নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: পালাবদলের পর রাজ্যস্তরে সাংগঠনিক রদবদল হয়েছে। এবার নজর জেলা স্তরের সংগঠনে। দলীয় সূত্রে দাবি, রাজ্যজুড়ে প্রায় ২৪ থেকে ২৫টি সাংগঠনিক জেলায় সভাপতি বদল হতে পারে। সেই সম্ভাব্য তালিকায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর সাংগঠনিক জেলার নামও ঘুরছে বলে দাবি দলীয় মহলের একাংশের।
জয়নগর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত সাতটি বিধানসভার মধ্যে গোসাবায় বিজেপি জয় পেয়েছে। আগামী দিনে পাশের বাসন্তী বিধানসভাকে সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে দেখছে বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ। আর সেই সূত্রেই জেলা সভাপতি পদে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাসন্তী কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সরদারের নাম নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
বিকাশ সরদারকে তাঁর অনুগামীদের একাংশ ‘বাসন্তীর বাঘ’ বলে উল্লেখ করেন। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জয় পাননি। এরপরও বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি এবং সমর্থকদের সক্রিয়তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তাঁর সমর্থকদের একাংশের দাবি, সংগঠনের ক্ষেত্রে বিকাশ সরদারকে সামনে আনা হলে বাসন্তীতে দল আরও শক্তিশালী হতে পারে।
তবে জেলা সভাপতি পদে তাঁর নাম নিয়ে দলের অন্দরেই ভিন্নমত রয়েছে বলে দাবি সূত্রের। এক রাজ্যস্তরের নেতৃত্ব, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায়, জানিয়েছেন—বিকাশ সরদারকে নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংগঠনের সাংগঠনিক মূল্যায়নের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সদ্য বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত একজন প্রার্থীকে জেলা সভাপতি করা হলে সাংগঠনিকভাবে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
বিকাশ সরদারকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা মন্তব্য এবং সমর্থকদের প্রচার নিয়েও দলের অন্দরে আলোচনা রয়েছে। কোথাও মিষ্টি বিতরণ, কোথাও তাঁকে ‘বাঘ’ হিসেবে তুলে ধরে প্রচার—এই ধরনের কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে দলের একাংশ আপত্তি তুলেছে বলেও সূত্রের দাবি।
অন্যদিকে, বিকাশ সরদারের বিরোধীদের একাংশ তাঁর ‘বাসন্তীর বাঘ’ পরিচয় নিয়েও কটাক্ষ করছেন। বাসন্তী এলাকায় গবাদি পশু ও গরু পাচার রুখতে প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে তাঁরা রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলছেন। যদিও এই ধরনের কটাক্ষের সঙ্গে বিকাশ সরদারের ব্যক্তিগত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই রাজ্যস্তরের নেতার দাবি, বিকাশ সরদারকে জেলা সভাপতি করা হলে দলের একাংশ অসন্তুষ্ট হতে পারে। এমনকি সংগঠনে ভাঙনের আশঙ্কার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়।
শেষ পর্যন্ত জয়নগর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদে কে বসবেন, তা রাজ্য নেতৃত্ব এবং দলের সাংগঠনিক কাঠামোই ঠিক করবে। ফলে বর্তমানে বিকাশ সরদারের নাম নিয়ে জল্পনা থাকলেও, তাঁকে জেলা সভাপতি করা হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এখন প্রশ্ন একটাই—‘বাসন্তীর বাঘ’ বিকাশ সরদার শেষ পর্যন্ত জয়নগর সাংগঠনিক জেলার কোনও গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পান কি না, নাকি সংগঠনের হিসাব-নিকাশে উঠে আসে অন্য কোনও নাম?