নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ছটপুজোকে সামনে রেখে দক্ষিণ কলকাতার পুণ্যার্থীদের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন এবং উন্নত পরিকাঠামোযুক্ত ঘাট তৈরির উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। উৎসবের সময় যাতে ভক্তদের পুজো দিতে গিয়ে কোনওরকম অসুবিধা বা নিরাপত্তাজনিত সমস্যার মুখে পড়তে না হয়, সেই লক্ষ্যেই একাধিক ঘাট চিহ্নিত করে সেগুলিকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যোধপুর পার্কের একটি সম্ভাব্য ঘাটের স্থান পরিদর্শন করলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।
মন্ত্রী জানান, পরিদর্শন করা স্থানটি রবীন্দ্র সরোবর থেকে মাত্র প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ছটপুজোর সময় দক্ষিণ কলকাতায় পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলানো এবং তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত ঘাটের ব্যবস্থা করাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই ৩৯টি ঘাট চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলিকে উন্নত ও ব্যবহারযোগ্য করে তোলার পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি আরও ১০টি নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ কলকাতায় প্রায় ৫০টি ঘাটের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে প্রশাসন।
ছটপুজো উপলক্ষে প্রতি বছরই দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন জলাশয় ও ঘাটে বহু মানুষের সমাগম হয়। পুণ্যার্থীদের ভিড়ের কথা মাথায় রেখে এবার আগে থেকেই পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রশাসনের চিহ্নিত ৩৯টি ঘাটকে কীভাবে আরও উন্নত, পরিচ্ছন্ন এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা যায়, তা নিয়ে কাজের পরিকল্পনা চলছে।
এর পাশাপাশি নতুন করে আরও ১০টি সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এই নতুন স্থানগুলিকে ঘাট হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যোধপুর পার্কের পরিদর্শিত স্থানটিও সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এই ঘাটগুলি পুণ্যার্থীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ঘাটগুলিতে পুণ্যার্থীদের যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ করতে র্যাম্প তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু এবং যাঁদের চলাফেরায় সমস্যা রয়েছে, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই এই পরিকাঠামো তৈরির ভাবনা নেওয়া হচ্ছে।
তবে শুধুমাত্র দ্রুত র্যাম্প নির্মাণ করাই প্রশাসনের লক্ষ্য নয়। র্যাম্পের নকশা এবং নির্মাণের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঘাটের গঠন, নিরাপত্তা, সম্ভাব্য জনসমাগম এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো কতটা ভার বহন করতে পারবে, সেই বিষয়গুলিও বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ ছটপুজোর সময় একসঙ্গে বহু মানুষের উপস্থিতিতে সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে।
তাই ঘাটগুলির উন্নয়নের পাশাপাশি সেখানে মানুষের ওঠানামা, চলাচলের সুবিধা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ছটপুজোর ঘাট তৈরির পরিকল্পনায় রবীন্দ্র সরোবরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। রবীন্দ্র সরোবর কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাশয় এবং পরিবেশগত দিক থেকেও অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। ফলে সেখানে কোনও ধরনের পরিকাঠামো তৈরি বা উৎসবের আয়োজনের ক্ষেত্রে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের বক্তব্য অনুযায়ী, রবীন্দ্র সরোবরে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া না গেলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে যোধপুর পার্ক-সহ দক্ষিণ কলকাতার অন্যান্য চিহ্নিত ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট স্থানের ওপর নির্ভর না করে একাধিক বিকল্প ঘাট প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন ছটপুজোর পুণ্যার্থীদের ধর্মীয় আচার পালনের সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
রবীন্দ্র সরোবরে অনুমতি সংক্রান্ত কোনও সমস্যা দেখা দিলে যাতে শেষ মুহূর্তে পুণ্যার্থীদের অসুবিধায় পড়তে না হয়, সেই কারণেই বিকল্প ঘাটের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। যোধপুর পার্কের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন সেই প্রস্তুতিরই অংশ।
প্রায় ৫০টি ঘাটের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকার পুণ্যার্থীরা নিজেদের কাছাকাছি ঘাটে ছটপুজোর আচার পালন করার সুযোগ পেতে পারেন। এতে নির্দিষ্ট কয়েকটি ঘাটে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে ঘাটগুলির চূড়ান্ত ব্যবহারযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় অনুমতির বিষয়গুলি খতিয়ে দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ছটপুজোর সময় ভোর ও সন্ধ্যায় জলাশয়ের ধারে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। পুণ্যার্থীরা জলে নেমে সূর্যদেবকে অর্ঘ্য নিবেদন করেন। ফলে ঘাটের সিঁড়ি, প্রবেশপথ, ওঠানামার ব্যবস্থা এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত জায়গা ও নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে ভিড়ের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
এই পরিস্থিতি মাথায় রেখেই নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন ঘাট তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। র্যাম্প নির্মাণের ক্ষেত্রেও বৈজ্ঞানিক নকশা এবং পরিকাঠামোর সক্ষমতা যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য, উৎসবের দিনগুলিতে পুণ্যার্থীরা যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলের এই উদ্যোগে ছটপুজোর পুণ্যার্থীদের সুবিধার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিও সামনে এসেছে। রবীন্দ্র সরোবরের মতো সংবেদনশীল জলাশয়ের ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিধিনিষেধ ও প্রয়োজনীয় অনুমতি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে যোধপুর পার্ক-সহ অন্যান্য চিহ্নিত স্থানে ঘাটের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও সেই লক্ষ্যেই।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ কলকাতায় ছটপুজোর আগে প্রায় ৫০টি ঘাট প্রস্তুত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পুণ্যার্থীদের জন্য আরও বেশি বিকল্প তৈরি হতে পারে। এখন নজর রয়েছে চিহ্নিত স্থানগুলির পরিকাঠামো উন্নয়ন, র্যাম্প নির্মাণের উপযুক্ত নকশা এবং প্রয়োজনীয় অনুমতির দিকে। ধর্মীয় ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়ে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।