নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: রাজ্যে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে লাউডস্পিকার বা মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া চলার পর, প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী মোট ৫২৯৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপের পর বিষয়টি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। একাধিক রাজনৈতিক নেতা অভিযোগ করেছেন যে সরকারি নির্দেশিকাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তাঁদের দাবি, শব্দদূষণ রোধের উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, ধর্মীয় অনুভূতি এবং সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রশাসনের পদক্ষেপ হওয়া উচিত। তারা সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বিষয়টি নিয়ে আরও স্বচ্ছ ব্যাখ্যার দাবি জানিয়েছে।
এদিকে শাসকপক্ষের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশিকা নিয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে এবং মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা চলছে। তাদের আরও দাবি, কিছু রাজনৈতিক নেতা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে জনসাধারণকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে এই অভিযোগগুলির পাল্টা জবাবে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য, তারা শুধুমাত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উদ্বেগ তুলে ধরছে এবং সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে প্রশ্ন তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এ ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইন, আদালতের নির্দেশ এবং সকল সম্প্রদায়ের প্রতি সমান নীতি অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এই ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোর চললেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সরকারি নির্দেশিকা কার্যকর রাখার অবস্থানেই অনড় থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। উল্লেখ্য, উপরে বর্ণিত রাজনৈতিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগগুলি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির নিজস্ব দাবি; এগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।