Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
চম্পাহাটির হারাল বাজি বাজারে পুলিশের মেগা অভিযান! নিষিদ্ধ শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত, বন্ধ ৫টি দোকান   •   ফ্রেমবন্দি ‘শ্বেতকালী ২’ টিম, বিশেষ মুহূর্ত ঘিরে তৈরি হল স্মরণীয় স্মৃতি   •   সুস্থ বার্ধক্যের জন্য কোন রুটি সবচেয়ে ভালো? পুষ্টিবিদদের পছন্দের তালিকায় স্প্রাউটেড ব্রেড ও সাওয়ারডো   •   উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কোন কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন? লবণ, ফাস্ট ফুড থেকে বাড়তি চিনি—সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা   •   সুমিত রায়কে জেরা করতেই কোটি টাকার হদিশ! সরিষার তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা   •   ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের পার্টি অফিসে টাকার পাহাড়! উদ্ধার ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা, তদন্তে পুলিশ

ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূলের পার্টি অফিসে টাকার পাহাড়! উদ্ধার ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা, তদন্তে পুলিশ

04 Nov 2026
12:05 PM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের সরিষা এলাকার একটি তৃণমূল পার্টি অফিসে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়ে মোট ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা কোথা থেকে এল, কেন পার্টি অফিসে এত টাকা রাখা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কোনও আর্থিক দুর্নীতির যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

জমি দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তের সূত্র ধরেই এই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছে। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে সম্প্রতি ওই মামলায় নিজেদের হেফাজতে নিয়েছিল ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশ। এরপর বুধবার সকালে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে সরিষা এলাকার একটি তৃণমূল পার্টি অফিসে তল্লাশি অভিযান চালান তদন্তকারী আধিকারিকরা।

দীর্ঘ তল্লাশির পর উদ্ধার এক কোটিরও বেশি টাকা

পুলিশি তল্লাশিতে পার্টি অফিস থেকে বান্ডিল বান্ডিল নগদ টাকা উদ্ধার হয়। দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানোর পর মোট ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

একটি রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিস থেকে এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কোথা থেকে এই টাকা এল? কার টাকা এটি? কোনও ব্যবসায়িক লেনদেনের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে, নাকি অন্য কোনও আর্থিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই টাকা জমা করা হয়েছিল? এই সমস্ত বিষয় এখন তদন্তের আওতায়।

সুমিত রায়কে জিজ্ঞাসাবাদ, জমি দুর্নীতি মামলার তদন্তে নতুন মোড়

এই ঘটনার সঙ্গে নাম জড়িয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের। জমি দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই তাঁকে নিয়ে সরিষার পার্টি অফিসে পৌঁছন তদন্তকারীরা।

তল্লাশির পর বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হওয়ায় তদন্তে নতুন দিক সামনে এসেছে। উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস কী, কারা এই টাকা সেখানে রেখেছিলেন এবং এই অর্থের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত মামলার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

টাকার উৎস নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন

একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে এক কোটি টাকারও বেশি নগদ অর্থ পাওয়ার ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে টাকার উৎস নিয়ে। এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ কেন পার্টি অফিসে রাখা হয়েছিল।

তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা সুমিত রায়কে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে,তবে উদ্ধার হওয়া অর্থের প্রকৃত মালিক কে, কিংবা কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে এই টাকার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

ডায়মন্ড হারবারের রাজনীতিতে নতুন চর্চা

ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র। সেই এলাকার একটি তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে এত বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা তৈরি করেছে।

বিশেষ করে জমি দুর্নীতি মামলার তদন্তের মধ্যে এই নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের পক্ষ থেকেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তোলার অবকাশ তৈরি হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ১ কোটি ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকার উৎস সম্পর্কে পুলিশ কী তথ্য পায়, সুমিত রায়ের জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কী তথ্য সামনে আসে এবং এই ঘটনার সঙ্গে আর কারও যোগসূত্র পাওয়া যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ডায়মন্ড হারবারের সরিষা এলাকার তৃণমূল পার্টি অফিস থেকে এক কোটিরও বেশি নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনা দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন তৈরি করেছে। তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে এই বিপুল অর্থের উৎস এবং জমি দুর্নীতি মামলার সঙ্গে এর সম্ভাব্য যোগসূত্র সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।