নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালত চত্বরে আইনজীবীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ ও হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে এবার সরব হলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। তাঁর অভিযোগ, আদালতের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের চত্বরে আইনজীবীদের উপর এই ধরনের হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, ব্যাঙ্কশাল আদালত চত্বরে আইনজীবীদের উপর একদল দুষ্কৃতীর হামলার ঘটনায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের অরাজকতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা প্রয়োজন এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কশাল আদালত চত্বরে। একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া ইউটিউবার দীপক ব্যাপারিকে আদালতে হাজির করাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশ ইউটিউবারকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়েন। সেই সময় আইনজীবীদের একাংশ প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আইনজীবী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ঘটনার পর ব্যাঙ্কশাল আদালতের একাধিক বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিও উঠেছে।
নওশাদ সিদ্দিকীর অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতাল থেকে আদালত—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের চত্বরে হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটছে। তিনি এই ঘটনাগুলির পিছনে শাসকদলের মদত থাকার অভিযোগ তুলেছেন। তবে এই রাজনৈতিক অভিযোগটি তাঁর বক্তব্য হিসেবে উল্লেখযোগ্য; এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো প্রমাণ এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
নওশাদের বক্তব্য, আদালত ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ যাতে কোনওভাবেই রাজনৈতিক হিংসা বা দুষ্কৃতীদের দাপটে বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর দাবি, আইনজীবীদের নিরাপত্তার জন্য রাজ্য সরকারের অবিলম্বে অ্যাডভোকেট প্রোটেকশন অ্যাক্ট কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
ব্যাঙ্কশাল আদালতের ঘটনায় ইতিমধ্যেই আইনজীবীদের নিরাপত্তা এবং আদালত চত্বরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। এখন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আদালত চত্বরে স্বাভাবিক কাজকর্ম কবে পুরোপুরি ফিরবে, সেদিকেই নজর রয়েছে।