নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: বাল্যবিবাহ রুখতে এবার আরও কড়া অবস্থান রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন মন্দির কর্তৃপক্ষের। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার পর বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মন্দিরগুলিতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সম্প্রতি রাজ্য সরকারও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে।
এই পরিস্থিতিতে হুগলির চুঁচুড়ার শরৎ সরণির কালীমন্দির-সহ বিভিন্ন মন্দির কর্তৃপক্ষ বিয়ের আগে বর-কনের বয়স যাচাইয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, বয়সের বৈধ প্রমাণপত্র ছাড়া মন্দির প্রাঙ্গণে কোনও বিয়ে দেওয়া হবে না।
আধার কার্ড বা অন্যান্য বৈধ সরকারি নথির মাধ্যমে বর ও কনের বয়স যাচাই করার পরই বিয়ের অনুমতি দেওয়া হবে বলে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে। এর ফলে নাবালক-নাবালিকার বিয়ে আয়োজনের সুযোগ বন্ধ করার পাশাপাশি অভিভাবক এবং বিয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও সতর্ক করা হচ্ছে।
সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বাড়ি বাড়ি নজরদারি এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। নাবালক-নাবালিকার বিয়েতে জড়িত ব্যক্তি বা সেই বিয়েতে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের প্রশ্ন। ফলে মন্দিরের মতো ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে বিয়ের আগে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই ধরনের নির্দেশিকা কতটা কার্যকরভাবে রাজ্যের সর্বত্র বাস্তবায়িত হয়, প্রশাসন ও মন্দির কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় কতটা বাড়ে এবং বাল্যবিবাহের ঘটনা বাস্তবে কতটা কমানো সম্ভব হয়—সেদিকেই এখন নজর।