Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
কৃষকদের বার্ধক্যে আর্থিক নিরাপত্তার বার্তা, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ মানধন যোজনার ৭ বছর পূর্তি   •   তৃণমূলকে সরিয়ে পঞ্চায়েতের দখল বিজেপির, আবির খেলায় উচ্ছ্বাস কর্মী-সমর্থকদের   •   দু’মাস ধরে বিদ্যুৎহীন ঠহরম ৪ নম্বর, ECL-এর সেন্ট্রাল ওয়ার্কশপের সামনে গ্রামবাসীদের ধর্না   •   নিউটাউনে ফের বিশাল পুকুর ভরাটের অভিযোগ   •   আমতলায় বারুইপুর রোড পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্যোগে নাগরিক অধিকার রক্ষা সমিতি   •   হাওড়ায় রক্তদান ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির, উপস্থিত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য

সমুদ্র উত্তাল, নদী ফুলেফেঁপে উঠছে, জলের তলায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা

13 Aug 2026
08:28 AM

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরের উপর সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে গত দু’দিন ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টিতে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বারুইপুর, সোনারপুর, ক্যানিং, ডায়মন্ড হারবার, কাকদ্বীপ, সাগর, পাথরপ্রতিমা, গোসাবা-সহ একাধিক ব্লক ও পুরসভা এলাকায় রাস্তাঘাট, বাজার এবং বসতবাড়ি জলের তলায় চলে গিয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও কোমরসমান জল জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বারুইপুর পুরসভার একাধিক ওয়ার্ডে। দীর্ঘক্ষণ জল জমে থাকায় নোংরা পরিবেশ ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় জল বাড়ির ভিতরে ঢুকে পড়ায় পরিবারগুলিকে চরম সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। পানীয় জল সংগ্রহ, স্কুল-কলেজে যাতায়াত, কর্মস্থলে পৌঁছনো—সব ক্ষেত্রেই বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষার আগে নিকাশি নালা পরিষ্কার না হওয়ায় জল দ্রুত নামতে পারছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যাওয়ার সমস্যা থাকলেও এবারের প্রবল বর্ষণে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পর্যাপ্ত পাম্পের ব্যবস্থা না থাকায় বহু এলাকায় চার থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত জল দাঁড়িয়ে থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাসিন্দা সমীর মণ্ডল বলেন, “প্রতিবছর বর্ষায় একই দুর্ভোগ। কয়েকদিন ধরে জল জমে থাকে। স্থায়ী সমাধানের কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ে না।” অন্যদিকে রাইতা হালদারের অভিযোগ, “কাউন্সিলর বা প্রশাসনের কাউকে দেখা যাচ্ছে না। পানীয় জলের কল ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ জল পেতেও সমস্যা হচ্ছে।”

জেলার বিভিন্ন এলাকায় গত দু’দিনে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাগরদ্বীপে প্রায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ক্যানিং, কাকদ্বীপ-সহ বিভিন্ন উপকূলবর্তী এলাকায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়াও বইছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক ঘণ্টাও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

শুধু জনবসতিই নয়, সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও দেখা দিয়েছে নতুন আশঙ্কা। একটানা বৃষ্টিতে একাধিক মাটির নদীবাঁধ ক্ষয়ে যেতে শুরু করেছে। তার উপর অমাবস্যার কোটালের কারণে নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্বল বাঁধগুলির উপর চাপ আরও বেড়েছে। কোথাও বাঁধ ভেঙে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীবাঁধগুলির উপর বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও ক্ষয় বা ধসের খবর মিললেই দ্রুত মেরামতির ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে গভীর নিম্নচাপের জেরে বঙ্গোপসাগর ও বিভিন্ন নদীতে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমুদ্রের অবস্থা অত্যন্ত প্রতিকূল হওয়ায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য দফতর। উপকূলবর্তী থানাগুলির পক্ষ থেকে মাইকিং করে মৎস্যজীবীদের সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি জলপথেও প্রচার চালিয়ে নদী ও সমুদ্র সংলগ্ন এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, জলমগ্ন এলাকাগুলিতে দ্রুত জল নিষ্কাশনের কাজ চলছে। বিভিন্ন জায়গায় পাম্প বসিয়ে জল সরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত মাটির বাড়ির বাসিন্দাদের কাছে ত্রিপল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হবে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক অভিষেক তিওয়ারি জানিয়েছেন, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে জেলায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। জলমগ্ন এলাকাগুলিতে দ্রুত জল নিষ্কাশনের পাশাপাশি নদীবাঁধগুলির উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে প্রশাসন রয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

গভীর নিম্নচাপ, টানা বর্ষণ এবং অমাবস্যার কোটালের যুগপৎ প্রভাবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় দুর্যোগ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে জলমগ্ন শহর ও গ্রাম, অন্যদিকে উত্তাল নদী-সমুদ্র এবং দুর্বল নদীবাঁধ—সব মিলিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে সুন্দরবন ও উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের রাত কাটছে চরম আতঙ্কে। আগামী কয়েক ঘণ্টার আবহাওয়া এবং নদীর জলস্তরের উপরই এখন নির্ভর করছে পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি।

news home ads