নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আগামী ডিসেম্বরের জি-২০ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ামিতে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। রাশিয়া আমন্ত্রণটি গ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে ক্রেমলিন এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
রুবিও জানিয়েছেন, মতপার্থক্য থাকা দেশগুলির নেতাদের সঙ্গেও সরাসরি আলোচনা করা জরুরি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জি-২০ সম্মেলন পুতিনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশাপাশি অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
পুতিন ২০১৯ সালের পর থেকে জি-২০ নেতাদের কোনও সম্মেলনে সশরীরে উপস্থিত হননি। ২০২৩ সালের জি-২০ সম্মেলনে তিনি ভার্চুয়ালি অংশ নিয়েছিলেন। ফলে আমন্ত্রণ গ্রহণ করে মিয়ামিতে উপস্থিত হলে দীর্ঘ বিরতির পর ফের জি-২০-র মঞ্চে তাঁর সরাসরি উপস্থিতি হবে।
২০২৬ সালের জি-২০ সম্মেলন ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর মিয়ামির ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল রিসর্টে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশ করলেও সংঘাতের অবসান ঘটেনি। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হলেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কায় ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠক হয়েছিল। তবে সেই বৈঠকের পরও ইউক্রেন যুদ্ধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্তমানে ওয়াশিংটন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাত কমানোর জন্য কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।
পুতিনকে জি-২০ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত ইউরোপের একাংশে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। এর আগেই যুক্তরাষ্ট্রের জি-২০ বৈঠকে রুশ অর্থমন্ত্রী আন্তন সিলুয়ানভকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গিয়েছিল।
তবে রাশিয়া এখনও জি-২০-র সদস্য। ফলে মিয়ামির সম্মেলনে রুশ প্রতিনিধিত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাশিয়া-ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন কূটনৈতিক আলোচনা তৈরি হতে পারে।
মার্কিন আমন্ত্রণের পর ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে পুতিন নিজে মিয়ামিতে যাবেন কি না, নাকি অন্য কোনও রুশ প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নেবেন—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
জি-২০ বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক মঞ্চ। সেই মঞ্চে পুতিনের সম্ভাব্য উপস্থিতি এবং ট্রাম্প-পুতিনের সম্ভাব্য বৈঠক ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়া-পশ্চিম সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।