নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: খাদ্য নষ্ট হওয়া এবং ফসল কাটার পর অপচয় কমাতে রেডিয়েশন প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে। নদিয়ার মোহনপুরে অবস্থিত Bidhan Chandra Krishi Viswavidyalaya-এর গবেষণায় কৃষিজাত ও উদ্যানজাত পণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিকিরণ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফলের শেল্ফ লাইফ বাড়ানোর ফল পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের Radiation and Nuclear Agriculture Research Centre (RNARC)-এর গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হিমসাগর আমে ০.৫ কিলোগ্রেড রেডিয়েশন এবং হট-ওয়াটার ট্রিটমেন্ট ব্যবহার করলে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণকাল আরও সাত দিন বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। আবার লক্ষ্মণভোগ আমে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পাঁচ মিনিট হট-ওয়াটার ট্রিটমেন্টের পর ০.৭৫ কিলোগ্রেড গামা রেডিয়েশন প্রয়োগ করে ৩৫ দিন পর্যন্ত দৃঢ়তা বজায় রেখে সংরক্ষণ করার ফল পাওয়া গেছে।
রেডিয়েশন-ভিত্তিক খাদ্য সংরক্ষণে নির্দিষ্ট মাত্রার আয়নাইজিং রেডিয়েশন ব্যবহার করে খাদ্যে পচন সৃষ্টিকারী অণুজীব ও পোকামাকড়ের কার্যকলাপ কমানো হয়। এর ফলে নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়ানো সম্ভব হয়। গামা রশ্মি, এক্স-রে এবং ইলেকট্রন বিম—এই ধরনের প্রযুক্তি খাদ্য বিকিরণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
কেন্দ্রের পরমাণু শক্তি দফতরও জানিয়েছে, কৃষিজাত পণ্যের পরবর্তী পর্যায়ের ক্ষতি কমানো এবং শেল্ফ লাইফ বাড়ানোর জন্য রেডিয়েশন-ভিত্তিক খাদ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে। ফল, সবজি, ডাল ও মশলাসহ বিভিন্ন কৃষিজ পণ্যের জন্য এই ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ হয়েছে।
তবে রেডিয়েশন প্রযুক্তি মানেই খাবার ‘চিরদিন’ নষ্ট হবে না—এমন নয়। কোন খাদ্যে কত মাত্রায় বিকিরণ প্রয়োগ করা হবে এবং কীভাবে তা সংরক্ষণ করা হবে, তার উপর ফলাফল নির্ভর করে। সঠিকভাবে অনুমোদিত মাত্রায় খাদ্য বিকিরণ করলে খাবার তেজস্ক্রিয় হয়ে যায় না—এমনটাই খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত মার্কিন FDA-র ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নদিয়ার কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা তাই কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, কৃষকের ক্ষতি কমানো এবং বাজারজাতকরণের সময় বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা তৈরি করছে। বিশেষ করে দ্রুত পচনশীল ফল ও সবজির ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়লে খাদ্য অপচয় কমানোর পাশাপাশি কৃষকরাও উপকৃত হতে পারেন।