নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার বার্তা ডেস্ক: বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হলেন বাসন্তীর ভূমিপুত্র শ্রীরামকৃষ্ণ প্রামাণিক। রাজ্য কমিটিতে পুনরায় জায়গা পাওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং আগামী দিনের লক্ষ্য নিয়ে বক্তব্য রাখলেন তিনি।
শ্রীরামকৃষ্ণ প্রামাণিক জানান, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাত ধরে তিনি বিজেপিতে আসেননি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত শিবপ্রসাদ রায়ের লেখা বই, বিশেষ করে ‘হিন্দু সমাজ বিলোপের পথে’ বইটি পড়ে তিনি সংঘের আদর্শে অনুপ্রাণিত হন। এরপর ১৯৮৯ সালে বিজেপির সদস্যপদ গ্রহণ করেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমি কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে দলে আসিনি। সংঘের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই বিজেপিতে এসেছি।”
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণ প্রামাণিক জানান, ১৯৯২ সালে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করে তিনি পঞ্চায়েত মেম্বার হন। এরপর ২০০০ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অখণ্ড বাসন্তী মণ্ডলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অখণ্ড জেলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানান তিনি। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ছিলেন।
বর্তমানে তিনি রাজ্য কমিটির সদস্যের পাশাপাশি জেলার কোর কমিটি, বাসন্তী বিধানসভার কোর কমিটি এবং গোসাবা বিধানসভা কোর কমিটির সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন বলে জানান।
রাজ্য কমিটিতে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দলীয় নেতৃত্ব, কর্মী-সমর্থক এবং বাসন্তীর সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি আগামী দিনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা রাজ্যস্তরে তুলে ধরার কথাও জানান।
তবে সাংবাদিকদের সামনে দলের সাংগঠনিক নেতৃত্ব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন পোস্ট নিয়েও সতর্কবার্তা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সভাপতি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা বা স্বপ্ন কারও থাকতেই পারে, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের সভাপতি হিসেবে তুলে ধরে পোস্ট করা ঠিক নয়।
তিনি বলেন, “স্বপ্ন সবারই থাকে। কিন্তু তাই বলে কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় সভাপতি হিসেবে পোস্ট করতে পারেন না। দুর্নীতিমুক্ত জেলা গড়ার লক্ষ্যে আমাকে সভাপতি করা হোক—এই দাবি দলের নেতৃত্বের বিবেচনার বিষয়।”
শ্রীরামকৃষ্ণ প্রামাণিকের পুনরায় রাজ্য কমিটির সদস্য নির্বাচিত হওয়ার খবরকে ঘিরে বাসন্তীর দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা দিয়েছে। তাঁর দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাকে আগামী দিনে দল কীভাবে কাজে লাগায়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।