Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
মগরাহাট পশ্চিমে রাজবল্লভপুর বাজারের বিজেপি কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শুনলেন দলীয় কার্যকর্তারা   •   জিও আইপিও ঘিরে আগ্রহ, টেলিকম পরিষেবার বাইরেও বিস্তৃত ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের সম্ভাবনা   •   নিয়ামতপুর বাজারে ফুড সেফটি দফতর ও পুলিশের যৌথ অভিযান, ফেলে দেওয়া হল মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা ও রং মেশানো খাবার   •   আমতা-২-এর ‘লক্ষ্মীগ্রাম’ খালনায় ঐতিহ্যবাহী কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর উদ্বোধন, উপস্থিত মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও লকেট চট্টোপাধ্যায়   •   দাসপুরের সাগরপুরে ৭৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুজো ও শারদ মেলার উদ্বোধন, উপস্থিত পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ   •   অতিরিক্ত ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্টে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিপদ এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ

দাসপুরের সাগরপুরে ৭৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুজো ও শারদ মেলার উদ্বোধন, উপস্থিত পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

25 Oct 2026
10:20 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  ঐতিহ্য, ধর্মীয় আচার, সামাজিক সম্প্রীতি ও গ্রামীণ সংস্কৃতির মেলবন্ধনে উৎসবমুখর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর বিধানসভার অন্তর্গত সাগরপুর। সাগরপুর পল্লী উন্নয়ন সমিতির পরিচালনায় ৭৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী লক্ষ্মীপুজো ও শারদ মেলা ২০২৬-এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। পুজো ও মেলাকে কেন্দ্র করে এলাকার মানুষের মধ্যে দেখা যায় উৎসাহ ও উদ্দীপনা। দীর্ঘদিনের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্তের মানুষের সমাগমও বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুরের সাগরপুরের লক্ষ্মীপুজো শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, দীর্ঘদিন ধরে এই উৎসব এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে। পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরই মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি হয়। বিভিন্ন বয়সের মানুষ, পরিবারের সদস্য এবং দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা এই উৎসবে অংশ নেন। পুজোর পাশাপাশি মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের আবহ উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

এবার ৭৫ বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলা এই পুজো ও শারদ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উৎসবের আনন্দে শামিল হন দিলীপ ঘোষ। পুজোকে ঘিরে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি গ্রামের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগও হয় তাঁর। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনকে শক্তিশালী করার যে প্রয়াস এই ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়, সাগরপুরের লক্ষ্মীপুজো তারই একটি পরিচিত উদাহরণ।

৭৫ বছরের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ সাগরপুরের লক্ষ্মীপুজো

বাংলার গ্রামাঞ্চলে লক্ষ্মীপুজোকে ঘিরে বহু প্রাচীন ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর অঞ্চলেও সর্বজনীন লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। সাগরপুর পল্লী উন্নয়ন সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজো তার প্রাচীনত্ব, জনসম্পৃক্ততা এবং সামাজিক গুরুত্বের কারণে এলাকার মানুষের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

পুজোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বহু মানুষের আবেগ ও স্মৃতি। বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এই উৎসবের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত রেখেছেন। নতুন প্রজন্মও সেই ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অংশীদার হচ্ছে। ফলে পুজোটি কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা হয়ে উঠেছে এলাকার মানুষের একত্রিত হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনেও সাগরপুর পল্লী উন্নয়ন সমিতির লক্ষ্মীপুজোর দীর্ঘ ঐতিহ্য এবং পুজোকে কেন্দ্র করে সপ্তাহব্যাপী মেলার কথা উঠে এসেছে।  এই ধারাবাহিকতা থেকেই বোঝা যায়, সাগরপুরের লক্ষ্মীপুজো স্থানীয় সংস্কৃতি ও জনজীবনের সঙ্গে কতটা নিবিড়ভাবে যুক্ত।

পুজোকে কেন্দ্র করে সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা

সাগরপুরের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। পুজোকে কেন্দ্র করে এলাকার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ একত্রিত হন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়, পরিচিতদের সঙ্গে দেখা হওয়া এবং নতুন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।

উৎসবের এই আবহে সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। গ্রামের মানুষের কাছে লক্ষ্মীপুজো শুধু দেবীর আরাধনার দিন নয়, এটি একে অপরের পাশে দাঁড়ানো, আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার উপলক্ষ।

দূরদূরান্ত থেকে মানুষের আগমন মেলাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। বিভিন্ন দোকান, মেলার আয়োজন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসবের পরিবেশ ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। গ্রামীণ অর্থনীতি ও স্থানীয় ব্যবসার ক্ষেত্রেও এই ধরনের মেলার ইতিবাচক ভূমিকা থাকতে পারে।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এলাকার শিল্প-সংস্কৃতির প্রকাশ

শ্রীশ্রী লক্ষ্মীপুজো ও শারদ মেলাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। পুজোর ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে স্থানীয় শিল্প-সংস্কৃতি ও মানুষের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে।

গ্রামীণ মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সাধারণত বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষকে একত্রিত করে। গান, নাচ, আবৃত্তি এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উৎসবের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রতিভাদের সামনে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।

সাগরপুরের এই ঐতিহ্যবাহী পুজোকে ঘিরেও সাংস্কৃতিক আয়োজন উৎসবের আবহকে সমৃদ্ধ করেছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির এই সমন্বয়ই বাংলার গ্রামীণ উৎসবের অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য।

গ্রামের মানুষের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে দিলীপ ঘোষ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিশেষ মুহূর্তগুলির মধ্যে ছিল গ্রামের মানুষের সঙ্গে পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাওয়া, তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

গ্রামীণ সমাজে একসঙ্গে বসে আহার করার মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক সম্পর্ক ও আন্তরিকতার প্রকাশ। ধর্মীয় উৎসবের সময় এই ধরনের মিলন মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়াতে সাহায্য করে। জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানো তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের একটি সুযোগ তৈরি করে।

সাগরপুরের এই অনুষ্ঠানে গ্রামের মানুষের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা উৎসবের স্মরণীয় মুহূর্তগুলির একটি হয়ে ওঠে। পুজো ও মেলার আনন্দের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে মিশে যাওয়ার এই পর্ব অনুষ্ঠানের সামাজিক তাৎপর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণে এমন উৎসবের গুরুত্ব

বর্তমান সময়ে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে গ্রামীণ সমাজের জীবনযাত্রা। প্রযুক্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থানের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও এসেছে নানা রকম বদল। এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলি স্থানীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনকে ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাগরপুর পল্লী উন্নয়ন সমিতির পরিচালিত লক্ষ্মীপুজো ও শারদ মেলা সেই দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ ৭৫ বছরের ধারাবাহিকতা একটি উৎসবের সঙ্গে বহু প্রজন্মের মানুষের আবেগ ও স্মৃতির সম্পর্ককে তুলে ধরে। এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম নিজেদের এলাকার ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।

পুজোকে কেন্দ্র করে মেলা বসা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন এবং বিভিন্ন গ্রামের মানুষের সমাগম স্থানীয় জনজীবনকে আরও সক্রিয় করে তোলে। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসায়ী ও মেলার দোকানদারদের জন্যও তৈরি হয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ।

উৎসবের আনন্দে একসূত্রে সাগরপুর

সব মিলিয়ে, সাগরপুর পল্লী উন্নয়ন সমিতির ৭৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী লক্ষ্মীপুজো ও শারদ মেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ধর্মীয় আবেগ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির এক সুন্দর মেলবন্ধন হিসেবে উঠে এসেছে। পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের উপস্থিতি, গ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর সময় কাটানো এবং মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই পুজো শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি সাগরপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষের মিলনক্ষেত্র। পুজো, মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে যে আনন্দ ও ঐক্যের পরিবেশ তৈরি হয়, তা বাংলার গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

৭৫ বছরের এই পথচলা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকুক—এমন প্রত্যাশাই এলাকার মানুষের। ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে সাগরপুরের এই লক্ষ্মীপুজো ও শারদ মেলা ভবিষ্যতেও এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।