Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
দাসপুরের সাগরপুরে ৭৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুজো ও শারদ মেলার উদ্বোধন, উপস্থিত পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ   •   অতিরিক্ত ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্টে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিপদ এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ   •   একজন পুষ্টিবিদের মতে, হলুদ মেশানো জল পানের ৭টি সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা   •   অবিভক্ত ভারতের নোয়াখালীর ইতিহাসের এক টুকরো গল্প, দীপ প্রকাশনের হাত ধরে প্রকাশিত হলো ‘নোয়াখালির সন্তান রুস্তম খান’   •   সপরিবারে বাড়ির লক্ষ্মীপুজোয় দেবদৃতা, অঞ্জলি দিয়ে মায়ের কাছে জানালেন প্রার্থনা   •   বইয়ের স্টলে হামলার প্রতিবাদে শিলিগুড়িতে বামপন্থীদের বিশাল মিছিল, ‘বই পড়ুন, বই বাঁচান’ স্লোগানে সরব বাম নেতৃত্ব

বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ! ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা, ২৮ ও ২৯ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

25 Oct 2026
08:36 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে আবহাওয়ার পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। এই নিম্নচাপের প্রভাবে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আবহাওয়ার বড়সড় পরিবর্তন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে না পড়লেও পরোক্ষ প্রভাবে রাজ্যের একাধিক জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। বিশেষ করে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, শক্তি এবং বৃষ্টির সঠিক পূর্বাভাস জানতে আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিনের দিকে নজর রাখা জরুরি।

বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ অনুকূল আবহাওয়া পরিস্থিতিতে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। সেটি শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, কিংবা কোন উপকূলের দিকে এগোবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী সময়ের আবহাওয়াগত পরিস্থিতির উপর। সম্ভাব্য গতিপথ হিসেবে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কথা উঠে আসছে। তবে নিম্নচাপের অবস্থান ও গতিপথের সামান্য পরিবর্তনও বৃষ্টির বিস্তার এবং বাতাসের গতিবেগে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলাগুলির পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকা, মাঝেমধ্যে বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও ঝোড়ো হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কোন কোন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা?

প্রাপ্ত পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর বিকেল থেকে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। উপকূলবর্তী অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এরপর ২৮ ও ২৯ অক্টোবর বৃষ্টির পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া এবং ঝাড়গ্রাম-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টিও হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে সব জেলায় একই রকম বৃষ্টি হবে, এমনটা নিশ্চিত নয়। স্থানীয় আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং নিম্নচাপের গতিপথের উপর নির্ভর করে বৃষ্টির তীব্রতা ও স্থায়িত্বে পার্থক্য হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট জেলার জন্য জারি করা সতর্কবার্তা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া

বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। এই ধরনের পরিস্থিতিতে গাছের ডাল ভেঙে পড়া, অস্থায়ী কাঠামোর ক্ষতি এবং নিচু এলাকায় জল জমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে উপকূলবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ঝোড়ো হাওয়া চলাকালীন খোলা জায়গায় থাকা, দুর্বল গাছের নিচে দাঁড়ানো এবং অস্থায়ী ছাউনি বা বিদ্যুতের খুঁটির কাছাকাছি অবস্থান করা এড়িয়ে চলা উচিত। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হলে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাও জরুরি।

৩০ অক্টোবর থেকে পাহাড়েও বৃষ্টির সম্ভাবনা

দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। ৩০ অক্টোবর থেকে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। সিকিমের গ্যাংটক-সহ পাহাড়ি অঞ্চলেও আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পাহাড়ি এলাকায় বৃষ্টির জেরে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়া, দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া এবং কোথাও কোথাও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ফলে যাঁরা এই সময় দার্জিলিং, কালিম্পং বা সিকিমে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের যাত্রার আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়া উচিত। পরিস্থিতি খারাপ হলে স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শ অনুযায়ী ভ্রমণের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

কৃষি ও দৈনন্দিন জীবনেও পড়তে পারে প্রভাব

একটানা বৃষ্টি হলে কৃষিকাজ, পরিবহণ এবং সাধারণ জনজীবনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। নিচু এলাকায় জল জমলে যান চলাচলে সমস্যা হতে পারে। শহরাঞ্চলে নিকাশি ব্যবস্থা দুর্বল হলে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কৃষকদের ক্ষেতের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া এবং খোলা জায়গায় রাখা কৃষি সরঞ্জাম ও ফসল সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা উচিত। সাধারণ মানুষকেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় যাতায়াত না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কী বলছে পরিস্থিতি?

বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপের সম্ভাব্য গতিপথ এবং শক্তির পরিবর্তনের উপরই আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়া অনেকাংশে নির্ভর করবে। আপাতত ২৭ অক্টোবর বিকেল থেকে উপকূলবর্তী কয়েকটি জেলায় বৃষ্টি এবং ২৮ ও ২৯ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। ৩০ অক্টোবর থেকে পাহাড়ি এলাকাতেও বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

তবে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হওয়া মানেই তা নিশ্চিতভাবে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে, এমন নয়। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ, শক্তি এবং জেলাভিত্তিক সতর্কতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (IMD) সর্বশেষ সরকারি বুলেটিন যাচাই করা জরুরি।

আবহাওয়ার এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলা, ভারী বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা এবং পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিয়মিত আবহাওয়ার আপডেট অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।