Home ফ্যাক্ট ফাইল পঞ্চায়েতের পাঁচ কাহন পৌর বার্তা জেলার চালচিত্র চাষী ভাই বলছি শরীর স্বাস্থ্য জেলার সেনাপতি মাঠে ময়দানে সম্পাদকিয় কলম
BREAKING NEWS
আলিপুর উত্তীর্ণ সভাঘরে শ্রী অশোক সিঙ্ঘলের জন্মশতাব্দী উদযাপন, উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী   •   ১৫ বছরেই ইতিহাস! এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ সোনাজয়ী বৈভব সূর্যবংশী   •   ধানের শীষ হলুদ হলেই সতর্ক! ফলস স্মাটের লক্ষণ চিনে বীজ সংরক্ষণে কৃষকদের পরামর্শ   •   সব জাঙ্ক ফুড এক নয়, কোন খাবার শরীরের জন্য বেশি ক্ষতিকর? জানুন সতর্ক হওয়ার কারণ   •   স্বাস্থ্যগত বিভিন্ন সমস্যায় চিয়া সিডের বিভিন্ন কম্বো, কীভাবে খাবেন ও কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকবেন   •   বারাসাতে GRS কর্মীদের রাজ্য স্তরের সাধারণ সভা, পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা

জামডোমায় মহিলা কৃষকদের জন্য বৈদ্যুতিক ঢেঁকি ও প্রশিক্ষণ শিবির, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিতে জোর অগ্নিমিত্রা পালের

04 Oct 2026
10:58 AM

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভার জামডোমা গ্রামে মহিলা কৃষকদের সুবিধার্থে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মহিলা কৃষকদের হাতে বৈদ্যুতিক ঢেঁকি তুলে দেওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

মহিলা কৃষকদের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করা এবং তাঁদের কৃষিকাজে প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। দীর্ঘ সময় ও শ্রমসাপেক্ষ বিভিন্ন কাজকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজ করে মহিলা কৃষকদের উৎপাদনশীলতা এবং স্বনির্ভরতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে অগ্নিমিত্রা পাল মহিলা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিজ্ঞতার কথা শোনেন। কৃষিক্ষেত্রে মহিলাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে একদিকে যেমন শ্রম কমবে, অন্যদিকে কৃষকদের সময় ও খরচও সাশ্রয় হতে পারে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে মহিলা কৃষকদের হাতে বৈদ্যুতিক ঢেঁকি তুলে দেওয়াকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় ধান ভাঙানো ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কাজে এখনও বহু মহিলা শারীরিক পরিশ্রম করেন। বৈদ্যুতিক ঢেঁকির ব্যবহার সেই শ্রম অনেকটাই কমাতে পারে বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। একইসঙ্গে এর মাধ্যমে মহিলাদের আরও স্বনির্ভর করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

‘ড্রোন দিদি’র সহযোগিতায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ

এদিনের কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল কৃষিকাজে ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ। ‘ড্রোন দিদি’র সহযোগিতায় কীভাবে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিজমিতে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি তরল স্প্রে করা যায়, সেই বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বাড়ির উঠোনে থাকা নিমগাছের পাতা সংগ্রহ করে তা গুঁড়ো করার পর নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে তরল স্প্রে তৈরির প্রক্রিয়া সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই তরল ড্রোনের মাধ্যমে কৃষিজমিতে কীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তার ব্যবহারিক প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।

শুধু নিমপাতা নয়, গোবর ও গো-মূত্র থেকে তৈরি জীবামৃত-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান কৃষিকাজে ব্যবহারের বিষয়েও কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। ড্রোনের সাহায্যে এই ধরনের প্রস্তুত করা তরল কৃষিজমিতে সমানভাবে প্রয়োগ করার পদ্ধতি নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, কৃষিকাজে প্রযুক্তির ব্যবহারকে গ্রামের মানুষের কাছে সহজ ও ব্যবহারযোগ্য করে তোলাই এই প্রশিক্ষণ শিবিরের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে মহিলা কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে তাঁদের কৃষিকাজে আরও সক্রিয় ভূমিকা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পরিবেশবান্ধব কৃষির উপর জোর

এদিনের কর্মসূচিতে রাসায়নিক ব্যবহারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক কৃষিপদ্ধতি সম্পর্কে কৃষকদের সচেতন করার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিমপাতা, জীবামৃত-সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান কীভাবে কৃষিকাজে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতির প্রসার এবং কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানানো হয়। প্রযুক্তির সঙ্গে প্রাকৃতিক কৃষিপদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়ে কৃষিকাজকে আরও আধুনিক ও টেকসই করার বার্তা দেওয়া হয়।

অগ্নিমিত্রা পাল এই ধরনের উদ্যোগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কৃষিক্ষেত্রে মহিলাদের ক্ষমতায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে গ্রামীণ অর্থনীতিতেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ২০২৬-কে কেন্দ্র করে জামডোমার এই কর্মসূচি তাই শুধু একটি সরঞ্জাম বিতরণ বা প্রশিক্ষণ শিবিরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মহিলা কৃষকদের স্বনির্ভরতা, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির প্রসার—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে একাধিক উদ্যোগের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এদিনের কর্মসূচিতে স্থানীয় মহিলা কৃষকদের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের সঙ্গে যুক্ত কর্মী ও প্রশিক্ষকেরাও অংশ নেন। বৈদ্যুতিক ঢেঁকি ব্যবহার এবং ড্রোন প্রযুক্তির প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগামী দিনে মহিলা কৃষকদের কৃষিকাজ আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।