নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: কচুরিপানা মানেই জলাশয়ের সমস্যা—এমন ধারণাই এবার বদলে দিতে পারে কৃষিক্ষেত্রে এর ব্যবহার। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জলাশয় থেকে তুলে আনা কচুরিপানাকে কাজে লাগিয়ে ওল চাষের জমিতে তৈরি করা হচ্ছে জৈব মালচিং। পরিবেশবান্ধব এই পদ্ধতি একদিকে যেমন কচুরিপানার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে কৃষকদের জন্য তৈরি করছে টেকসই কৃষির নতুন সম্ভাবনা।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ওল চাষের জমিতে ব্যবহার করা হয়েছে কচুরিপানা দিয়ে তৈরি জৈব মালচিং। ওল গাছ যখন ছোট থাকে, তখন জমির উপর কচুরিপানা বিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করছে এই প্রাকৃতিক উপাদান। পাশাপাশি মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আগাছার বৃদ্ধি কমাতেও সহায়ক হচ্ছে মালচিং।
কৃষিক্ষেত্রে মালচিংয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল মাটির পরিবেশকে ফসলের অনুকূল রাখা। কচুরিপানা ব্যবহার করে তৈরি এই জৈব আবরণ ধীরে ধীরে শুকিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ফলে পরবর্তীতে সেটি জৈব পদার্থ হিসেবে মাটিতে ফিরে আসে এবং মাটির গুণমান উন্নত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থাৎ, যে কচুরিপানা জলাশয়ে অতিরিক্ত বেড়ে গেলে পরিবেশের জন্য সমস্যা তৈরি করে, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেই কচুরিপানাকেই কৃষিজমির সম্পদে পরিণত করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিক্ষেত্রে স্থানীয় ও সহজলভ্য জৈব উপাদানের এমন ব্যবহার কৃষকদের খরচ কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
বর্জ্য নয়, সঠিক ব্যবস্থাপনায় সম্পদ—কচুরিপানার এই ব্যবহার তাই টেকসই কৃষির ক্ষেত্রে দেখাচ্ছে নতুন সম্ভাবনার পথ।