নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: দলীয় কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দলীয় কার্যালয় দখল এবং সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার উপর চাপ তৈরির অভিযোগ তুলে একাধিক প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কীসের অহংকার, কীসের আধিপত্য? মিডিয়ার লোকজনকেও আপনারা ছাড়ছেন না।” তাঁর অভিযোগ, একাধিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বহু সোশ্যাল নেটওয়ার্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মানুষের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় কার্যালয় দখলের অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রায় ৪ হাজার দলীয় অফিস জোর করে দখল করা হয়েছে এবং সেখান থেকে কাগজপত্র, চেয়ার-টেবিল-সহ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলের পতাকা তাদের সম্মানের প্রতীক উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, সেই পতাকাকেও পদদলিত করা হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে ভাঙচুরের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে রক্ষকের ভূমিকা পালন করতে হবে, কোনও পক্ষের হয়ে কাজ করা উচিত নয়। বেআইনি অত্যাচার বা বেআইনি কাজের ক্ষেত্রে পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তবে একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, “সব পুলিশ আবার খারাপ তা নয়।” আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এদিনের বক্তব্যে বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাম মন্দির, রামদেব এবং সর্বমঙ্গলা মন্দিরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি একাধিক অভিযোগ করেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগগুলির বিষয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।