নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : বহুল আলোচিত টুলু মণ্ডল কাণ্ডে তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক নতুন তথ্য বলে দাবি পুলিশের। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পাথর চুরির কারবার নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে একাধিক সরকারি আধিকারিককে নিয়মিত ঘুষ দেওয়া হতো। টুলু মণ্ডলের ম্যানেজারকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এই তথ্য মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই দাবিগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
পুলিশ সূত্রে দাবি, তদন্তে জানা গিয়েছে যে অবৈধ পাথর পরিবহনের নথি তৈরি করতে নকল ডিসিআর (Dispatch Challan Receipt) ছাপানোর জন্য আলাদা একটি ছাপাখানাও চালু করা হয়েছিল। সেই নকল নথির সাহায্যে অবৈধভাবে পাথর পরিবহন করা হতো বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একাধিক নথি ও ডিজিটাল তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের দাবি, এখনও পর্যন্ত টুলু মণ্ডলের নামে বা তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য আর্থিক সম্পদ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও সম্পত্তির হদিস মিলতে পারে বলেও মনে করছে পুলিশ।
ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের মদতেই টুলু মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পাথর ব্যবসা ও লুঠ চালিয়ে গিয়েছে। বিজেপির দাবি, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই এতদিন এই চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।