নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: ফলতা বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নমূলক একাধিক কর্মসূচিকে সামনে রেখে দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচিতে অংশ নিলেন ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা। তাঁর উদ্যোগে এবং পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক (সাংগঠনিক) অমিতাভ চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে হরিণডাঙা-সহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভানেত্রী সোমা ঘোষ, সাতগাছিয়া বিধানসভার বিধায়ক-সহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকেরা।
দিনের কর্মসূচির শুরুতেই হরিণডাঙা বিডিও অফিস চত্বরে মা আহার ক্যান্টিনের উদ্বোধন করা হয়। সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করার এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়। এরপর হরিণডাঙা মার্কেট কমপ্লেক্সের শিলান্যাস করা হয়। পাশাপাশি পুজোর আগে সাধারণ মানুষের হাতে উপহার তুলে দেওয়ার কর্মসূচিও নেওয়া হয়।
এরপর শ্যামসুন্দরপুর শ্মশানে ইলেকট্রিক চুল্লির উদ্বোধন করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের কাছে এই ধরনের পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা ছিল বলে দলীয় নেতৃত্বের দাবি। নতুন ইলেকট্রিক চুল্লি চালু হলে এলাকার মানুষকে দাহকার্যের ক্ষেত্রে আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দিনের কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সাংগঠনিক বৈঠক। বিধানসভা এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি কীভাবে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেই বিষয়েই দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন অমিতাভ চক্রবর্তী। বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডার সঙ্গে এই বৈঠকে মণ্ডল সভাপতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের সাংগঠনিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শেষপর্বে রামনগর তর্পণ ঘাটের উদ্বোধন করা হয়। ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাটের উন্নয়ন এলাকার মানুষের কাজে আসবে বলে দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এদিনের কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা ফলতাবাসীর পাশে থাকার বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্য, ফলতার মানুষের উন্নয়নই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতাকে একটি মডেল বিধানসভা হিসেবে গড়ে তোলার যে কথা দিয়েছেন, সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে যাবেন। তাঁর দাবি, আগামী দিনে ফলতার উন্নয়ন আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
দেবাংশু পণ্ডা আরও বলেন, মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য যথেষ্ট নয়, মাটিতে নেমে কাজ করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই উন্নয়নমূলক কর্মসূচির পাশাপাশি সংগঠনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিনের কর্মসূচিকে ঘিরে অতীতের রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গও উঠে আসে। দলীয় সূত্রের দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আগে শ্যামসুন্দরপুরে ইলেকট্রিক চুল্লি তৈরির বিষয়টি নিয়ে দেবাংশু পণ্ডাকে রাজনৈতিক চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল। তৃণমূলের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সেই সময়ে বিভিন্ন অভিযোগও উঠেছিল। তবে ওই অভিযোগগুলির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবর্তে এখন উন্নয়নমূলক কাজকে সামনে রেখে মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ইলেকট্রিক চুল্লির উদ্বোধন থেকে শুরু করে মা আহার ক্যান্টিন, মার্কেট কমপ্লেক্স, তর্পণ ঘাট—একাধিক প্রকল্পকে সেই পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
অন্যদিকে, অমিতাভ চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক বৈঠকটিও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিজেপি। কারণ শুধুমাত্র বিধানসভা এলাকায় উন্নয়নমূলক কর্মসূচি করলেই সংগঠন শক্তিশালী হয় না—বুথস্তর পর্যন্ত দলীয় কাঠামোকে সক্রিয় রাখা এবং কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই এদিনের বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
অমিতাভ চক্রবর্তীর বক্তব্যেও উন্নয়ন এবং সংগঠনকে পাশাপাশি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়। তাঁর বার্তা, মানুষের কাছে পৌঁছতে গেলে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে এবং উন্নয়নমূলক কাজকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। বিধানসভা এলাকায় ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে দলীয় সংগঠনকে আরও মজবুত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানানো হয়।
এদিনের কর্মসূচিতে ডায়মন্ড হারবার সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভানেত্রী সোমা ঘোষ, সাতগাছিয়া বিধানসভার বিধায়ক, বিভিন্ন মণ্ডলের সভাপতি, দলীয় পদাধিকারী এবং বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। ফলে উন্নয়নমূলক কর্মসূচির পাশাপাশি এটি বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হয়ে ওঠে।
ফলতায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন বিধায়ক হিসেবে দেবাংশু পণ্ডার সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হল মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা। উন্নয়নমূলক কাজ কতটা বাস্তব ফল দিচ্ছে এবং আগামী দিনে আরও কতগুলি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তার উপরই তাঁর প্রশাসনিক কাজের মূল্যায়ন নির্ভর করবে।
তবে মা আহার ক্যান্টিন থেকে শুরু করে মার্কেট কমপ্লেক্স, ইলেকট্রিক চুল্লি, তর্পণ ঘাট এবং সাংগঠনিক বৈঠক—একদিনে একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্টতই একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে: ফলতায় উন্নয়ন এবং সংগঠন—দুই ক্ষেত্রকেই একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন দলের লক্ষ্য।