Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
নৃশংসভাবে নিহত শিশুর পরিবারের পাশে শুভেন্দু অধিকারী, ‘লোকধর্ম পালনের’ বার্তা   •   চোরবাগান দুর্ঘটনায় নিহত ১৯ জনের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী, শোকাহত স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সহায়তার আশ্বাস   •   প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থেকেও সুবিধা ধরে রাখতে পারল না বাংলাদেশ   •   চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে গ্লেন ফিলিপসের বিধ্বংসী শতরান! ৪৯ বলে ১০৭ রানের ইনিংসে ভারতের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের বড় জয়, ৮৭ রানে হারল টিম ইন্ডিয়া   •   বয়স বাড়লেই কি চুল পাতলা হতে শুরু করে? বদলে যায় চুলের ঘনত্ব, গঠন ও কোঁকড়ানো ভাব! জানুন কেন চুল ঝরে এবং কীভাবে যত্ন নেবেন   •   ওষুধ ছাড়াও কি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব উচ্চ রক্তচাপ? নিয়মিত ব্যায়ামেই কমতে পারে ব্লাড প্রেশার, জেনে নিন কোন ব্যায়াম কতটা উপকারী

চোরবাগান দুর্ঘটনায় নিহত ১৯ জনের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী, শোকাহত স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সহায়তার আশ্বাস

31 Oct 2026
06:06 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এক মুহূর্তে বহু পরিবার হারিয়েছে তাঁদের প্রিয়জনকে। শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা সেই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দুঃখ-যন্ত্রণা শোনেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

১৭ অক্টোবর, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপুজো মণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। উৎসবের আবহে ঠাকুর দেখতে আসা বহু মানুষ আচমকা বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে যান। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আগেই ঘটে যায় প্রাণঘাতী বিপর্যয়। ১৯ জনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়। নিহতদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বিহারের বাসিন্দারাও ছিলেন। 

স্বজনহারাদের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা

দুর্ঘটনার পর থেকেই নিহতদের পরিবারগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। কোথাও বাবা-মা ও সন্তানকে একসঙ্গে হারানো পরিবারের সদস্যদের পাশে বসে তাঁদের কথা শোনেন, কোথাও আবার পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে হারিয়ে বিপাকে পড়া স্বজনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন।

পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহির বীরপুর গ্রামে গিয়ে টগর বেজ ও তাঁর কিশোর পুত্র সন্দীপ বেজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্ঘটনায় মা ও ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি কার্যত দিশাহারা। তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। প্রশাসনের তরফে পরিবারের হাতে মোট ৫০ লক্ষ টাকার দুটি চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবারের একজনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দেওয়া হয়।

এ ছাড়া উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ বিভিন্ন এলাকার নিহতদের পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিটি পরিবারের পরিস্থিতি আলাদা হলেও সবার মধ্যেই রয়েছে একই শোক—হঠাৎ করে প্রিয়জনকে হারানোর যন্ত্রণা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কথা শোনেন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

আর্থিক সাহায্য ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি

চোরবাগান দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। প্রতিটি মৃতের পরিবারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের উপযুক্ত একজন সদস্যের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে। যেসব পরিবারে একাধিক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে, সেখানে ক্ষতিপূরণের অঙ্কও সেই অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, আর্থিক সাহায্য দিয়ে কোনও মানুষের মৃত্যু বা স্বজন হারানোর শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু বিপর্যয়ের পরে পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সাহায্য করা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হচ্ছে।

বিশেষ করে যেসব পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের সামনে নতুন করে সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তাই আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিও অনেক পরিবারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস

শুধু ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন নয়, চোরবাগানের দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করার বিষয়টিও সামনে এসেছে। কীভাবে পুজোমণ্ডপে এত বড় ভিড় তৈরি হল, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ কতটা উপযুক্ত ছিল, ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং বিপর্যয়ের মুহূর্তে প্রশাসনিক তৎপরতা কতটা কার্যকর ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি।

এই ঘটনার তদন্তের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়েছে। কমিটি দুর্ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দেবে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাঁদের গাফিলতির কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকুক না কেন, তদন্তে তা উঠে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহতদের পরিবারের কয়েকজন সদস্যও ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, শুধু আর্থিক সাহায্য পেলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কী কারণে এত মানুষের প্রাণ গেল এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সেই প্রশ্নগুলিরও স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন।

পরিবারের সদস্যদের কাছে সবচেয়ে বড় ক্ষতি প্রিয়জনকে হারানো

চোরবাগানের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায়, তাঁদের জীবনে এই দুর্ঘটনা কতটা গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। অনেকেই পুজোর আনন্দে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন। কেউ ঠাকুর দেখতে বেরিয়েছিলেন, কেউ আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের বিশৃঙ্খলা তাঁদের জীবনের সব হিসাব বদলে দিয়েছে।

কোনও পরিবার হারিয়েছে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীকে, কোনও পরিবার হারিয়েছে সন্তানকে, আবার কোথাও একসঙ্গে একাধিক সদস্যের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে দেখা করা ও তাঁদের কথা শোনাকে প্রশাসনের তরফে পাশে থাকার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে স্বজনহারাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা। ক্ষতিপূরণের টাকা, চাকরির ব্যবস্থা এবং সরকারি সহায়তা বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব পরিবারে শিশু বা বৃদ্ধ সদস্য রয়েছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় নিয়মিত প্রশাসনিক নজরদারি প্রয়োজন।

ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় ঠেকাতে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

চোরবাগানের দুর্ঘটনা আবারও বড় উৎসব ও জনসমাগমের জায়গায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে। দুর্গাপুজোর মতো উৎসবে প্রতিদিন বহু মানুষ মণ্ডপে ভিড় করেন। তাই প্রবেশ ও বেরোনোর পথ আলাদা রাখা, জরুরি নির্গমনপথ খোলা রাখা, ভিড়ের চাপ পর্যবেক্ষণ, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক ও প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পুলিশ বা স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করলেই ভিড় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মণ্ডপের নকশা, প্রবেশপথের প্রস্থ, দর্শনার্থীদের চলাচলের দিক, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ—সবকিছু পরিকল্পনার মধ্যে রাখতে হয়। বড় উৎসবের আগে আয়োজক, প্রশাসন, পুলিশ, দমকল ও স্বাস্থ্য বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ও প্রয়োজন।

চোরবাগানের তদন্তে এসব বিষয় কতটা গুরুত্ব পায়, তা এখন দেখার। তদন্তের রিপোর্টে যদি কোনও ত্রুটি বা গাফিলতির কথা উঠে আসে, তবে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

শোকের সময়ে পাশে থাকার বার্তা

চোরবাগানের ১৯ জনের মৃত্যু শুধু কয়েকটি পরিবারের ব্যক্তিগত বিপর্যয় নয়, রাজ্যের মানুষের কাছেও গভীর শোকের ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের কথা শুনেছেন এবং আর্থিক সহায়তা ও কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য তদন্তের কথাও জানিয়েছেন।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ঘোষিত সহায়তা যেন দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পরিবারের হাতে পৌঁছয় এবং প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থানের বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়। তদন্তের রিপোর্টও যেন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকাশিত হয় এবং তার সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

প্রিয়জনকে হারানোর শোক কোনও ক্ষতিপূরণে মুছে যায় না। তবু বিপর্যস্ত পরিবারগুলির পাশে দীর্ঘদিন ধরে থাকা, তাঁদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করা এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়াই এখন প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।