Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
মগরাহাট পশ্চিমে রাজবল্লভপুর বাজারের বিজেপি কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শুনলেন দলীয় কার্যকর্তারা   •   জিও আইপিও ঘিরে আগ্রহ, টেলিকম পরিষেবার বাইরেও বিস্তৃত ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের সম্ভাবনা   •   নিয়ামতপুর বাজারে ফুড সেফটি দফতর ও পুলিশের যৌথ অভিযান, ফেলে দেওয়া হল মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা ও রং মেশানো খাবার   •   আমতা-২-এর ‘লক্ষ্মীগ্রাম’ খালনায় ঐতিহ্যবাহী কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর উদ্বোধন, উপস্থিত মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও লকেট চট্টোপাধ্যায়   •   দাসপুরের সাগরপুরে ৭৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুজো ও শারদ মেলার উদ্বোধন, উপস্থিত পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ   •   অতিরিক্ত ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্টে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিপদ এড়াতে সতর্ক থাকার পরামর্শ

বইয়ের স্টলে হামলার প্রতিবাদে শিলিগুড়িতে বামপন্থীদের বিশাল মিছিল, ‘বই পড়ুন, বই বাঁচান’ স্লোগানে সরব বাম নেতৃত্ব

25 Oct 2026
09:38 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  রাজ্যজুড়ে শারদ উৎসবের সময় বামপন্থীদের বই বিক্রয় কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর এবং বইয়ের অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার শিলিগুড়িতে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল করল দার্জিলিং জেলা বামপন্থী দলসমূহ। ‘বই পড়ুন, বই বাঁচান—পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে রক্ষা করুন’—এই আহ্বানকে সামনে রেখে মিছিলে শামিল হন বামপন্থী নেতা-কর্মী, ছাত্র-যুব, মহিলা, শিক্ষক, লেখক, শিল্পী-সাহিত্যিক-সহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ। বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, বই বিক্রয় কেন্দ্রের উপর আক্রমণ আসলে মুক্তচিন্তা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং বাংলার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপর আঘাত।

দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বামপন্থী সংগঠনগুলির বইয়ের স্টল ঘিরে একাধিক অশান্তির অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও বইয়ের স্টলে বাধা দেওয়া, কোথাও ভাঙচুরের চেষ্টা, আবার কোথাও বইয়ের অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। বামপন্থী দলগুলির দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাদের বই বিক্রির উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাদের অভিযোগের তির বিজেপি ও আরএসএসের দিকে। যদিও এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে এবং ঘটনার দায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও সামনে এসেছে।

এই আবহে শিলিগুড়ির রাস্তায় প্রতিবাদে নামলেন বামপন্থীরা। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু সেই বিরোধিতার নামে বই বিক্রিতে বাধা দেওয়া বা বইয়ের স্টলে হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেকের নিজের মত প্রকাশ, পছন্দের বই পড়া এবং মতাদর্শ প্রচারের অধিকার থাকা উচিত। সেই অধিকার রক্ষার দাবিতেই এই মিছিল বলে জানিয়েছেন বাম নেতৃত্ব।

বাঘাযতীন পার্ক থেকে মিছিল, শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা

শনিবার বিকেল প্রায় পাঁচটা নাগাদ শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। দার্জিলিং জেলা বামপন্থী দলসমূহের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন বাম দলের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি বাঘাযতীন পার্ক থেকে বেরিয়ে কোর্ট মোড়, হাসপাতাল মোড় এবং হাসমিচক হয়ে হিলকার্ট রোড ধরে এগিয়ে যায়। পরে সেবক মোড় পেরিয়ে এয়ার ভিউ মোড়ে গিয়ে মিছিলের সমাপ্তি ঘটে।

মিছিলের সামনে ছিলেন সিপিআইএমের প্রবীণ নেতা অশোক ভট্টাচার্য, সিপিআইএমের রাজ্য কমিটির সদস্য জীবেশ সরকার, নুরুল ইসলাম, দিলীপ সিং ও জয় চক্রবর্তী। পাশাপাশি আরএসপির তাপস গোস্বামী, ফরওয়ার্ড ব্লকের অনিরুদ্ধ বসু, সিপিআইয়ের অনিমেষ ব্যানার্জি ও লক্ষ্মী মাহাতো এবং এসইউসিআইয়ের গৌতম ভট্টাচার্য-সহ বিভিন্ন বাম সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

মিছিলের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বইয়ের স্টলে হামলার অভিযোগের প্রতিবাদ জানানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল প্রতিবাদী স্লোগান ও বই বাঁচানোর আহ্বান। বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। সেই বইয়ের উপর আক্রমণ কোনও একটি রাজনৈতিক দলের উপর আক্রমণ নয়, বরং বৃহত্তর সমাজের চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত।

‘বই পড়ুন, বই বাঁচান’—মিছিল থেকে ঐক্যের আহ্বান

এই প্রতিবাদ মিছিলের প্রধান স্লোগান ছিল, ‘বই পড়ুন, বই বাঁচান—পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে রক্ষা করুন।’ বাম নেতৃত্বের মতে, বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে বই, সাহিত্য, নাটক, কবিতা, যুক্তিবাদী আলোচনা এবং বিভিন্ন মতাদর্শের সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে। তাই কোনও নির্দিষ্ট মতাদর্শের বই পছন্দ না হলে তার বিরোধিতা করার অধিকার থাকলেও বই নষ্ট করা বা বিক্রিতে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

বামপন্থীদের দাবি, শারদ উৎসবের সময় বইয়ের স্টল বহু বছর ধরেই বাংলার সাংস্কৃতিক পরিসরের একটি পরিচিত অংশ। পুজোর মণ্ডপ দেখতে আসা মানুষ প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি বই কেনেন, পত্রপত্রিকা পড়েন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এই স্টলগুলি শুধু বই বিক্রির কেন্দ্র নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তাভাবনার আদানপ্রদানেরও একটি মাধ্যম।

তাঁদের বক্তব্য, উৎসবের আনন্দের মধ্যে বইয়ের স্টলকে ঘিরে অশান্তি তৈরি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলার সাংস্কৃতিক পরিবেশে মতের বৈচিত্র্যকে সম্মান করার যে ঐতিহ্য রয়েছে, তা অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি। সেই কারণেই বামপন্থীরা দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষকে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

জীবেশ সরকারের অভিযোগ, মুক্তচিন্তার উপর আক্রমণ

মিছিলে অংশ নিয়ে সিপিআইএমের রাজ্য কমিটির প্রবীণ নেতা জীবেশ সরকার অভিযোগ করেন, বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে যে ধরনের ঘটনা ঘটছে, তা মুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক ভাবনার উপর আক্রমণের শামিল। তাঁর বক্তব্য, শিলিগুড়ির মতো শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে বই পড়া, আলোচনা এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা গভীরভাবে যুক্ত। সেই পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে একজোট হতে হবে।

জীবেশ সরকারের অভিযোগ, বইয়ের স্টলে হামলার ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে চলবে না। তাঁর মতে, বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন বলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। কোনও বইয়ের বক্তব্য নিয়ে আপত্তি থাকলে তার জবাব দেওয়া যেতে পারে যুক্তি, আলোচনা এবং আইনসম্মত পদ্ধতিতে। কিন্তু বইয়ের স্টলে হামলা চালিয়ে বা বই বিক্রি বন্ধ করার চেষ্টা করে সেই বিতর্কের সমাধান করা যায় না।

তিনি আরও জানান, আগামী দিনেও মতাদর্শগত প্রচার এবং সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বামপন্থী দলগুলির। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নে বিভিন্ন মতের মানুষকে একত্রিত করাই এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য।

তবে জীবেশ সরকারের বক্তব্য ও অভিযোগ বামপন্থী নেতৃত্বের অবস্থানকে তুলে ধরে। ঘটনার দায় নির্ধারণ এবং কোনও নির্দিষ্ট সংগঠনের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রমাণ ও প্রশাসনিক তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হিলকার্ট রোডের বইয়ের স্টল ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত

শিলিগুড়িতে এই প্রতিবাদ মিছিলের পেছনে রয়েছে হিলকার্ট রোডে সিপিআইএমের একটি বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর নবমীর রাতে দার্জিলিং জেলা সিপিআইএম কার্যালয় অনিল বিশ্বাস ভবনের সামনে থাকা বইয়ের স্টল ঘিরে কয়েকজন ব্যক্তি আপত্তি জানান। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে লেখা একটি বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তির সূত্র ধরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

বামপন্থীদের অভিযোগ, এরপর স্টল ভাঙার চেষ্টা হয় এবং স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। বাম কর্মী ও স্থানীয় মানুষের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি আরও বড় আকার নেওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আসে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, কোনও বইয়ের বক্তব্য নিয়ে কারও আপত্তি থাকলে লেখক, প্রকাশক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আইনসম্মতভাবে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। কিন্তু বই বিক্রি বন্ধ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা বা স্টল ভাঙার চেষ্টা করা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নয়।

অন্যদিকে, বইটির বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি জানানো ব্যক্তিদের বক্তব্যও সামনে এসেছে। তাঁদের দাবি, বইয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার মতো বক্তব্য রয়েছে। ফলে এই ঘটনাকে ঘিরে শুধু রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘাত নয়, বইয়ের বিষয়বস্তু, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে।

বই বিক্রি ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

শিলিগুড়ির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, কোনও বইয়ের বক্তব্য নিয়ে আপত্তি থাকলে তার মোকাবিলা কীভাবে করা উচিত। একদিকে রয়েছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বই বিক্রির অধিকার; অন্যদিকে রয়েছে কোনও প্রকাশনার বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানানোর অধিকার। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য আইন ও আলোচনার পথই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ।

বামপন্থী দলগুলির বক্তব্য, কোনও বই নিষিদ্ধ না হলে বা আইনত বিক্রিতে বাধা না থাকলে শুধু মতাদর্শগত বিরোধিতার কারণে তার বিক্রি বন্ধ করার দাবি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাঁদের মতে, কোনও বইয়ের বক্তব্যের বিরোধিতা করতে হলে পাল্টা লেখা, আলোচনা, বিতর্ক কিংবা আইনসম্মত অভিযোগের পথ খোলা রয়েছে।

এই বিতর্কে শিলিগুড়ির পর্যটনমন্ত্রী তথা বিধায়ক শঙ্কর ঘোষও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বইয়ের উপর অন্যায় আচরণ তিনি সমর্থন করেন না। তবে একই সঙ্গে বামেদের বইয়ের স্টল ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং প্রচারের বিষয়েও তিনি মন্তব্য করেছেন।

ফলে বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ঘটনাটি এখন বৃহত্তর রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন দলের নেতারা নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছেন, আর সাধারণ মানুষের মধ্যে বইয়ের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।

শিলিগুড়িতে পাল্টা কর্মসূচি, রাজনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত

বামপন্থীদের প্রতিবাদ মিছিলের পর শিলিগুড়িতে পাল্টা কর্মসূচিও হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরএসএস-ঘনিষ্ঠ হিন্দু জাগরণ মঞ্চ শহরের দেশবন্ধুপাড়ায় একটি সভা করে। সংগঠনের প্রতিনিধিরা দাবি করেন, বামপন্থীদের বক্তব্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার অভিযোগ থেকেই প্রতিবাদের সূত্রপাত।

অন্যদিকে, বাম নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বইয়ের স্টল ঘিরে অশান্তি তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং বাংলার সাংস্কৃতিক পরিবেশের উপর আঘাত। এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ফলে শিলিগুড়িতে বইয়ের স্টলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও আলোচনায় এসেছে।

তবে উভয় পক্ষের বক্তব্যের মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—মতাদর্শগত মতবিরোধকে কীভাবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রকাশ করা যায়। বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে বিতর্ক থাকলে তার জবাব আলোচনা ও যুক্তির মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু কোনও পক্ষের উপর বলপ্রয়োগ বা সম্পত্তির ক্ষতি হলে তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

পুজোর বইয়ের স্টল, বাংলার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

বাংলায় দুর্গাপুজোর সঙ্গে বইয়ের স্টলের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। পুজোর সময় বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা, রাজনৈতিক সংগঠন, সাহিত্যচর্চার প্রতিষ্ঠান এবং ছোট প্রকাশকেরা বই ও পত্রপত্রিকা নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছন। নতুন বই, শারদীয়া পত্রিকা, সাহিত্য, ইতিহাস, রাজনীতি এবং সমাজবিষয়ক নানা প্রকাশনা এই সময় পাঠকদের হাতে পৌঁছে যায়।

বামপন্থী সংগঠনগুলির দাবি, শিলিগুড়ি মহকুমায় এ বছর তাদের বইয়ের স্টলগুলিতে বিক্রি বেড়েছে। তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত বছর যেখানে প্রায় এক লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়েছিল, এ বছর সেই পরিমাণ বেড়ে প্রায় তিন লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান স্বাধীনভাবে যাচাই করা না হলেও বাম নেতৃত্বের বক্তব্য, বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনও রয়েছে এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরেও পাঠকেরা বই কিনতে আগ্রহী।

বই বিক্রির এই পরিসংখ্যানকে সামনে রেখে বামপন্থীরা বলছেন, বইয়ের স্টল বন্ধ করার বদলে পাঠাভ্যাস বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাঁদের মতে, বই মানুষকে নতুন চিন্তার সঙ্গে পরিচিত করে, ইতিহাস ও সমাজকে বুঝতে সাহায্য করে এবং যুক্তির ভিত্তিতে মত গড়ে তুলতে শেখায়।

প্রশাসনের ভূমিকা ও ভবিষ্যতের দিকে নজর

বইয়ের স্টল ঘিরে অশান্তির অভিযোগের পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বামপন্থী দলগুলি চাইছে, ঘটনার যথাযথ তদন্ত হোক এবং আইন ভাঙার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পুজো বা অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বইয়ের স্টল বসানোর ক্ষেত্রে যাতে অযথা বাধা বা সংঘাত তৈরি না হয়, তার জন্যও প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধিতা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সেই বিরোধিতা যেন বই বিক্রি, পাঠাভ্যাস কিংবা শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বইয়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি থাকলে তা প্রকাশ করার সুযোগ যেমন থাকা উচিত, তেমনই অন্য মতের বই পড়া ও বিক্রি করার অধিকারও রক্ষা করা দরকার।

শিলিগুড়ির প্রতিবাদ মিছিল থেকে বামপন্থীরা সেই বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছেন। তাঁদের দাবি, বইয়ের স্টলে হামলার অভিযোগের প্রতিবাদ শুধু দলীয় কর্মসূচি নয়, বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং গণতান্ত্রিক পরিসর রক্ষার আন্দোলন।

সব মিলিয়ে, শারদ উৎসবের সময় বইয়ের স্টল ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়। শিলিগুড়িতে বামপন্থীদের বিশাল মিছিলের মাধ্যমে সেই প্রতিবাদ আরও জোরালো হয়েছে। এখন নজর প্রশাসনিক পদক্ষেপ, রাজনৈতিক দলগুলির পরবর্তী অবস্থান এবং ভবিষ্যতে বইয়ের স্টলগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে।