CAG-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য প্রায় ৭.১৭ কোটি টাকা PWD-কে দেওয়ার পরও Tourism Department-এর কাছে কোনও অর্থ ফেরত আসেনি এবং প্রায় ১.২৯ কোটি টাকার ব্যয়কে “unfruitful expenditure” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—এমনটাই দাবি বিজেপি নেতার।

কারিগরি সমীক্ষার বিষয়টিকেও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরেছেন অভিজিৎ দাস ববি। তাঁর বক্তব্য, Tourism Department ২০২৪ সালের মে মাসে জানিয়েছিল যে কাজ শুরুর আগে PWD soil testing, land survey এবং hydrographic survey করেছিল। কিন্তু CAG-এর রিপোর্টে pre-commencement studies-এর supporting documents জমা দিতে না পারা এবং এলাকার vulnerability যথাযথভাবে assessed না হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।

এই দুই বক্তব্যের মধ্যে যে অসঙ্গতি রয়েছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন বিজেপি নেতা। তাঁর প্রশ্ন, সংশ্লিষ্ট সমীক্ষাগুলি আদৌ হয়েছিল কি না, হয়ে থাকলে তার রিপোর্ট কোথায়, প্রকল্প অনুমোদনের আগে competent authorities সেই রিপোর্টগুলি পর্যালোচনা করেছিলেন কি না এবং কোনও ভুল বা অসমর্থিত technical certification বা documentation ব্যবহার করা হয়েছিল কি না।

অভিজিৎ দাস ববির দাবি, CAG-এর পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে প্রকল্পের সম্পূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে এবং কোনও তদন্ত শুরু হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

news home ads