নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান হাজার হাজার মৎস্যজীবী। প্রতিটি দিনই তাঁদের কাছে জীবন-মৃত্যুর লড়াই। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের হামলায় প্রাণ হারানোর ঘটনা এই অঞ্চলে নতুন নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে নিহত মৎস্যজীবীদের পরিবার সরকারি ক্ষতিপূরণ বা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকেও বঞ্চিত হন।
এই বাস্তবতার মধ্যেই বাঘের হামলায় নিহত মৎস্যজীবীদের স্মরণে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মৎস্যজীবীদের একটি সংগঠনের উদ্যোগে নিহতদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে তাঁদের ‘শহীদের’ মর্যাদা দিয়ে স্মরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘শহীদ’ হিসেবে এই মর্যাদা সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতীকীভাবে প্রদান করা হয়েছে।
সম্প্রতি সুন্দরবনের জঙ্গলে স্বামী গৌতম দাসের সঙ্গে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন মৎস্যজীবী বন্দনা দাস। মাছ ধরার কাজ চলাকালীন নৌকায় রান্না করছিলেন তিনি। সেই সময় আচমকাই জঙ্গল থেকে একটি বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে টেনে নিয়ে যায়। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে গৌতম দাস স্ত্রীকে বাঘের মুখ থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন এবং তাঁকে ছাড়িয়ে আনতেও সক্ষম হন। তবে গুরুতর জখম হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বন্দনা দাসের মৃত্যু হয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ভুবনেশ্বরী এলাকায় বন্দনা দাসের বাড়ির পাশেই নদীর ধারে গড়ে তোলা হয়েছে সুন্দরবনের প্রথম শহীদ বেদী। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জীবিকার জন্য জীবন উৎসর্গ করা মৎস্যজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং তাঁদের সংগ্রামকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
উদ্যোক্তাদের দাবি, এই শহীদ বেদী শুধু বন্দনা দাসের স্মৃতিই বহন করবে না, ভবিষ্যতে বাঘের হামলায় প্রাণ হারানো সকল মৎস্যজীবীর আত্মত্যাগ, সংগ্রাম ও সাহসের প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনের মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা, ক্ষতিপূরণ এবং সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবিও জোরালো হয়েছে।
সুন্দরবনের প্রতিকূল পরিবেশে জীবিকার জন্য প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা মৎস্যজীবীদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এই উদ্যোগ।