নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক - পাকিস্তানি জঙ্গি-যোগের তদন্তে নতুন মোড় এল। পশ্চিমবঙ্গে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সংবেদনশীল তথ্য পাচারের অভিযোগে হাওড়া থেকে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম আদিত্য সিং ওরফে রাজু। তিনি বি.কম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, আদিত্য নাকি ভাট্টিগোষ্ঠীর নির্দেশে কাজ করতেন এবং পাকিস্তানি জঙ্গি হামিম ও তার সহযোগী অর্পিতা-র কাছে বিভিন্ন তথ্য পৌঁছে দিতেন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থানের ছবি সংগ্রহ করে পাঠানোর কাজেও যুক্ত ছিলেন।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ, রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাই এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃত আদিত্য নাকি মন্ত্রীর বাড়ি, ব্যবহৃত গাড়ি এবং যাতায়াত সংক্রান্ত ছবি তুলে পাকিস্তানি জঙ্গি হামিমের কাছে পাঠিয়েছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, কোনও সম্ভাব্য হামলার ছক কষা হচ্ছিল কি না।
এদিকে, ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হওয়া পাকিস্তানি জঙ্গি হামিম এবং তার বান্ধবী অর্পিতাকে জেরা করছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। গতকাল তিন সদস্যের একটি এনআইএ দল কলকাতার এসটিএফ দফতরে গিয়ে দু'জনকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে। জেরায় তাঁদের ডিজিটাল ডিভাইস, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রটি কেবল তথ্য সংগ্রহেই সীমাবদ্ধ ছিল না; দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারি স্থাপনা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য বিদেশে পাচারের একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই এনআইএ, এসটিএফ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলি যে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করছে, সেগুলি এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ধৃতদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াতেই চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।