Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে বিনোদন সম্পাদকীয় কলম
BREAKING NEWS
অনুপ্রবেশকারী হটাও, গণতন্ত্র বাঁচাও’ স্লোগানে বারুইপুরে বিজেপির মেগা জনসভা! ৩০ অক্টোবর রবীন্দ্র ভবন ময়দানে বড় জমায়েতের প্রস্তুতি   •   বঙ্গ বিজেপির অন্দরে ক্ষোভের আগুন! সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ঘিরে বিতর্ক, পরাজিত প্রার্থীকে পাশে পেয়ে প্রশ্ন তুলছেন নিচুতলার কর্মীরা   •   মুরগি দিন, নতুবা দেড় হাজার টাকা ফেরত দিন! লক্ষ্মী মেলার উদ্বোধনে বিক্ষোভের মুখে বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা ভাঙ্গি   •   তৃণমূলের অন্দরে ফের রাজনৈতিক জল্পনা! ঋতব্রত-শিবির ছেড়ে কি মমতার দিকে ফিরছেন একাধিক বিধায়ক?   •   দুর্গাপুজো-লক্ষ্মীপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই ছট ও কালীপুজোর প্রস্তুতি, উৎসবের আবহে মাতোয়ারা বাংলা   •   কলকাতায় Theobroma-র এক্সক্লুসিভ প্রি-লঞ্চ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি সৌরসেনী মৈত্র! কী বললেন অভিনেত্রী?

তৃণমূলের অন্দরে ফের রাজনৈতিক জল্পনা! ঋতব্রত-শিবির ছেড়ে কি মমতার দিকে ফিরছেন একাধিক বিধায়ক?

29 Oct 2026
06:43 PM


নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক:  পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের আলোচনার কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী বলে পরিচিত কয়েকজন বিধায়কের অবস্থান ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁরা কি ধীরে ধীরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের দিকে ফিরছেন? সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উঠছে এই প্রশ্ন। যদিও এখনও পর্যন্ত এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

তৃণমূলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন নেতার অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হামিদুর রহমান, কাজল শেখ এবং মিনহাজুল আফরিন আজাদের নাম ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তাঁদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও আচরণকে ঘিরেই সামনে আসছে শিবির বদলের সম্ভাবনা নিয়ে নানা জল্পনা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই থাকার বার্তা মিনহাজুলের?

এই রাজনৈতিক সমীকরণে বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে মিনহাজুল আফরিন আজাদের বক্তব্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবে সই করলেও তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, কোনও প্রস্তাবে সই করা এবং রাজনৈতিকভাবে নির্দিষ্ট কোনও নেতার প্রতি আনুগত্য বজায় রাখা—দুটি বিষয়কে এক করে দেখা যায় না। ফলে মিনহাজুলের বক্তব্য থেকে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে কিছুটা ইঙ্গিত মিললেও, এর ভিত্তিতে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। তাঁর অবস্থান আগামী দিনে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

বিজয়ার মিষ্টি ঘিরেও রাজনৈতিক তাৎপর্যের খোঁজ

অন্যদিকে, কাজল শেখকে বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে বিজয়ার মিষ্টি নিতে দেখা যাওয়ার ঘটনাও আলোচনায় উঠে এসেছে। আপাতদৃষ্টিতে সৌজন্য বিনিময়ের এই মুহূর্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলের একাংশ নানা ব্যাখ্যা সামনে আনছে।

তবে রাজনৈতিক সৌজন্য এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও শিবিরে ফিরে যাওয়া এক বিষয় নয়। বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রকাশ থেকেই কোনও নেতার রাজনৈতিক অবস্থান বদলে গিয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। কাজল শেখের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে তাঁর পরবর্তী বক্তব্য এবং রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে।

শোভনদেবের বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত?

তৃণমূলের মমতাপন্থী শিবিরের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কাদের ফেরানো হবে আর কাদের হবে না, সেই সিদ্ধান্ত তাঁদের নেওয়া রয়েছে। তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে।

এই মন্তব্য থেকে অন্তত এটুকু স্পষ্ট যে, সংশ্লিষ্ট নেতাদের ফেরানো বা তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রশ্নটি রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে নয়। তবে কাদের ফেরানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া কী এবং সংশ্লিষ্ট নেতারা আদৌ ফিরে আসতে আগ্রহী কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে কি বদলের ইঙ্গিত?

রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং আনুগত্যের প্রশ্ন বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। কোনও নেতা প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার কথা বললে, অথবা দলের অন্য নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বাড়লে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে এই ধরনের ইঙ্গিতের রাজনৈতিক তাৎপর্য বুঝতে হলে আরও তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্পষ্ট বক্তব্যের প্রয়োজন রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হামিদুর রহমান, কাজল শেখ এবং মিনহাজুল আফরিন আজাদের অবস্থান নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন কোনও মোড় নেয় কি না, সেটাই দেখার। তাঁদের মধ্যে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে অবস্থান বদলের ঘোষণা করেন কি না, কিংবা দলীয় নেতৃত্বের তরফে কোনও স্পষ্ট বার্তা আসে কি না, তার উপরই নির্ভর করবে এই জল্পনার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি।

আপাতত জল্পনাই, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

সব মিলিয়ে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-পন্থী বলে পরিচিত কয়েকজন বিধায়কের অবস্থান নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। মিনহাজুল আফরিন আজাদের বক্তব্য, কাজল শেখের সঙ্গে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সৌজন্য বিনিময় এবং শোভনদেবের মন্তব্য—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।

তবে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিধায়ক আনুষ্ঠানিকভাবে ঋতব্রত-শিবির ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ফিরে এসেছেন, এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। তাই আপাতত বিষয়টিকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ বদলের সম্ভাবনা হিসেবেই দেখা যুক্তিযুক্ত। আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য এবং দলীয় নেতৃত্বের পদক্ষেপই স্পষ্ট করবে, এই জল্পনা বাস্তব রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে, নাকি তা সাময়িক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে।