নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: সরকারি দফতরে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার চাঞ্চল্য ছড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে। কুলতলির ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের (BLLRO) দফতরে হানা দিল রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা বা অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ (ACB)। ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ওই দফতরের এক গ্রুপ-ডি আধিকারিককে হাতেনাতে ধরার খবর সামনে আসতেই প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
সরকারি দফতরে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন কাজের জন্য প্রতিদিন বহু মানুষকে আসতে হয়। জমির নথি, জমির রেকর্ড, মিউটেশন, জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পরিষেবার জন্য ভূমি দফতরের উপর নির্ভর করেন সাধারণ মানুষ। সেই দফতরেই ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সরকারি পরিষেবার স্বচ্ছতা ও সাধারণ মানুষের হয়রানি নিয়ে।
গোপন অভিযোগের ভিত্তিতে ACB-র অভিযান?
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের সূত্র ধরেই কুলতলির BLLRO দফতরে পৌঁছয় দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অভিযুক্ত কর্মীকে হাতেনাতে ধরার উদ্দেশ্যে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানা যাচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি কাজের বিনিময়ে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার ঘটনা সামনে আসে। এরপরই ACB-র আধিকারিকরা অভিযানে নেমে সংশ্লিষ্ট গ্রুপ-ডি কর্মীকে আটক করেন বলে খবর।
গ্রুপ-ডি কর্মীকে ঘিরে তদন্ত
এই ঘটনায় যে কর্মীর নাম উঠে এসেছে, তিনি কুলতলির BLLRO দফতরের গ্রুপ-ডি পদে কর্মরত বলে জানা যাচ্ছে। তবে ঠিক কোন কাজের জন্য কত টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছিল, অভিযোগকারী কে এবং এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনও কর্মীর যোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
তদন্তকারীরা অভিযুক্তের ভূমিকা, আর্থিক লেনদেন এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পারেন।
ভূমি দফতরে সাধারণ মানুষের হয়রানি নিয়ে প্রশ্ন
রাজ্যের বিভিন্ন ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে জমি সংক্রান্ত পরিষেবা নিতে প্রতিদিন বহু মানুষ ভিড় করেন। সাধারণ মানুষের কাছে জমির নথি ও মিউটেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই ধরনের কাজের জন্য যদি কাউকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়, তাহলে তা সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ তৈরি করে।
কুলতলির এই ঘটনায় তাই সরকারি পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ঘুষের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি সামনে আসছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ACB-র অভিযান নিয়ে নতুন আলোচনা
সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখার অন্যতম কাজ। পশ্চিমবঙ্গ ACB-র সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মীদের ঘুষ দাবি, ঘুষ গ্রহণ এবং পদমর্যাদার অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ তারা তদন্ত করে।
কুলতলির ঘটনাও সেই প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এবার তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা
কুলতলির BLLRO দফতরের এই ঘটনায় ঠিক কীভাবে ঘুষের লেনদেন হয়েছিল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে তদন্তের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের জন্য।
সরকারি দফতরে সাধারণ মানুষের কাজের বিনিময়ে কোনও ধরনের অবৈধ আর্থিক লেনদেন বরদাস্ত করা উচিত নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মীকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।
সব মিলিয়ে, কুলতলির BLLRO দফতরে ACB-র অভিযান এবং গ্রুপ-ডি কর্মীকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ধরার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, তদন্তে আর কী কী তথ্য সামনে আসে।