নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দীর্ঘ ৫০ বছরের পথচলা। নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে অর্ধশতাব্দী পূর্ণ করল জামতলা ইয়ং স্টাফ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। সংগঠনের ৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হল বর্ণাঢ্য সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব অনুষ্ঠানের। এই বিশেষ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন। ভারত সেবাশ্রম সংঘের অধ্যক্ষ স্বামী অধ্যাত্মানন্দজী মহারাজের উপস্থিতিতে মণ্ডপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
এই বিশেষ অনুষ্ঠানে স্বামী অধ্যাত্মানন্দজী মহারাজ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শ্রীযুক্ত অনিমেষ ঘোরামী, আচার্য শ্রীযুক্ত কার্ত্তিক চক্রবর্তী, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য প্রসাদ গায়েন, ক্লাব সম্পাদক সমীর কুমার মাইতি, ক্লাব সভাপতি সুদীপ্ত হালদার এবং বর্তমান পুজো কমিটির সম্পাদক রাজীব দলুই। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সংগঠনের সদস্য এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পুজো মণ্ডপে ফিতে কেটে এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে। অতিথিদের উপস্থিতিতে সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের শুভ সূচনা হয়। ৫০ বছরের এই দীর্ঘ পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে সংগঠনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় একাধিক উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানের অতীতের স্মৃতি, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং আগামী দিনের পরিকল্পনাকে ঘিরে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে ছিল বিশেষ উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
উৎসবের জাঁকজমকের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পায় মানবসেবা ও সমাজকল্যাণের বিষয়টি। ভারত সেবাশ্রম সংঘের অধ্যক্ষ স্বামী অধ্যাত্মানন্দজী মহারাজের উদ্যোগে দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের হাতে বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। উৎসবের আনন্দকে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার এই উদ্যোগ উপস্থিত সকলের প্রশংসা লাভ করে।
শুধু পুজো বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও যে একটি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সেই বার্তাই তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে সুবর্ণ জয়ন্তীর মতো গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষকে মানবকল্যাণের কাজে যুক্ত করার উদ্যোগ অনুষ্ঠানে এক আলাদা মাত্রা যোগ করে।
একটি সামাজিক সংগঠনের পক্ষে টানা ৫০ বছর ধরে নিজেদের কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক ঐতিহ্য বজায় রাখা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জামতলা ইয়ং স্টাফ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির এই অর্ধশতাব্দীর পথচলা সেই ধারাবাহিকতারই স্মারক। বিভিন্ন সময়ে পুজো, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি এলাকার মানুষের সঙ্গে যুক্ত থেকেছে।
সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের মাধ্যমে সেই দীর্ঘ পথচলাকে নতুন করে স্মরণ করার সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি আগামী দিনেও সামাজিক দায়বদ্ধতা, সম্প্রীতি এবং মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা উঠে আসে অনুষ্ঠানে।
জামতলা ইয়ং স্টাফ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় আনন্দ ও উৎসাহের পরিবেশ। বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি, মণ্ডপ উদ্বোধন, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং দুঃস্থ মানুষের হাতে বস্ত্র বিতরণ—সব মিলিয়ে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন হয়ে ওঠে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
জামতলা ইয়ং স্টাফ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব শুধুমাত্র ৫০ বছর পূর্তির উদযাপনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং মানবসেবা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তাও ছড়িয়ে দিয়েছে। সংগঠনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত আগামী দিনেও এলাকার মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।