Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
দার্জিলিংয়ের চৌরাস্তায় জমজমাট ‘সরস মেলা’, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের হাতে তৈরি সামগ্রীতে মুগ্ধ পর্যটকরা   •   কাঁকসায় বাড়ির উঠোনে মিলল জোড়া কচ্ছপ, উদ্ধার করে বনদপ্তরের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় যুবক   •   যানজট কমাতে একাধিক শহরে মাল্টি-লেভেল পার্কিং, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার কোটি বিনিয়োগের প্রস্তাব   •   গোবর থেকে তৈরি হবে রান্নার গ্যাস, জয়নগরে অভিনব উদ্যোগ ব্লক প্রশাসনের! ৭৩ খামারিকে চিহ্নিত, জাঙ্গালিয়ায় তৈরি প্রথম দুটি প্ল্যান্ট   •   অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নয়, সঠিক প্রক্রিয়ায় নাগরিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য: পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল   •   সল্টলেক বিজেপি কার্যালয়ে জনতার দরবারে শুভেন্দু অধিকারী, সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনে পাশে থাকার বার্তা

যানজট কমাতে একাধিক শহরে মাল্টি-লেভেল পার্কিং, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার কোটি বিনিয়োগের প্রস্তাব

30 Oct 2026
10:42 AM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: কলকাতা, বিধাননগর, হাওড়া ও শিলিগুড়িতে আধুনিক পার্কিং পরিকাঠামো গড়ার পরিকল্পনা। NITCON-এর সঙ্গে MOU এবং Skymax-এর বিনিয়োগ প্রস্তাব ঘিরে নগরোন্নয়নে নতুন উদ্যোগের কথা জানালেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী।শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ, সুশৃঙ্খল পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকাঠামো তৈরি—নগরোন্নয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে একাধিক উদ্যোগের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। শহরের রাস্তাঘাট ও ফুটপাত দখল করে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের প্রবণতা বন্ধ করার পাশাপাশি বাজার এলাকায় নির্দিষ্ট পার্কিং জোন তৈরি এবং বড় শহরগুলিতে মাল্টি-লেভেল কার পার্কিং গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্যে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে আধুনিক নগর পরিকাঠামোর উন্নয়নের লক্ষ্যেও এগোচ্ছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর।

পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শহরের নাগরিক পরিষেবা উন্নত করতে হলে শুধু রাস্তা তৈরি বা সংস্কার করলেই হবে না। যান চলাচল, পার্কিং, পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ, এই পরিষেবাগুলির সঙ্গে শহরের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সরাসরি যুক্ত।

যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা

বড় শহরগুলির অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট। রাস্তার উপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা, বাজার এলাকার সামনে যত্রতত্র পার্কিং এবং ফুটপাত দখল করে গাড়ি রাখার প্রবণতার কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। বিশেষ করে ব্যস্ত বাজার, বাণিজ্যিক এলাকা এবং জনবহুল রাস্তায় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে পার্কিং করার প্রবণতা বন্ধ করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বাজার এলাকায় নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা তৈরি, পার্কিংয়ের জন্য যথাযথ ডিমার্কেশন এবং যানবাহন রাখার নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন রাস্তার উপর চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে, অন্যদিকে পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাতও ব্যবহারযোগ্য রাখা যাবে।

শহরের পার্কিং ব্যবস্থাকে আরও পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত করতে প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলাও জরুরি। শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কোথায় গাড়ি রাখা যাবে, কতগুলি গাড়ি রাখার জায়গা রয়েছে এবং বাজার বা বাণিজ্যিক এলাকায় কীভাবে পার্কিং নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন।

কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি, মাল্টি-লেভেল কার পার্কিংয়ে গুরুত্ব

শহরের সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে মাল্টি-লেভেল কার পার্কিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হতে পারে। একটি নির্দিষ্ট জমিতে একাধিক তলায় গাড়ি রাখার ব্যবস্থা তৈরি করা গেলে একই জায়গায় তুলনামূলক বেশি সংখ্যক গাড়ি পার্ক করা সম্ভব। ফলে রাস্তার উপর গাড়ি রাখার চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।

এই ধরনের পার্কিং পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কলকাতা, বিধাননগর, হাওড়া ও শিলিগুড়ির মতো শহরগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শহরের জনবহুল ও বাণিজ্যিক এলাকায় কোথায় এই ধরনের পরিকাঠামো তৈরি করা সম্ভব, তা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

কলকাতা ও বিধাননগরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে যানবাহনের সংখ্যা এবং পার্কিংয়ের চাহিদা সামলানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একইভাবে হাওড়া ও শিলিগুড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরেও পরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টে ৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব

নগরোন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হল কঠিন বর্জ্য বা সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট। শহরের বাড়ি, বাজার, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হয়। সেই বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, পরিবহণ, প্রক্রিয়াকরণ এবং সঠিকভাবে নিষ্পত্তির জন্য আধুনিক পরিকাঠামো প্রয়োজন।

এই ক্ষেত্রের উন্নয়নে Skymax-এর পক্ষ থেকে ৩,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাবের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি NITCON-এর সঙ্গে একটি MOU স্বাক্ষরও এই উদ্যোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

এই বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করা, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং শহরগুলিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে বিনিয়োগের প্রস্তাব এবং বাস্তবে বিনিয়োগ কার্যকর হওয়া এক বিষয় নয়। প্রস্তাবের বাস্তবায়ন, প্রকল্পের পরিধি, অর্থের ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো তৈরির অগ্রগতির উপরই এর প্রকৃত ফলাফল নির্ভর করবে।

বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে নজর

রাজ্যে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং আধুনিক পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্যেও কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। নগরোন্নয়নের ক্ষেত্রে বেসরকারি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ পরিচালন ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত অর্থের প্রয়োজন হয়। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি উপযুক্ত বেসরকারি সহযোগিতা থাকলে বড় পরিসরে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। NITCON-এর সঙ্গে MOU এবং Skymax-এর ৩,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাবকে সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নই মূল লক্ষ্য

শহরের যানজট কমানো, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা তৈরি এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা—এই প্রতিটি উদ্যোগের সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বাচ্ছন্দ্য ও শহরের সামগ্রিক পরিষেবার মান জড়িত। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়িত হলে শহরের রাস্তাঘাটে যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল করা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই উদ্যোগগুলির সাফল্যের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, জমি নির্বাচন, অর্থ বরাদ্দ, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নিয়মিত নজরদারি। পাশাপাশি প্রকল্পগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, সাধারণ মানুষ তার সুবিধা পাচ্ছেন কি না, সেটিও মূল্যায়ন করতে হবে।

সব মিলিয়ে, মাল্টি-লেভেল কার পার্কিং থেকে শুরু করে ৩,০০০ কোটি টাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিনিয়োগ প্রস্তাব—নগরোন্নয়নের একাধিক ক্ষেত্রে নতুন পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে। এখন নজর থাকবে, এই পরিকল্পনাগুলি কত দ্রুত বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছয় এবং তার সুফল কলকাতা, বিধাননগর, হাওড়া, শিলিগুড়ি-সহ রাজ্যের অন্যান্য শহরের নাগরিকদের কাছে কতটা পৌঁছয়।