নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক : রক্তদান শিবিরের আড়ালে বিপুল আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড় রাজ্য। স্বাস্থ্য দফতরের নজরে এসেছে একাধিক বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের কার্যকলাপ। প্রাথমিক তদন্তে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি প্রশাসনিক সূত্রের। ইতিমধ্যেই ১১টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ককে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে এবং অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে কড়া তদন্ত।
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রক্তদান শিবিরকে কেন্দ্র করে কয়েকশো কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য দফতর তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে তদন্ত এখনও চলমান এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি।
এই তদন্তের অংশ হিসেবেই কলকাতার হাজরা এলাকার পিপলস ব্লাড ব্যাঙ্কে স্বাস্থ্য দফতরের একটি বিশেষ দল পরিদর্শনে যায়। সেখানে নথিপত্র, রক্ত সংগ্রহের রেকর্ড এবং শিবির সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তকারী আধিকারিকরা রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বিতরণের প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করেন।
তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি, কিছু রক্তদান শিবিরে ব্যবহৃত নথি ও সিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সুজিত বসু, কুমার সাহা এবং শঙ্কর রাউতের নামে স্ট্যাম্প ব্যবহার করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। এই অভিযোগগুলিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও আদালত-স্বীকৃত অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।
স্বাস্থ্য দফতরের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাঙ্কটি গত ছয় মাসে ৪২,৮৪২ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করেছে। এই বিপুল পরিমাণ রক্ত সংগ্রহের নথি, তার উৎস এবং বিতরণ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা যাচাই করছেন, সমস্ত রক্ত সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে জাতীয় রক্তনীতি এবং সরকারি নির্দেশিকা যথাযথভাবে মানা হয়েছে কি না।
স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, তদন্তে কোনও অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে রক্তদান শিবিরের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে।