Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
দার্জিলিংয়ের চৌরাস্তায় জমজমাট ‘সরস মেলা’, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে তৈরি সামগ্রীতে মুগ্ধ পর্যটকরা   •   কাঁকসায় বাড়ির উঠোনে মিলল জোড়া কচ্ছপ, উদ্ধার করে বনদপ্তরের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় যুবক   •   যানজট কমাতে একাধিক শহরে মাল্টি-লেভেল পার্কিং, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার কোটি বিনিয়োগের প্রস্তাব   •   গোবর থেকে তৈরি হবে রান্নার গ্যাস, জয়নগরে অভিনব উদ্যোগ ব্লক প্রশাসনের! ৭৩ খামারিকে চিহ্নিত, জাঙ্গালিয়ায় তৈরি প্রথম দুটি প্ল্যান্ট   •   অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নয়, সঠিক প্রক্রিয়ায় নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য: পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল   •   সল্টলেক বিজেপি কার্যালয়ে জনতার দরবারে শুভেন্দু অধিকারী, সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনে পাশে থাকার বার্তা

দার্জিলিংয়ের চৌরাস্তায় জমজমাট ‘সরস মেলা’, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে তৈরি সামগ্রীতে মুগ্ধ পর্যটকরা

30 Oct 2026
10:52 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে শুরু মেলা। ২৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি হস্তশিল্প, পোশাক ও ঘরোয়া খাদ্যসামগ্রী ঘিরে ক্রেতাদের উৎসাহ। কলকাতাতেও মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা।পাহাড়ের মনোরম পরিবেশে পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের ঠিকানা দার্জিলিংয়ের চৌরাস্তায় এবার বাড়তি আকর্ষণ ‘সরস মেলা’। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের পরিচালনায় শুরু হয়েছে এই মেলা। গত ২৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন হয়। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা নিজেদের হাতে তৈরি নানা ধরনের সামগ্রী নিয়ে এই মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। তাঁদের সৃজনশীলতা, শিল্পকুশলতা এবং পরিশ্রমের পরিচয় মিলছে মেলার প্রতিটি স্টলে।

দার্জিলিং এমনিতেই পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। পাহাড়ি সৌন্দর্য, মনোরম আবহাওয়া এবং ঐতিহ্যবাহী চৌরাস্তায় ঘোরাফেরার পাশাপাশি এবার পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে সরস মেলা। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বাইরে থেকে আসা পর্যটকরাও মেলার বিভিন্ন স্টলে ঘুরে দেখছেন। পছন্দের সামগ্রী কিনছেন, আবার অনেকেই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি পণ্যের বৈচিত্র্য সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

হস্তশিল্প থেকে ঘরোয়া খাবার, এক ছাদের নীচে নানা সম্ভার

সরস মেলায় স্থান পেয়েছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী। নান্দনিক হস্তশিল্প, বাহারি পোশাক, ঐতিহ্যবাহী উপকরণ থেকে শুরু করে ঘরোয়া পদ্ধতিতে তৈরি নানা খাদ্যদ্রব্য—বিভিন্ন ধরনের পণ্যের সমাহার রয়েছে এখানে।

প্রতিটি সামগ্রীর মধ্যেই ফুটে উঠেছে স্থানীয় শিল্প-সংস্কৃতি এবং নিজস্ব ঐতিহ্যের ছাপ। কোথাও রয়েছে মহিলাদের হাতের কাজের সূক্ষ্ম নকশা, কোথাও আবার দেখা যাচ্ছে নিজস্ব ভাবনা ও সৃজনশীলতায় তৈরি আকর্ষণীয় সামগ্রী। ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রস্তুত খাদ্যদ্রব্যও ক্রেতাদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে।

এই মেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এখানে বড় কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে গ্রামের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের উৎপাদিত সামগ্রীকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ক্রেতারা সরাসরি তাঁদের তৈরি পণ্য দেখার এবং কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে উৎপাদক মহিলারাও নিজেদের কাজ ও পণ্যের সঙ্গে ক্রেতাদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারছেন।

মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে উদ্যোগ

সরস মেলার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলা। গ্রামাঞ্চলের বহু মহিলা নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করলেও সেগুলি বৃহত্তর বাজারে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ সব সময় পান না। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদনের দক্ষতা থাকলেও উপযুক্ত বিপণন ব্যবস্থা এবং ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের অভাব তাঁদের ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এই পরিস্থিতিতে সরস মেলার মতো উদ্যোগ তাঁদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিপণন মঞ্চ তৈরি করছে। এখানে নিজেদের তৈরি পণ্য সরাসরি ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন মহিলারা। এর ফলে পণ্যের পরিচিতি বাড়ার পাশাপাশি বিক্রির সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।

শুধু সামগ্রী বিক্রি নয়, নিজেদের কাজের দক্ষতা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন জেলার মহিলারা এক জায়গায় অংশগ্রহণ করায় তাঁদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নতুন ধরনের পণ্য সম্পর্কে জানার সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

পর্যটনকেন্দ্রে মেলা, স্থানীয় অর্থনীতিতেও সম্ভাবনা

দার্জিলিংয়ের চৌরাস্তায় মেলার আয়োজন হওয়ায় পর্যটকদের কাছে এই উদ্যোগের প্রচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক দার্জিলিংয়ে বেড়াতে আসেন। তাঁদের সামনে স্থানীয় শিল্প, হস্তশিল্প এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি পণ্য তুলে ধরার সুযোগ মিলছে এই মেলার মাধ্যমে।

মেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের মধ্যেও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন স্টলে ক্রেতাদের ভিড় এই উদ্যোগের প্রতি মানুষের আগ্রহের পরিচয় দিচ্ছে। পর্যটকেরা শুধু পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেই ফিরছেন না, বরং স্থানীয় শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন।

এ ধরনের মেলা পর্যটন এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগের মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে পারে। পর্যটকেরা স্থানীয়ভাবে তৈরি সামগ্রী কিনলে সেই পণ্যের পরিচিতি অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

দার্জিলিংয়ের পর কলকাতাতেও সরস মেলার পরিকল্পনা

দার্জিলিংয়ে এই উদ্যোগের পর খুব শীঘ্রই কলকাতাতেও একই ধরনের আরও একটি সরস মেলা আয়োজন ও উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা আরও বড় বাজারে নিজেদের উৎপাদিত সামগ্রী তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।

কলকাতার মতো বড় শহরে বিপুল সংখ্যক সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যেসব মহিলা বা গোষ্ঠী এতদিন মূলত স্থানীয় বাজারের উপর নির্ভরশীল ছিলেন, তাঁদের পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় উৎপাদন ও বিপণনের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। সেই দিক থেকে দার্জিলিংয়ের পর কলকাতায় সরস মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ক্ষুদ্র উদ্যোগকে বৃহত্তর বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা।

কেন গুরুত্বপূর্ণ সরস মেলা?

সরস মেলার গুরুত্ব শুধুমাত্র কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মহিলাদের আর্থিক স্বাধীনতা, গ্রামীণ শিল্পের বিকাশ, স্থানীয় সংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগের প্রসারের মতো একাধিক বিষয়।

একজন মহিলা নিজের দক্ষতায় পণ্য তৈরি করে তা বাজারে বিক্রি করতে পারলে তাঁর ব্যক্তিগত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক ক্ষেত্রে তাঁর অবদানও বাড়তে পারে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে একাধিক মহিলা একসঙ্গে কাজ করলে তাঁদের সম্মিলিত উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তবে এই ধরনের উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য মেলার বাইরেও বিপণন ব্যবস্থা, পণ্যের গুণমান বজায় রাখা, উপযুক্ত মূল্য নির্ধারণ এবং নিয়মিত ক্রেতা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। সরস মেলার মাধ্যমে যে পরিচিতি তৈরি হচ্ছে, তা ভবিষ্যতেও ধরে রাখা গেলে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের উদ্যোগ আরও এগিয়ে যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, দার্জিলিংয়ের চৌরাস্তায় শুরু হওয়া সরস মেলা পাহাড়ের পর্যটন আকর্ষণের পাশাপাশি গ্রামীণ মহিলাদের সৃজনশীলতা ও উদ্যোগকে সামনে নিয়ে এসেছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার মহিলাদের হাতে তৈরি সামগ্রী এখন পৌঁছে যাচ্ছে আরও বেশি মানুষের কাছে। এবার নজর কলকাতায় প্রস্তাবিত পরবর্তী সরস মেলার দিকে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির উৎপাদিত সামগ্রী কতটা বড় বাজার পায়, সেটাই আগামী দিনে দেখার বিষয়।