Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
বহরমপুরের ভাকুড়ির বকুলতলায় প্রাচীন মায়ের মন্দিরে ভক্তদের ঢল, উলুধ্বনি ও ঢাকের আওয়াজে মুখরিত মন্দির প্রাঙ্গণ   •   বস্ত্র বিতরণ, নাকি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের হাতিয়ার? মানবিকতার আসল পরিচয় কি ছবির ফ্রেমে, নাকি নিঃস্বার্থ সাহায্যে?   •   আল্পনা ডিঙিয়ে ফ্ল্যাটে চুরি! হলুদ গ্লাভস, মুখ ঢাকা, হাতে কাস্তে-লোহার রড নিয়ে চার দুষ্কৃতী, সিসিটিভি দেখে হতবাক দুর্গাপুর   •   দূষণে শ্বাসরুদ্ধ কলকাতা! শহর কি ফের পরিণত হচ্ছে ‘যক্ষ্মা নগরী’তে? বায়ুদূষণ নিয়ে সরব অধীর রঞ্জন চৌধুরী   •   গড়িয়ায় লিভ-ইন পার্টনারকে কুপিয়ে খুন! গ্রেফতার তরুণী ও তাঁর মা, চাঞ্চল্য ফর্তাবাদে   •   মন্দিরবাজারে ‘নবকালী’ থিমে নজরকাড়া শ্যামাপুজো, স্বামীজি সংঘের উদ্যোগে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ

প্রতিদিন হাঁটলেই মিলবে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের একাধিক উপকার, তবে হাঁটার সুফল বাড়াতে মানতে হবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

08 Nov 2026
08:49 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  সুস্থ থাকতে গেলে যে সব সময় জিমে গিয়ে কঠোর শরীরচর্চা করতে হবে, এমনটা নয়। প্রতিদিনের সাধারণ হাঁটাও শরীর ও মন ভালো রাখার অন্যতম সহজ এবং কার্যকর উপায়। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে শুধু হাঁটলেই হবে না, প্রতিটি হাঁটা থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে হাঁটার সময়, গতি, ভঙ্গি এবং নিয়মিততার দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে।

হাঁটার ফলে শরীরের কী কী উপকার হয়?

হাঁটা একটি সহজ অ্যারোবিক ব্যায়াম। এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত হাঁটলে হৃদ্‌যন্ত্রের কার্যক্ষমতা ভালো থাকে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ হয়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যাঁরা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করেন, তাঁদের জন্য হাঁটা বিশেষভাবে উপকারী। দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকার ফলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রতিদিন কিছুটা সময় হাঁটলে পেশি সক্রিয় থাকে এবং শরীরের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

নিয়মিত হাঁটা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে খাবারের পর অল্প সময় হাঁটলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হাঁটা

শুধু শারীরিক স্বাস্থ্য নয়, মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও হাঁটার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন কিছুটা সময় খোলা পরিবেশে হাঁটলে মন সতেজ হয়। মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি কমাতে হাঁটা সাহায্য করতে পারে।

হাঁটার সময় শরীরে বিভিন্ন রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, যা মেজাজ ভালো রাখতে সহায়তা করে। প্রকৃতির মধ্যে হাঁটা, সবুজ গাছপালা দেখা কিংবা সকালের নির্মল বাতাস উপভোগ করার ফলে মানসিক প্রশান্তিও পাওয়া যায়।

অনেকের ক্ষেত্রে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস ঘুমের মান উন্নত করতেও সাহায্য করে। ফলে দিনের কাজের পর শরীর ও মন দুটোই তুলনামূলকভাবে সতেজ থাকে।

প্রতিদিন কতক্ষণ হাঁটা উচিত?

স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপের পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচ দিন দ্রুত হাঁটা একটি ভালো লক্ষ্য হতে পারে।

তবে যাঁরা নতুন করে হাঁটা শুরু করছেন, তাঁদের প্রথম দিন থেকেই দীর্ঘক্ষণ হাঁটার প্রয়োজন নেই। প্রথমে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটা দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। ধীরে ধীরে সময় ও হাঁটার গতি বাড়ানো উচিত।

হাঁটার সুফল বাড়াতে মানতে হবে কয়েকটি নিয়ম

১. সঠিক গতিতে হাঁটুন: হাঁটার সময় এমন গতি বজায় রাখুন যাতে শ্বাসপ্রশ্বাস কিছুটা দ্রুত হয়, কিন্তু কথা বলতে অসুবিধা না হয়। এই ধরনের মাঝারি গতির হাঁটা শরীরের জন্য উপকারী।

২. শরীরের ভঙ্গির দিকে নজর দিন: হাঁটার সময় পিঠ সোজা রাখুন, কাঁধ স্বাভাবিক অবস্থায় রাখুন এবং সামনের দিকে তাকিয়ে হাঁটুন। অযথা নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।

৩. আরামদায়ক জুতো ব্যবহার করুন: হাঁটার সময় উপযুক্ত ও আরামদায়ক জুতো পরা অত্যন্ত জরুরি। এতে পায়ের উপর অতিরিক্ত চাপ কমে এবং হাঁটার সময় অস্বস্তির সম্ভাবনা কমে।

৪. হাঁটার আগে ও পরে শরীরকে প্রস্তুত করুন: হাঁটা শুরু করার আগে কয়েক মিনিট ধীরে হাঁটুন। শেষে গতি কমিয়ে ধীরে ধীরে হাঁটা শেষ করুন। প্রয়োজনে হালকা স্ট্রেচিং করতে পারেন।

৫. নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন: সপ্তাহে একদিন অনেকক্ষণ হাঁটার চেয়ে প্রতিদিন বা সপ্তাহের অধিকাংশ দিন নির্দিষ্ট সময় ধরে হাঁটা বেশি কার্যকর।

৬. পর্যাপ্ত জল পান করুন: হাঁটার আগে ও পরে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী জল পান করুন। বিশেষ করে গরমের দিনে বা দীর্ঘক্ষণ হাঁটার সময় জলশূন্যতা এড়ানো জরুরি।

খাবারের পর হাঁটা কি উপকারী?

খাবারের পর অল্প সময় হালকা গতিতে হাঁটা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে দুপুর ও রাতের খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা হাঁটার অভ্যাস অনেকের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই দ্রুত গতিতে হাঁটা বা কঠোর ব্যায়াম করা উচিত নয়।

হাঁটার সময় কোন বিষয়গুলিতে সতর্ক থাকবেন?

হাঁটার সময় শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দিতে হবে। অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, বুকব্যথা বা অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট হলে হাঁটা বন্ধ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে। যাঁদের আগে থেকে হৃদ্‌রোগ, হাঁটুর সমস্যা বা অন্য কোনও শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে, তাঁদের হাঁটার সময় ও গতি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য হাঁটা অত্যন্ত সহজ, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর একটি অভ্যাস। এর জন্য দামি সরঞ্জাম বা বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন শুধু প্রতিদিন কিছুটা সময় নিজের শরীর ও মনের জন্য বরাদ্দ করা।

মনে রাখতে হবে, সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে একদিন অনেকটা হাঁটার চেয়ে প্রতিদিন নিয়ম মেনে হাঁটার অভ্যাস অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক গতি, উপযুক্ত জুতো, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে আপনিও পেতে পারেন সুস্থ ও সক্রিয় জীবনের চাবিকাঠি।