নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে তৈরি গভীর নিম্নচাপ শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার পর থেকেই উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বাড়ানো হয়েছে সতর্কতা। ঘূর্ণিঝড়ের মূল প্রভাব অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলমুখী হলেও তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকাতেও তৈরি হয়েছে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। উত্তাল হয়ে উঠেছে গঙ্গাসাগরের সমুদ্র। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের সমুদ্রে নামার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন।
সকাল থেকেই গঙ্গাসাগরের বিভিন্ন এলাকায় চলছে প্রশাসনের মাইকিং। সমুদ্র সৈকত, স্নানের ঘাট এবং কপিল মুনির আশ্রম সংলগ্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের সতর্ক করছেন সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। উত্তাল সমুদ্রে কোনওভাবেই না নামার জন্য বারবার আবেদন জানানো হচ্ছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সমুদ্রের জল থেকে দূরে থাকতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে সমুদ্রস্নান বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলেই আগাম এই সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
শুধু পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের নয়, মৎস্যজীবীদের জন্যও জারি করা হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। সাগরের ট্রলার ঘাট-সহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে মাঝসমুদ্রে থাকা মৎস্যজীবীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
পাশাপাশি আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নতুন করে কোনও ট্রলার যাতে সমুদ্রে না যায়, সেদিকেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ফলে সমুদ্র আরও উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একইসঙ্গে উপকূলবর্তী নিচু এলাকায় জল ঢোকার আশঙ্কাও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাগরদ্বীপের নিচু এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালানোর জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরাও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছেন।
সমুদ্রের কাছাকাছি থাকা মানুষদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে কেউ যাতে সমুদ্রের ধারে না যান, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
গঙ্গাসাগর দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ ও পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে আসেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তাঁদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপকূলবর্তী বাসিন্দাদের আগামী কয়েক দিন আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রাখার পাশাপাশি আবহাওয়া দফতর ও প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশিকা মেনে চলার আবেদন জানানো হয়েছে।
ইতিমধ্যেই গঙ্গাসাগরের বিভিন্ন প্রান্তে জোরদার হয়েছে মাইকিং। সমুদ্র যতই উত্তাল হচ্ছে, ততই বাড়ছে সতর্কবার্তা। প্রশাসনের একটাই বার্তা—ঝুঁকি নয়, সতর্কতাই হোক নিরাপত্তার প্রথম পদক্ষেপ। দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত সমুদ্র থেকে দূরে থাকুন এবং নিরাপদে থাকুন।